Friday , July 20 2018
Home / অন্যান্য / স্বপ্নের ঘোরে সিঙ্গাপুর রওয়ানা দিয়ে পথ ভুলে উগান্ডা চলে গেছেন ওবায়দুল কাদের !

স্বপ্নের ঘোরে সিঙ্গাপুর রওয়ানা দিয়ে পথ ভুলে উগান্ডা চলে গেছেন ওবায়দুল কাদের !

মেরামতের অভাবে দিনের পর দিন বেহাল পড়ে আছে সড়ক ও জনপদের বেশীরভাগ সড়ক। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয় এসব বেহাল সড়ক দিয়ে। কবে দুর্ভোগের সমাপ্তি ঘটবে তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে আগামী বর্ষার আগে বেহাল এসব সড়ক মেরামত না করা হলে ভোগান্তি বেড়ে যাবে আরো কয়েকগুণ এমন আশংকা করছে মানুষ।

সূত্র জানায়, প্রতি বছরেই বেহাল সড়কের পরিসংখ্যান জরিপ করে সওজ। জরিপ অনুযায়ী বেহাল সড়কের মেরামত বাবদ অর্থ বরাদ্দ চায় সরকারের এ সংস্থা। সম্প্রতি বেহাল সড়কের জরিপ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

জরিপ অনুযায়ী, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী ও অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থাও ভালো নয়। এর চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়কগুলো। সব মিলিয়ে সওজের ৬১ শতাংশ সড়কের বেহাল দশা। এর মধ্যে ৩৭ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক নাজুক অবস্থা রয়েছে। । বাকি সড়কের মধ্যে ২৪ শতাংশ মোটামোটি। ঝুঁকি নিয়ে কোনমতে এসব সড়ক দিয়ে যান চলাচল করে থাকে। তবে প্রায়ই রাস্তায় যানবাহন বিকল হয়ে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ।

সূত্র জানায়, সওজের অধীনে সারা দেশে ১৯ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বেহাল রয়েছে ১১ হাজার ৮২৬ কি.মি. সড়ক। গত বছর চার মাস সড়ক-মহাসড়ক প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ করে সওজের এইচডিএম সার্কেল। এর ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়। ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতে চলতি অর্থবছর ৯ হাজার ১৫৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। সূত্র জানায়, সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা যাচাইয়ে নিয়মিতই সমীক্ষা পরিচালনা করে সওজের এইচডিএম সার্কেল। এর ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষায় বলা হয়,সওজের ৬ হাজার ২০৭ কিলোমিটার বা ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সড়কের অবস্থা খারাপ বা খুবই খারাপ। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোয় তুলনামূলক ভাঙাচোরা কম। জেলা সড়কগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। ৩ হাজার ৯০৫ কিলোমিটার বা ২৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক মোটামুটি চলনসই। তবে ১৯ হাজার কি.মি. সড়কের মধ্যে সমীক্ষা চালানো হয় ১৬ হাজার কি.মি. সড়কের উপর।

সমীক্ষায় বিবেচিত ৩ হাজার ৬৫৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে ১ হাজার ৯৭৭ কিলোমিটার বা ৫৪ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। মোটামুটি চলনসই অবস্থায় আছে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়ক। বাকি ২০ দশমিক ৪৪ শতাংশ খানাখন্দ রয়েছে। সওজের ১০টি জোনের জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ঢাকা ও রংপুরের। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুমিল্লা ও খুলনায়। এর বাইরে রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, গোপালগঞ্জ ও কুমিল্লা জোনের সড়কের বড় অংশই মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে।

সূত্র মতে ৩ হাজার ৯৪১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে ১ হাজার ৬৮৮ কিলোমিটার বা ৪২ দশমিক ৮৫ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আর ২৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ মোটামুটি চলনসই ও ৩০ দশমিক ৭৬ শতাংশ ব্যবহার অনুপযোগী। আঞ্চলিক মহাসড়কের সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে রংপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জোনে। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা খুলনা ও রাজশাহী জোনের সড়কের। অন্যান্য জোনে মোটামুটি চলনসই এসব সড়ক।

এদিকে ৯ হাজার ২২ কিলোমিটার জেলা সড়কের ২ হাজার ৮৪৫ কিলোমিটার বা ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। মোটামুটি চলনসই জেলা সড়ক ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর ৪৭ শতাংশ সড়ক অব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা ও কুমিল্লা জোনের।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান গণমাধ্যমকে বলেন , সওজের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময় পর পর সারা দেশের সব সড়ক-মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদন এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়কগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, বর্ষার আগে বেশিরভাগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যাবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভাঙাচোরা জাতীয় মহাসড়কগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর ২ হাজার ১ কিলোমিটার মেরামত করতে হবে। ২৫৫ কিলোমিটার আংশিক ও ১৭৯ কিলোমিটার পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। একইভাবে আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর ২ হাজার ৪৯ কিলোমিটার মেরামত এবং ১৭৯ কিলোমিটার আংশিক ও ১৫২ কিলোমিটার পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এজন্য চলতি অর্থবছর বরাদ্দ প্রয়োজন ৫ হাজার ৮১৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছর জেলা সড়কের ২ হাজার ৭৬৮ মেরামত ও বাকিটা পুনর্ন্মর্ািণ করতে হবে। এতে বিনিয়োগ প্রয়োজন ৩ হাজার ৩৩৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন সড়ক-মহাসড়কগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে।

শুধু অর্থ ব্যয় করেই সড়ক-মহাসড়কের অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক বলেন, এদেশে সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ধরনটা খুব খারাপ। প্রতি বছর বর্ষার পর রাস্তা সংস্কারে যেতে হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এ সংস্কৃতি নেই। সেখানে দশ-বারো বছর পর সংস্কার হয়। তবে দেশে বছর বছর এ খাতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। কারণ দুটি- জলাবদ্ধতা ও ওভারলোডিং। এ দুটোকে বন্ধ করতে হবে। এটা করা খুব সহজ। তা না হলে যতই অর্থ ব্যয় করা হোক কোনো সুফল মিলবে না।

About banglamail

Check Also

পাগলেও জানে আওয়ামীলীগ কথা দিয়ে কথা রাখে না।।(ভিডিও সহ)

পাগলেও জানে আওয়ামীলীগ কথা দিয়ে কথা রাখে না।।(ভিডিও সহ) পাগলেও জানে আওয়ামীলীগ কথা দিয়ে কথা …