Thursday , April 26 2018
Home / মুক্তমত / যে শাহবাগে বলতো “তুই রাজাকার​” , সেই শাহবাগেই ছাত্ররা বলছে ” মুই রাজাকার” !

যে শাহবাগে বলতো “তুই রাজাকার​” , সেই শাহবাগেই ছাত্ররা বলছে ” মুই রাজাকার” !

মুক্তিযুদ্ধ কোনো স্পর্শকাতর বিষয় নয়। পাকিস্তান আমলে ন্যায্য কথা বললেই ইসলাম বিরোধী,ভারতের দালাল হিসেবে চিহিৃত করা হতো। আর আজ কিছু বলা হলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী,রাজাকার বলা হয়। এই চিন্তা থেকে অবশ্যই আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান,তা নিয়ে কারও আপত্তি আছে বলে মনে হয় না। আপত্তিটা হচ্ছে কোটা নিয়ে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ কোটাসহ সব কোটার সংস্কার নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। পাকিস্তানিরা মনে করতো তারাই মূলত ইসলামের মূল ধারক-বাহক। তারাই পাকিস্তান সৃষ্টি করেছিল। তাই ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তানে শাসন করার অধিকার কেবল তাদের আছে। পাকিস্তানিদের এই চিন্তা থেকেই তারা রাজনীতি,অর্থনীতি, সরকারি চাকরি,সামরিক বাহিনী সব জায়গায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের বঞ্চিত করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা। স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ধর্মের নামে পাকিস্তানিদের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধারাও জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছিল,এই পাকিস্তানি এলিট চেতনার বিরুদ্ধে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ ও অন্য কোটার নামে সেই বৈষম্য বজায় রয়েছে। আজ যারা আন্দোলন করছে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সেই বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকেই এগিয়ে নিতে চাইছে। যে কাজ ছাত্র সংগঠনগুলোর করার কথা ছিল। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়ে ওঠা ছাত্রলীগের করার কথা ছিল। সেই কাজ আজ সাধারণ ছাত্ররা করছে। সাধারণ ছাত্রদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন গড়ে ওঠায় এই দেশের ছাত্র রাজনীতির দেউলিয়াত্ব প্রকাশিত হয়েছে।

ছাত্রনেতারা যদি মনে করে টুঙ্গিপাড়ার সাধারণ পরিবারের সন্তান শেখ মুজিব এমনি এমনি বঙ্গবন্ধুতে পরিণত হয়েছিলেন। তাহলে তারা ভুল করবেন। বঙ্গবন্ধু সব সময় সাধারণ ছাত্রদের,সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকারের কথা বলতেন বলেই এক সময় শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতির পিতা হয়ে উঠেছিলেন।

আজ ছাত্ররাজনীতির নাম ভোগ বিলাসে মেতে ওঠা ছাত্রনেতাদেরা যতই শেখ মুজিবের আদর্শ ধারণ করেছেন বলুক না কেন, তাদের এই জনবিছিন্নতা প্রমাণ করছে যে, তারা প্রকৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিনিধিত্ব করতে পারছেন না। তাদের এই ব্যর্থতাকে ঢাকতে তারা সরকারকে বিভ্রান্ত করছে। লক্ষ কোটি সাধারণ ছাত্রদের জামায়াত-শিবির,স্বাধীনতা চক্র বিরোধী বলে অভিহিত করছে।

নির্বাচনের কয়েক মাস বাকি থাকতে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে- এটাই স্বাভাবিক। কোটা সংস্কারের অন্দোলনকে পুঁজি করে একটি পক্ষ সরকার পতনের আন্দোলন করতে চাইবে। অতীত ইতিহাস বলে,আন্দোলন দমনের নামে আন্দেলনকে উস্কে দিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ধাবিত করবে না,তা বলা কঠিন।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ থাকবে,দয়া করে কারোর কথায় কান না নিয়ে আপনি এই তরুণদের সঙ্গে কথা বলুন। আমার বিশ্বাস, আপনি যদি এই তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন- তাহলে আপনি বিশ্বাস করবেন যে,এরা কেউ স্বাধীনতা বিরোধী নয়। এরা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করে। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়েই মুক্তিযোদ্ধাদের মতো,বঙ্গবন্ধুর মতো ন্যায্য অধিকার নিয়ে আন্দোলন করছে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার তরুণও কোটা সংস্কারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। অনেকে পদ হারানোর ভয়ে, ভবিষ্যৎ পদ প্রার্থী থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে হয়তো প্রকাশ্য কথা বলছেন না। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছেন না। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আপনি যদি খোঁজ নেন,তাহলে দেখবেন ছাত্রলীগের হাজার হাজার কর্মী কোটা সংস্কার চায়। কারণ তারাও অন্য সাধারণ ছাত্রদের মতো সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে। তাদের পিতারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা নয়। আর মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান না হওয়া স্বত্বেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রমাণ করে,এ দেশের হাজার হাজার তরুণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে উঠছে।

মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর প্রজন্মের একজন তরুণ হিসেবে বহু মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তাদের কী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে,না হচ্ছে-তা নিয়ে আক্ষেপ করা অথবা উচ্ছ্বসিত হতে দেখিনি। বরং তারা তাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের স্বপ্ন আর বর্তমান বাংলাদেশে কতটুকু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে সেই কথাই বারবার তুলে ধরছিলেন। তারা বাংলাদেশ নিয়ে এখনো স্বপ্ন দেখেন, সেই কথাই বারবার বলেছেন।

রাঙামাটির এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে যখন গিয়েছিলাম,শহীদ মুক্তিযোদ্ধার ভাই এবং পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক আপ্যায়ন এখনো মনে পড়ে। তারা যে প্রকৃত দেশপ্রেমিক তা বুঝতে ইতিহাস বিশেষজ্ঞ হতে হয়নি। তিনি সরকারি চাকরি করতেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সনদপত্র তুলে নিজের চাকরির বয়স বাড়াননি। বরং সাধারণ নিয়মেই অবসরে গেছেন। তাঁর মত হচ্ছে,তিনি চাকরিতে বয়স বাড়িয়ে বেশি দিন চাকরি করার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেননি। এ রকম হাজার হাজার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনো মুক্তিযুদ্ধের সদনপত্র তোলার প্রতি আগ্রহ দেখাননি। নিজেদের সুযোগ-সুবিধা কী হলো, তা নিয়ে মাতামাতি করেননি। বরং দেশের কীভাবে কল্যাণ করা যাবে,মানুষের সেবা করা যাবে নিরবে-নিভৃতে সেই কাজ করে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের দিকে তাকালে দেখা যাবে,তারা কখনো ব্যক্তিগতভাবে কী পেয়েছেন,কী পাননি-তা নিয়ে আক্ষেপ করছেন না। বরং নিরবে-নিভৃতে জীবনযাপন করছেন। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবারের কথা জানি। তার সন্তানরা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে বাংলাদেশ সরকারের কোনো উচ্চপদে আসীন হতে পারেননি। মুক্তিযু্দ্ধের অবদানই যদি দেশসেবার শর্ত হয় তাহলে বীরশ্রেষ্ঠ রহুল আমিনের ছেলেদের বাংলাদেশের মন্ত্রী,সচিব পদে আসীন হওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তাদের মন্ত্রী-সচিব হওয়া বা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য তাদের পিতারা প্রাণ উৎসর্গ করেননি। বরং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাত রীরশ্রেষ্ঠসহ ৩০ লক্ষ শহীদ নিজের প্রাণকে তুচ্ছ করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন। শহীদের সন্তানদের কোটায় চাকরি দিয়ে নয়,বরং কোটামুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন। প্রকৃতপক্ষে যোগ্যতা-মেধার ভিত্তিতে সবার জন্যই সরকারি চাকরির দ্বার উন্মুক্ত করাও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। কোটা ব্যবস্থার ফলে এদেশের মানুষের জন্য সেই সাম্য,মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার আদৌ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে কি?

তবে এটা ঠিক যে,এখনই পুরোপুরি কোটা বিলুপ্ত করার সময় হয়নি। কারণ সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির মানুষদের সরকারি চাকরিতে সুযোগ দেওয়ার জন্য কোটার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সেই কোটা অবশ্যই সহনশীল পর্যায়ে হতে হবে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ১০ শতাংশ কোটা রাখার যে দাবি করছে, তা যৌক্তিক বলে মনে হয়। তবে এখনই হঠাৎ করে ১০ শতাংশে নামিয়ে না এনে সরকার ধাপে ধাপে এই কাজটি করতে পারে। কারণ, এতদিন মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের অনেকে সরকারি চাকরি করছেন। হঠাৎ চাকরিপ্রার্থী শহীদ এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের সেই সুযোগ থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। তাই ধাপে ধাপে কোটা সংস্কার করলে বর্তমান চাকরি প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অনেকেই চাকরি পাবেন এবং তারা মানুষিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাবেন যে আগামীতে কোটা থাকবে না। ফলে তাকে অন্যদের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিযোগিতা করে চাকরি পেতে হবে। এই মানুষিক প্রস্তুতির সুযোগ তাদের দিতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্রশাসন বা দেশ গড়ার অর্থ এই নয় যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পুর্নবাসন করা। বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থ হচ্ছে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এবং তার উত্তরাধিকারীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, একজন আত্মমর্যদাসম্পন্ন মুক্তিযোদ্ধা অথবা তার উত্তরাধিকারী কখনো মুক্তিযুদ্ধের নামে বাড়তি সুবিধা দাবি করেন না। তারাও এই কোটা সংস্কারের পক্ষে।

মুক্তিযোদ্ধা এবং তার উত্তরাধিকারীদের উচিত হবে কোটার নামে তাদের আত্মমর্যাদা এবং যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। তাদের পিতারা যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের পিতার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে কোটা প্রথা প্রত্যাখ্যান করা। মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশ মাতৃকার টানে যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে দ্বিধা করেননি, তাদের উত্তরাধিকারীদেরও উচিত হবে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়া। মনে রাখতে হবে,মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো সক্রিয়। তারা সুযোগ পেলেই বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফেরাতে একটুও দ্বিধা করবে না। আর পাকিস্তানপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে সাধারণ মানুষের সমর্থন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। কোটার নামে একটি বৈষম্যযুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা নয় বরং কোটামুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই সমর্থন আদায় করা সম্ভব।

মনে রাখা দরকার,এ দেশের কোটি কোটি বেকার তরুণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী আর মুক্তিযুদ্ধের সব উত্তরাধিকারী মুক্তিযুদ্ধপন্থী-এটা ভাবা চরম বোকামি। আজ যারা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করছেন, তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এ দেশের লক্ষ কোটি তরুণ কখনো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী হতে পারে না। অন্তত আমি বিশ্বাস করি না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে গিয়ে তরুণদের খুব কাছ থেকে জানার ও বোঝার সুযোগ হয়েছে। তাদের দেশপ্রেম,মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসা,সততা দেখে সব সময় মুগ্ধ হয়েছি। শুধু মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারী নয়,সব বাংলাদেশি তরুণরা যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে ওঠে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে, কোটি কোটি তরুণের মনের কথা, আকুতি শুনুন। দয়া করে কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কার করুন। প্রয়োজনে আগামী নির্বাচনী ইশতেহারে কোটা প্রথা ধাপে ধাপে সংস্কার করার বিষয়টি অন্তুর্ভূক্ত করে কোটা কমিয়ে আনার একটি রোডম্যাপ ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে। লক্ষ কোটি তরুণ আপনার দিকে চেয়ে আছে। এ দেশের লক্ষ কোটি তরুণদের আর্তনাদকে উপেক্ষা করে আর যা-ই হোক,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। এই লক্ষ কোটি তরুণকে নিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

About banglamail

Check Also

সমগ্র বাংলাদেশে ছাত্রলীগ ১০০% কোটা সুবিধা ভোগকরে। ‎

সমগ্র বাংলাদেশে ছাত্রলীগ ১০০% কোটা সুবিধা ভোগকরে। ‎ আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে!’ …