Wednesday , June 20 2018
Home / ক্যাম্পাস নিউজ / মেধাবীদের চারণভূমি ঢাবি কার্জন হলের ম্যানহোল ভর্তি ফেন্সিডিলের খালি বোতল !

মেধাবীদের চারণভূমি ঢাবি কার্জন হলের ম্যানহোল ভর্তি ফেন্সিডিলের খালি বোতল !

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে সেখানেই পাওয়া যাচ্ছে ফেন্সিডিলের বোতল, গাজার গন্ধ এবং ইঞ্জেকশন। ক্যাম্পাসে রাস্তায় দাঁড়িয়েই মাদক সেবন করতে দেখা যায় রিক্সাওয়ালাদের। বিভিন্ন হলের কক্ষেও চলে গাজা ও ইয়াবা সেবন। তারমধ্যে জহুরুল হক হল ও মুহসিন হলের নাম আসে সবার আগে। নানা ধরনের মাদক দ্রব্য সেবন আর বিক্রির কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাতে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করা হলেও থেমে নেই মাদকের কারবার। আগে সন্ধ্যার পর উদ্যানের ভেতরে মাদকের আসর বসলেও এখন ফুটপাতেই বসছে আসর বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে ঘুরে এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সন্ধ্যা হলেই চারুকলা থেকে টিএসসির মোড় হয়ে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত উদ্যান ঘেঁষা ফুটপাতে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়। রাত বাড়তে থাকলে জমতে থাকে আসর। তবে এ নিয়ে খুব একটা মাথাব্যাথা নেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের। তবে রমজান মাসে এই দৃশ্য একটু কম দেখা যাচ্ছে।

সকাল হলেই টিএসসির সবুজ চত্বর ও এর বাইরে মদের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকটি সংগঠনের কক্ষেও মাদক সেবন চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’এর এর গ্যারেজ, আইন অনুষদের সামনে, ক্যাম্পাস স্যাডোর আশেপাশে ফেন্সিডিলের বোতল অহরহ দেখা যায়। লেকচার থিয়েটার ভবনের আশে-পাশে ও দোতলা-তিন তলায়ও এসব দেখা যায়। চারুকলা অনুষদের ভিতরে গাজা সেবন যেন কোন বিষয়ই না।

লেকচার থিয়েটার, কলাভবনসহ বিভিন্ন অনুষদের বাথরুমের নষ্ট ফ্লাশবক্সের ভেতরেও দেখা যায় ফেন্সিডিলের বোতল, ইঞ্জেকশন এবং ব্যবহার করা কনডম। সন্ধায় পর শ্যাডো এলাকায় আলো না থাকায় যৌন উন্মাদনায় মেতে উঠে অনেকেই। তবে এদের অধিকাংশই বহিরাগত।

ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদি হাসান লিখেছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ছবির হাট, শিখা চিরন্তনের কথা মনে পড়লে মনের মধ্যে লাফ মেরে উঠে। ওখান দিয়ে যাতায়াতের সময় দেখতাম প্রকাশ্যে, দিবালোকে, রাতের আঁধারে মাদক সেবন। অথচ এর পাশেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদ, কবি নজরুলের কবর, শাহবাগ থানা।নিকটবর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যদি মাদক চোরাচালান এবং প্রকাশ্যে মাদক সেবন চলে তাহলে কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে? প্রশাসনকে অনুরোধ করি, চিরদিনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাদক নির্মূল করুন

তবে এখন ছবির হাটের দৃশ্য বদলেছে এবং উদ্যানে সন্ধ্যার পর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাতে কেউ উদ্যানের ভেতর প্রবেশ করতে পারে না। তবে দুই একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিলে তাদের আটকানো যায় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ফুটপাতে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা ও সেবনের বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভাব রয়েছে।’

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এখন যেহেতু মাদক বিরোধী যুদ্ধ চলছে তাই ঢাবি প্রশাসনের উচিত প্রতি হলে পুলিশ এনে এবং ডগ স্কোয়াড ডেকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে মাদকমুক্ত করা। তারপর রেড এলারট জারি করা যে ধরা খেলেই আজীবন বহিষ্কার। আর ক্যাম্পাসে এসে নিরাপদ জায়গা মনে করে সবচেয়ে বেশি মাদক সেবন করে বহিরাগতরা। তাই বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে হবে।

এদিকে, ঢাবির ভবনের দিতরে ধুমপান নিষেধ করা হলেও তা মানছেন না শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ শিক্ষককরাও।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমরা মাদকের আসর বন্ধ করতে ক্যাম্পাসে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদকসেবীদের আটক করি। কিন্তু সুযোগ পেলে তারা আবারও বসে। কারণ মাদকের সহজলভ্যতা। তাই আগে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে।’

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ‘মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর মাদকের আসর বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে ব্যস্থতার কারণে অভিযান বন্ধ থাকলে ওইদিন আবারও আসর বসে। তবে আমরা এ বিষয়েও সতর্ক আছি।’

এদিকে, ঢাবির বট তলা, আম তলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও বিজ্ঞান লাইব্রেরি এলাকা এবং কার্জন হল এলাকায় সন্ধ্যা হলে আপত্তিকর দৃশ্য দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর আলোর কোন ব্যবস্থা নাই। আর তাই আলো না থাকায় অশ্লীলতা চলছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এসব জায়গায় বহিরাগতই থাকে বেশি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলছেন, এসব জায়গায় লাইট ছিল কিন্তু এখন কিছু লাইট নষ্ট আছে। শীগ্রই এসব এলাকায় লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

About banglamail

Check Also

ছাত্রলীগের অনুমতি ছাড়া জিডি নেয়া যাবেনা – শাহবাগ থানার ওসি (ভিডিওসহ​)

আওয়ামীদের আজ্ঞাবহ পুলিশ উপরের হুকুম ছাড়া একটি জিডিও নিতে পারেনা! জিডি নিয়ে শাহবাগ থানার ওসি’র …