বঙ্গবন্ধু গনতন্ত্র হত্যা করেনি, তার সময়ে ভিন্ন ধরনের গনতন্ত্র ছিলো ! – কাদের সিদ্দিকী

কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, জিয়াউর রহমান যদি বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্ম দেন, তাহলে বহুদলীয় গণতন্ত্র কে ধ্বংস করেছিল। জিয়াউর রহমানের আগে ক্ষমতায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাহলে কি তিনি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিলেন? এখানেই আমার আপত্তি।

সোমবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার মোহাম্মদপুরের নিজ বাড়িতে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী ।

তিনি বলেন,‘জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন এটা যদি বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে গণতন্ত্রটা ধ্বংস কে করেছিল। জিয়াউর রহমানের আগে ক্ষমতায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাহলে তিনি কি গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিলেন? এখানেই আমার আপত্তি। গণতন্ত্র আগেও ছিল, এখনও আছে, আগামীতেও থাকবে।’

গণতন্ত্র মাঝে-মাঝে তার রূপ বদল করেছে

কাদের সিদ্দিকী বলেন,‘‘যদিও গণতন্ত্র মাঝে-মাঝে তার রূপ বদল করেছে। আইয়ুব খানের সময় এক ধরনের গণতন্ত্র ছিল। জিয়াউর রহমানের সময় খাল কাটা গণতন্ত্র ছিল। এখন ভোট ছাড়া গণতন্ত্র। সেই জন্যই আমি আপত্তি করেছি। আমরা আলোচনা বর্জন করেছি। কারণ, ইসি একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। সামনে এ নির্বাচন কমিশনারদের অধীনে নির্বাচন হবে। সেখানে রেফারি যদি কোনও পক্ষ নেন, তাহলে অন্য দলগুলো পক্ষপাতিত্বের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করতে পারে না। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন’-এটা কি আপনার কথা, নাকি তাদের দলের কথা। আপনি সব নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে এটা বলেছিলেন, নাকি আপনার (নূরুল হুদা) একক কথা ছিল। তিনি অবলীলায় বলেছেন, তার একক বিবেচনা থেকে এটা বলেছেন। তাহলে তিনি নিশ্চয়ই বিশ্বাস করেন- জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।’’

জিয়া প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা। অনেকে তার মুক্তিযোদ্ধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, এতে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। যেভাবেই হোক,পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কিন্তু তিনি যদি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃ প্রতিষ্ঠাতা করেন, তাহলে কোনও না কোনও সময়ে এদেশে গণতন্ত্র ছিল না, বা বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল না। এ প্রশ্নটা এসে যায়। জিয়াউর রহমান যদি বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্ম দেন, তাহলে বহুদলীয় গণতন্ত্র কেউ ধ্বংস করেছিলেন। সেই গণতন্ত্র কে ধ্বংস করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন,তাদের অনেকে তাকে (জিয়াউর রহমানকে) বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী বলার চেষ্টা করেন। আমার এতে আপত্তি আছে। এ জন্য আপত্তি যে, তিনি যদি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকেন, তাহলে এতদিনেও কেন তার নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে, তাকে হত্যাকারী বলতেন। এতে আমার কোনও অভিযোগ থাকতো না। তাকে যদি হত্যার সহযোগিতাকারী বলতেন, তাতেও আমার কিছুই বলার থাকতো না।’

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বড় বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমান

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ হত্যাকারীদের অনেক কথা আজকে বিশ্বজুড়ে আলোচিত। সেসব কথায় বলা হচ্ছে, প্রত্যক্ষ হত্যাকারীদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার আগে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। জিয়াউর রহমান তাদের (হত্যাকারীদের)কী উত্তর দিয়েছেন, তাও অনেকের জানা। যদি সেই উত্তরে তিনি হত্যাকারী অথবা হত্যার সঙ্গে জড়িত হন, তাহলে কেন তাকে আসামি করা হলো না। এখন যদি বিএনপির মহাসচিব ময়লার গাড়ি ভাঙার অপরাধে মামলার আসামি হতে পারেন, খালেদা জিয়া কুমিল্লায় বোমা হামলার হুকুম দেওয়ার আসামি হতে পারেন, তাহলে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যে ধরনের আলোচনা হয়েছিল, সেসব কথার কারণে কেন তাকে আসামি করা যায় না? যদি আসামি করা যায়, তাহলে জিয়াউর রহমানকে আসামি করা উচিত ছিল। আর যদি আসামি করা না যায়, তাহলে তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জড়িত এটা বলার কোনও মানে হয় না। এটা খুবই সত্য যে, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর বড় বেনিফিশিয়ারি জিয়াউর রহমান। ’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার নূরুল হুদা একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তাব্যক্তি। তার মুখে এ ধরনের কথা শোভা পায় না। তাই আমরা তার পদত্যাগ দাবি করেছি। এটা যদি সাধারণ কোনও ব্যক্তি বলতেন, তাহলে আমার কোনও আপত্তি থাকতো না।’

বাংলাদেশে এখন প্রকৃত গণতন্ত্র নেই

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা পদত্যাগ না করলে,তিনি এ কমিশনের অধীনে নির্বাচনে যাবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আমরা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছি। আমাদের দেশে এখন ঘোড়ার পেছনে গাড়ি চলে না। অনেক সময় ঘোড়ার আগে গাড়ি চলে। এটা শুদ্ধও না, বিশুদ্ধও না। ঘোড়ার আগে গাড়ি চললে সেই গাড়ি ঠিক মতো চলে না। একজন মানুষের একটি মন্তব্যের পর আমাদের দলীয় নেতারা আলোচনা বর্জন করেছি। আমরা নির্বাচনে যাবো কী যাবো না, সেটা নিয়ে তো আলোচনা হবে। সেটা তো সময়ের ব্যাপার। বাংলাদেশে এখন প্রকৃত গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের নাম আছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত হয় না। আওয়ামী লীগ চলে আমার বোন শেখ হাসিনার হুকুমে। বিএনপি চলে খালেদা জিয়ার নির্দেশে। আমরা এর একটু পরিবর্তন চাই। সুতরাং, এ প্রশ্নের উত্তর সঠিক সময়ে পাবেন। এখনও সময় হয় নাই। ’

Comments Us On Facebook: