Tuesday , June 19 2018
Home / আন্তর্জাতিক / মানব জীবন বিপন্ন করা, আইন লঙ্ঘনকে বাংলাদেশ সরকার নিজেদের স্বভাবে পরিণত করছে -হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

মানব জীবন বিপন্ন করা, আইন লঙ্ঘনকে বাংলাদেশ সরকার নিজেদের স্বভাবে পরিণত করছে -হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ২০১৩ সাল থেকে অবৈধভাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ শত শত মানুষ আটকে রেখেছে। আদালতে পেশ করা ছাড়াই তাদের গোপন স্থানে গুম করে রাখা হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেককে আর ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না।বাংলাদেশে জোরপূর্বক এমন গুম-অপহরণ ও খুনের অভিযোগ তুলে বুধবার ৮২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক উঠিয়ে নেওয়া, গুম-অপহরণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারের মদদে বেপরোয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের বরাতে এইচআরডব্লিউ জানায়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সরকারি বাহিনী ৩২০ জনেরও বেশি মানুষকে ‘গুম’ করেছে। তাদের মধ্যে ৫০ জনকে হত্যা করেছে। আর ডজনের বেশি এখনো ‘নিখোঁজ’ বলে জানা যাচ্ছে। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আদর্শের নেতা-কর্মীদের গুম করা হচ্ছে। এইচআরডব্লিউ বলছে, বিগত বছরেই গুম হয়েছেন ৯০ জন। এদের মধ্যে ২১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নিখোঁজ আছেন ৯ জন। ৯০টি গুম-অপহরণের মধ্যে তিনটি হচ্ছে বিশিষ্ট বিরোধী রাজনীতিবিদদের তিন সন্তান। তাদের ২০১৬ এর আগস্টের কয়েক সপ্তাহে গুম করা হয়। ছয় মাস পর গোপন আটকাবস্থা থেকে তাদের মধ্যে একজন মুক্ত হন। এখনো অন্য দু’জনের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। ২০১৭ সালের প্রথম ৫ মাসেই ৪৮টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের গোপন আটকাবস্থায় কঠোর নির্যাতন ও বাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে আটকের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ১৯ নেতাকর্মী এখনো লাপাত্তা আছেন। আটটি পৃথক ঘটনায় ১৯ জনকে উঠিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনের পূর্বে ঢাকা ও তার আশপাশ থেকে তাদের তুলে নেওয়া হয়েছিল। আর ২০১৭ সালের প্রথম ৫ মাসে ৪৮টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে সুইডিশ রেডিওতে এক র‌্যাব কর্মকর্তার গোপন অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাকে বলতে শুনা যায় কিভাবে র‌্যাব ও গোয়েন্দাবাহিনী নিয়মিতভাবে মানুষদের তুলে নেয়, হত্যা করে এবং লাশ গুম করে দেয়।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া ডিরেক্টর ব্রাড এডামস অভিযোগ করেন, ‘এ ধরনের গুম-অপহরণের পর্যাপ্ত তথ্যাদি থাকতেও সরকার আইনের শাসনের প্রতি অশ্রদ্ধার ঘৃণ্য চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে। যেকোনো লোককে আটক করা, দোষী বা নির্দোষ প্রমাণ করা, শাস্তি দেওয়া, বেঁচে থাকার অধিকার থাকা না থাকার বিষয়ে যেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন ইচ্ছা তেমন করার স্বাধীনতা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘২০১৩ সালের পর থেকে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে শত শত ব্যক্তিকে আটক করে রেখেছে। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীসহ অনেককেই গোপনস্থলে আটক করে রাখা হয়েছে।’ ঘটনা তদন্তে এইচআরডব্লিউ ১০০ জনের সাাৎকার নিয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও প্রত্যদর্শীদের স্যা নেওয়া হয়েছে। সেসব বিষয়ে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উত্তর দিতে বলা হলে তারা এইচআরডব্লিউর চিঠির জবাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রত্যদর্শী ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, সেই ১৯ জনকে র‌্যাব বা পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি তুলে নিয়েছে। আরো নির্দিষ্ট করে বললে আটজনকে তুলে নিয়ে গিয়েছে র‌্যাব, ডিবি ৬ জনকে এবং বাকিরা অজানা নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক।

আদনান চৌধুরীকে তুলে নেওয়া হয়েছিল ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর। তার বাবা রুহুল আমিন চৌধুরী র‌্যাবকে বিশ্বাস করেছিলেন। র‌্যাব তার কাছে বলেছিল, ‘আমরা তাকে নিচ্ছি। আমরা ফেরত দিয়ে যাব।’ হতভাগ্য বাবা আপে করে বলেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’ ৪ ডিসেম্বর, ২০১৩-তে উঠিয়ে নেওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের কাছে গোপনে স্বীকার করেছে কিভাবে সেই স্থানীয় বিএনপি নেতাকে তুলে নিয়েছিল র‌্যাব। সুমনকেসহ ৬ জনকে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদেরকে হত্যা করতে অস্বীকৃতি জানানে অন্য র‌্যাব কর্মকর্তারা তাদের নিয়ে যান। সেই র‌্যাব কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন ছয়জনকেই মেরে ফেলা হয়েছে। ৬ জুলাই প্রকাশ করা সেই বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশকে আহ্বান জানায়, তারা যেন এই ব্যাপক জোরপূর্বক গুম-অপহরণ অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং অপহরণের বিভিন্ন অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপে তদন্ত করতে হবে। অপহৃত বা গুমকৃত সদস্যদের পরিবারের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এ রকম গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

About banglamail

Check Also

জণগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হলে সবার আগে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে আমাদের : দেশনায়ক তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক জনাব তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কি অবস্থা দেশের …

Leave a Reply