Wednesday , June 20 2018
Home / ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে / এ কেমন ওড়না দেয়া ?

এ কেমন ওড়না দেয়া ?

ইফতারের আগে হুজুরদের সাথে দোয়া করতে গিয়ে দুই পাশের দুই বাচ্চা মেয়ের সাথে শেয়ার করে ওড়না মাথায় দেয়ার ছবিটি আমাকে আলোড়িত করেছে। আমার মতে, এই ছবিতে বাংলাদেশের চলমান আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের ধারায় ধর্মের অবস্থানের একটি গভীর নিশানা রয়েছে।

আমরা জানি, মোছাবাঙালিরা বিভিন্ন সময়ে মাথায় ওড়না টেনে দেয়। যেমন আযান হলে, অথবা ইফতারের সময়, অথবা কোন অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের সময়, অথবা হুজুর যখন দোয়া করতে শুরু করেন তখন। এই সাময়িক ওড়নার মাধ্যমে তারা তাদের আইডেন্টিটি প্রকাশ করেন। একজন মুসলমান হিসেবে এটা আমার কাছে ভালো লাগে আলহামদুলিল্লাহ।

তবে আমি এই নাতিদীর্ঘ তিন দশকেরও সামান্য বেশি জীবদ্দশায় কাউকে কোনদিন ওড়না শেয়ার করতে দেখি নাই। আজ বিষয়টা দেখার পর এর কারণ ভাবতে শুরু করলাম। বিস্তারিত ভেবেচিন্তে আমার মনে হয়েছে, শেয়ার করার মাধ্যমে শেয়ারকারী মধ্যবর্তী আধুনিক নারীটি বুঝাতে চেয়েছেন তার আইডেন্টিটি অর্থ্যাৎ মুসলমানিত্ব একটু হালকা। অর্থ্যাৎ, একজন যখন একটা ওড়না একা মাথায় দেয় তখন সে যতটুকু মুসলমান হলো, এখানে অন্য দুইজনের সাথে শেয়ার করার ফলে তিনি তার এক তৃতীয়াংশ মুসলমান হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেন আর কি।

মানে তিনি অনেক বেশি প্রগতিশীল ও আধুনিক, তবে যেহেতু ইফতারের সময় কি আর করা, হুজুররাও উপস্থিত আছে দোয়া করতেছে, এদিকে আবার একশত পার্সেন্ট মুসলমান হলে প্রগতিশীলতায় সমস্যা হচ্ছে, যাইহোক সবকূল রক্ষা হলো এখন শেয়ার করার মাধ্যমে একদম কাফের না হয়ে তেত্রিশ পার্সেন্ট মুসলমান হলাম। খোদাতায়ালার ফজলে এই ব্যাখ্যা যদি সঠিক হয় তাহলে তাও আমি একজন মুসলমান হিসেবে খুশি আছি। এটা আমাদের জন্য একটি আনন্দের বিষয়। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।

আপনারা জানেন চিন্তাভাবনা হলো বড় গাছের মতো, এদিক সেদিক ডালপালা ছড়ায়। সুতরাং বিষয়টা নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পুরক ভাবনাও আমাকে আলোড়িত করেছে। ওড়না স্থান ও সময়বিশেষে মুসলমানিত্বের পরিচয় নির্দেশ করে, কিন্তু লঙ্গি মোটামুুটিভাবে সর্বাবস্থাতেই বাঙালিত্বের পরিচয় নির্দেশ করে। একজন রাজাকার হিসেবে আমি নিজেকে হান্ড্রেড পার্সেন্ট খাঁটি রাবিন্দ্রিক বাঙালি মনে করি না, শাহবাগ প্রবর্তিত বাঙাল ধর্মের অনুসরণের তো প্রশ্নই আসে না। আবার অন্যদিকে বাংলা আমার প্রাণের ভাষা এবং বাঙালিয়ানার অনেকগুলো গুণাগুণ নিয়েই আমি একজন মোবাঙালি মানুষ। একটু হালকা বাঙালি যদিও।

এমতাবস্থায় এই ওড়না শেয়ার করার ঘটনাটি আমার জন্য একটি সংকটমুক্তির সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে। আমি আমার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার জন্য আরো দুই তিন জন, এমন কি চার পাঁচ জন হলেও সমস্যা নাই যেহেতু আমাদের বাঙালিয়ানাতে খাদ অনেক বেশি, এভাবে অন্যান্য আংশিক বাঙালিদের সাথে আমার লুঙ্গি শেয়ার করতে পারবো বলে আশাবাদী হচ্ছি। শেষ কবে লুঙ্গি পড়েছিলাম মনে নেই। আরামদায়ক এ পোষাকটি এ উপায়ে আবারও পড়তে পারবো এটা ভাবতেই অনেক ভালো লাগতেছে।

Aman Abduhu

About banglamail

Check Also

পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়া র‍্যাব-পুলিশের জন্য নতুন কিছুনা

গত ১৮ দিনে ৩৮ খুন করেছে র‍্যাব। সারা পৃথিবীতে ফিলিস্তিন ছাড়া আর কোথাও এত খুন …