যৌতুক না দেওয়ায় গৃহবধূরর হাত ভেঙ্গে দিল স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ‘যৌতুক না দেওয়ায়’ এক গৃহবধূকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
আহত আঞ্জুয়ারা বেগম (৩১) আখানগর ইউনিয়নের হাজীপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী ও জেলা শহরের ফকিরপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তাকে শনিবার বেলা ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক শুভেন্দু কুমার দেবনাথ বলেন, “আঞ্জুয়ারার ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাথা কেটে যাওয়ায় চারটি শেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চি‎হ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসাধীন আঞ্জুয়ারা বলেন, বছরখানেক আগে তার বিয়ে হয়।
“প্রথম থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন প্রায়ই আমাকে মারধর করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫০ হাজার টাকা যৌতুক চাইলে স্বামীর সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়।”
টাকা দিতে না চাওয়ায় স্বামী, শ্বশুর জবান আলী, শাশুড়ি সবুরা বেগমসহ পরিবারের কয়েকজন তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটায় বলে তার অভিযোগ। ঘরের দরজা বন্ধ করে তারা আমাকে খাটের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।
আঞ্জুয়ারার বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, “মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় আব্দুস সাত্তারকে দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। তার পরও তারা প্রায়ই যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, “ঘটনা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Comments Us On Facebook: