Wednesday , October 17 2018
Home / ধর্ম​ / আল-কোরআনের এক বিস্ময়কর দিক

আল-কোরআনের এক বিস্ময়কর দিক

কোরানের বিস্ময়কর অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে একটা দিক হচ্ছে_ আদেশ এবং নিষেধ, ইতিবাচক এবং নেতিবাচক এক কথায় একই সাথে পরপর বিপরীত ক্রিয়াবাচক পদ ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে উপস্হাপিত বক্তব্য সঠিক ভাবে অনুধাবন করা যায় এবং বক্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। যেমন_

(ক) সূরা আল-ইমরানে ১০৩নং আয়াতের প্রথমে আল্লাহ বলছেন_,তোমরা মজবুত ভাবে আল্লাহর রশি আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়োনা।
(খ) একই সূরার ১১০নং আয়াতে বলা হয়েছে_,তোমরা নেক কাজের আদেশ করো ও মন্দ কাজ হতে ফিরিয়ে রাখ এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ।
(গ) ঐ সূরার ১০৪ নং আয়াত_তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যই থাকা উচিত, যারা নেকি ও কল্যাণের দিকে ডাকবে, ভালো কাজের আদেশ দিবে এবং খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। যারা এ কাজ করবে তারাই সফল হবে।
(ঘ) সূরা কাহাফ-২৯,পরিষ্কার করে বলে দিন, তোমার রবের পক্ষ থেকে এটাই সত্য। এখন যার ইচ্ছা ঈমান আনুক, আর যার ইচ্ছা কুফরি করুক।
(ঙ) সূরা নিসা-৬৭,যারা ঈমান এনেছে, তারা সংগ্রাম করে আল্লাহর পথে। আর যারা কুফরি করেছে, তারা সংগ্রাম করে তাগূতের পথে__

আমরা সবাই কোরআন পড়ি এবং খুব সচেতন ভাবেই পড়ি। কিন্তু দুঃখের বিষয় অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমরা এক পক্ষ সচেতন ভাবেই ইতিবাচক দিকটা শুধু গ্রহণই করিনি বরং ইতিবাচক দিকগুলো যতটুকু গ্রহণ করেছি তার বিপরীতে নেতিবাচক দিকগুলো ততটুকুই বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুণিতক হারে তা বর্জন করেছি। আর একারণেই মহান আল্লাহ তা’য়ালা যে উদ্দেশ্য নিয়ে মানব জাতি বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছেন তা আজ ব্যর্থ হচ্ছে। যত দিন না মুসলিম সম্প্রদায় তাদের কর্তব্য পুরোপুরি ভাবে অনুধাবন করে তা পালনে সচেষ্ট হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত এ জাতির দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না।

তাই আসুন আমরা যথাযথ ভাবে কোরআনকে অনুসরণ করে আমাদের ব্যক্তি, পরিবার, দল, রাষ্ট্র তথা পুরো জাতিকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট হই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত ও নেয়ের পথে দৃঢ় পদ রাখুন, আমিন।

মুহাম্মদ কাউছার হোসাইন

About banglamail

Check Also

কিসের শোক দিবস ? ইসলামে কারো মৃত্যুতে ৩ দিনের বেশি শোক জায়েজ নেই – শায়খ আব্দুর রাজ্জাক (ভিডিও)

ইসলামে শোক পালনের বিধানঃ- মৃত্যু সর্বকালে সবার জন্যই কষ্টকর। এতে দেশ, অঞ্চল, ভাষা ও রঙের …