Monday , May 21 2018
Home / জাতীয় / একটি মানবিক আবেদন।।। আসুন ভালোবেসে হাত বাড়াই…

একটি মানবিক আবেদন।।। আসুন ভালোবেসে হাত বাড়াই…

একটি মানবিক আবেদন।।। আসুন ভালোবেসে হাত বাড়াই…

রমজান মাস আসছে। তাই ৩০ জন বৃদ্ধ ও ১৬৯ জন এতিম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে শিশু সদনের পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার। রমজান মাসের জন্য তাদের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা নেই।

কিন্তু রমজান মাসকে সামনে রেখে বৃদ্ধ ও এতিমদের জন্য সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসেনি কেউ? তবে পরিচালক বিভিন্ন জায়গা থেকে যৎসামান্য সহযোগিতা নিয়ে প্রতিদিনের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।

তবে রমজান মাসের খাবার ও পোশাকের জন্য পরিচালক পড়েছেন বেকায়দায়। তাই বৃত্তবানদের কাছে রমজান মাসের খাদ্য ও পোশাকসহ আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিচালক।

রাজশাহী শহর থেকে ৫২ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীরঘেঁষে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের সরেরহাট গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার পূর্বে এই গ্রামে ৫২ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠেছে ছোট একটি এতিমখানা। নাম দেয়া হয়েছে সরেরহাট কল্যাণী শিশু সদন।

বর্তমানে এতিমখানায় বৃদ্ধের সংখ্যা ৩০ জন ও এতিমের সংখ্যা ১৬৯ জন। এতিমদের মধ্যে ছেলে ১১৮ জন ও মেয়ে ৫১ জন। এই সব বৃদ্ধ ও এতিমরা কেউই তার নিজের নয়।

৩২ বছরে পৈতৃক ১৭ বিঘা জমি বিক্রয় করে তাদের রক্ষা করে চলেছেন। এতে দেশের মানুষের ভালবাসা ছাড়া কি-ই-বা পেয়েছেন। পেয়েছে কেবল একটি খেতাব “সাদা মনের মানুষ” তাতে তো আর বৃদ্ধ ও এতিমদের পেট ভরে না।

কিন্তু তাদের পোশাক ও আর্থিক অভাবে বেকায়দার রয়েছে বৃদ্ধ ও এতিমদের নিয়ে। তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন করেন বৃদ্ধ ও এতিমদের বাঁচানোর জন্য।

এতিমখানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার প্রথমে স্ত্রী মেহেরুন্নেসার মোহরানা বাবদ অর্থে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করে চালু করেন এতিমখানা। আয় বলতে মেহেরুন্নেসার সেলায় ও শমেস ডাক্তারের চিকিৎসা থেকে আসা কিছু অর্থ।

বৃদ্ধ ও এতিমদের রক্ষার্থে আশ্রয়হীনদের ব্যবস্থা করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়ির ভিটা বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে গৃহহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন পল্লী চিকিৎসক পরিবারটি।

থাকার জায়গা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এতিমখানায় উঠে আসেন মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার। স্ত্রী মেহেরুন্নেসা শিশুদের দেখাশোনা ও তাদের জন্য রান্না করেন তিন বেলা। এখন মেহেরুন্নেসা সেখানকার একজন সেবিকা। বিনিময়ে দুটো খেতে পান মাত্র।

বর্তমানে এতিমখানায় বৃদ্ধ ও এতিমদের নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সবাই এক সঙ্গে দিনরাত কাটান।

এতিমখানার পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সরকার শমেস ডাক্তার বলেন, নিজের স্ত্রীর, ছেলেমেয়ের, সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে যে, সহযোগিতা পায়, তা দিয়ে ছয় মাস চলে। আর ছয় মাস বিভিন্ন দোকানে বাকি রাখতে হয়। বছর শেষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণের মধ্যে থাকতে হয়।

তিনি বলেন, সরকার ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতা পেলে অন্তত এই ঋণ থেকে মুক্তি পেতাম।

খবর: যুগান্তর।

#Saeed_Khan

About saeed.khan

Check Also

বঙ্গবন্ধুর প্রস্থান, দেশবাসীর আনন্দ উদযাপন !

মহাকাশের পথে পাড়ি জমাল বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। শুক্রবার (১১ মে) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত …