Monday , July 16 2018
Home / অর্থনীতি / প্রতিবছর ৩২হাজার কোটি টাকা ভারতের চাকুরীজীবীরা এই দেশ থেকে অবৈধভাবে নিয়ে যায়। নীলসালু

প্রতিবছর ৩২হাজার কোটি টাকা ভারতের চাকুরীজীবীরা এই দেশ থেকে অবৈধভাবে নিয়ে যায়। নীলসালু

প্রতি বছর ৩২ হাজার কোটি টাকা ভারতের চাকুরীজীবীরা অবৈধভাবে এদেশ থেকে নিয়ে যায়!অথচ আমাদের প্রায় ৫ কোটি শিক্ষিত বেকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, চাকুরী পায় না!কি সেলুকাস!সার্কভুক্ত ৬ দেশের প্রায় ১৪ লাখেরও বেশি নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাজ করে।এদের মধ্য ১২ লাখ-ই ভারতীয়, তাদের অধিকাংশের বেতন ৫০ হাজার টাকার উপরে। আবার অনেকের বেতন ৫ লাখেরও বেশি।অথচ এদেশের মেধাবীদের দশ হাজার টাকা দিয়েও গাধার মত পরিশ্রম করিয়ে নেয়া হয়।আরো আছে…এরা আবার কেউই কর দেয়না আমাদেরকে….কোটি টাকা বিদেশে পাচার করলেও NBR নামক এক আজব প্রতিষ্ঠান আছে তারা সারা দেশে চিরুনি অভিযান চালিয়েও নাকি এদের খোঁজ পায় না!এদের অভিযানে অবৈধ বিদেশীরা কেনো জালে আটকায় না, তার সম্ভব্য কারণ আপনারাই বলুন।এদেরকে যদি জাতীয় ডাটাবেজের আওতায় আনা যেত তাহলে এত মোটা অংকের টাকা দেশের বাইরে যেত না।কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় হতে আমরা বঞ্চিত হতাম না। আমাদের ডাটাবেজ ১ মাসে ৮ লক্ষ রোহিঙ্গাকে কাভার করতে পারে, অথচ এদের পারে না!How bogus!এই বোগাস পিপল গুলো দেশ থেকে কোটি টাকা পাচার করবে, আর সেই টাকার ঘাটতি পূরণে আমাদের অর্থমন্ত্রী বিশাল পেটওয়ালা বাজেট এনে আপনার মাথায় ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দিবে!দারুন না ব্যাপারটা??!!একটা স্বজনশীল প্রশ্ন আপনাদের জন্যঃ- বছরে ৩২ হাজার কোটি টাকা যদি বন্ধুরা চুরি করে নিয়ে যায়, তবে ১টি পদ্মাসেতুর মোট ব্যয় কত?(উত্তরটা কমেন্টে দিয়েন, পুরষ্কার পাবেন)সেদিন আমাদের অমায়িক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে খুব গর্ব করে বললেন, “আমাদের দেশে প্রায় ৮৬ হাজার (!) বিদেশী নাগরিক কাজ করে, এদের অর্ধেক ভারতীয়”হ্যাঁ, আসলেই তো সত্যি, আমাদের দেশের প্রায় সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বড় বড় পদেই বসে আছে বিদেশীরা। এদের বেশিরভাগ-ই আবার ভারতীয়।ভাবসাব এমন, যেন এদেশ স্বাধীন করা হয়েছে ভারতীয়দের চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে। আর এদেশের তরুণরা মরুক গলুক তাতে কারো যায় আসে না।৬ মোবাইল কোম্পানিতেই উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে আছে প্রায় ৯ হাজার বিদেশী!টেকনোলজি পজিশন দখল করে রেখেছে প্রায় লক্ষাধিক বিদেশী!একাউন্টেন্ট-এইচআর-মার্কেটিং এগুলোতেও দেখি ইন্ডিয়ান লোক দিয়ে ভরা!আমার প্রশ্ন হলো- আমাদের অদম্য মেধাবীরা কি তাইলে কিছুই পারে না?!এদেশ যদি মেধাবীদের জন্ম দিতে না পারে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বন্ধ করে সরাইখানা বানানো হচ্ছেনা কেনো?আসলেই কি আমাদের তরুণরা কিছু পারেনা?নাসাতে প্রায় ৫০ জনের বাংলাদেশি টিম প্রমাণ করে ট্যালেন্ট আমাদেরও আছে। মাহমুদা এবং আবেদ আজিমদের জন্য বাংলাদেশের পতাকা আজ সুউচ্চে।‘আই অ্যাম দ্য কার ডিজাইনার, আই গ্রো আপ ইন বাংলাদেশ।’ জনপ্রিয় চ্যানেল হিস্টরিতে একটি গাড়ি বিষয়ক শো-এর ‘প্রমো’র শুরুটা এভাবেই।দেখতে দেখতে আপনার চোখ আটকাতেই পারে। নড়েচড়ে বসে আবার শোনার চেষ্টা করতেই পারেন। কিন্তু হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।এটা আমাদেরই নিজামউদ্দিন আউলিয়া লিপু। এদেশে ভালো কিছু করার প্রত্যয় নিয়ে থাকলেও সুযোগের অভাবে পারেন নি। এখন তিনি পশ্চিমা গাড়ির জগতে পরিচিত এক মুখ।অথচ, তার হাত দিয়ে এদেশের অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রির বুম করার কথা ছিলো।বাংলাদেশি সফ্টওয়্যার প্রকৌশলী জাহিদ সবুর। গুগল প্লাস উদ্বোধনের তিন সপ্তাহের ভিতর দুই কোটি গ্রাহক বানিয়ে রীতিমত ফেইসবুকের চোখে অন্ধকার দেখিয়েছিলো। সেই টিমের লিডার ছিলো আমাদেরই জাহিদ।৭০ ভাগেরও বেশি বুয়েটিয়ান কিংবা ঢাবিয়ান বাইরে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে তারাও যোগ্য, শুধু একটু জায়গা দরকার।তবে কি এদেশের তরুণদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মিথ্যা?আলবৎ মিথ্যা। তারাই যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যারা চায়না তরুণরা ইন্ডিয়ানদের হঁটিয়ে বড় পজিশন গুলো দখল করুক।অন্যান্য দেশে তারা নিজেদের মেধাবীদের কর্মসংস্থান করার পরে বিদেশীদের কাজ দেয়, আর আমাদের বেলায়হয়েছে তার উল্টো!বাংলাদেশ ব্যাংকের মত একটা সেনসিটিভ জায়গায় পর্যন্ত ইন্ডিয়ানদের বসিয়ে রেখেছি, যার ফল এখনো ভুগতে হচ্ছে জাতিকে।আমি ভাবছি এই পোস্ট দেখার পর যে ছেলেটা গ্রাজুয়েশন শেষ করেও কোনো চাকুরী না পেয়ে পান দোকান নিয়েবসেছে, তার মনের অবস্থা কি হবে!?তার কি একটি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টেন্ট হবার মত যোগ্যতা নেই!?কিংবা, যে মেয়েটি সদ্য টেক্সটাইল/ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করে বের হলো, সে-ই বা কি ভাববে এই পোস্টদেখে!অথবা, টেকনোলজি নিয়ে পড়াশুনা করা ছেলেটা এই পোস্ট দেখে কি একটুও আশাহত হবে না???বছরের শুরুতে বই আর বছরের শেষ প্রশ্ন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছে দিয়ে পত্রিকায় নিউজ করে সারা দেশে “অদম্য মেধাবী” এক প্রজন্ম তৈরি করতে পারলেই কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ?আমরা যদি যোগ্য না হই তবে রাষ্ট্র কেনো পদক্ষেপ নিচ্ছেনা আমাদের যোগ্য বানানোর?জন্ম থেকে নিশ্চয়ই তারাও গুগলের সিইও হিসেবে জন্ম নেয়নি?পাশের দেশে গিয়ে আমাদের কয়টা মেধাবী চাকুরী করতে পারে??পাশের দেশে আমাদের নাগরিকদের মূল্যায়ন কতখানি হয়?কয়েক বছর আগে রাজস্থান-জয়পুর ট্যুরে গিয়ে বাংলাদেশী পরিচয় দেওয়ায় হোটেল না পেয়ে ২ ঘন্টা রাস্তায়দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশের কাছে হেল্প চাওয়ার পর সে আমার সবুজ পাসপোর্টটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলো।উপরের প্রশ্ন গুলোর উত্তরের জন্য বোধহয় আর আইনস্টাইন হওয়া লাগবেনা…তাইতো জনৈক ব্যক্তি বলেছেন-বেঁচে থাকুক বন্ধুত্ব, কোটি বেকারের চোখের পানিতে…..

About jasimuddincox100

Check Also

ইসলামিক শব্দের আধিক্য বাংলা ভাষার জন্য হুমকিস্বরুপ – সুপ্রিতি ধার

নিজেদের বংশ পরম্পরায় বাঙালী দাবি করাদের পুরা নিউজফিড জুড়ে কেবলই আরবি ভাষার ছড়াছড়ি। সবার টাইমলাইমে। …