Wednesday , October 24 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / গুলিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ‘ঢাকা জিপিও’

গুলিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ‘ঢাকা জিপিও’

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে জিপিও। ডাক বিভাগের প্রধান দফতর হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে এলেও কাজের পরিধি বাড়ায় অসুবিধা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তিন তলার ভবনটির ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণও সম্ভব নয়। তাই নতুন করে নির্মিত হবে বাংলাদেশ ডাক অধিদফতরের সদর দফতর। এটি হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে। তাই গুটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জিপিও।পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ ডাক অধিদফতরের সদর দফতর নির্মাণ (সংশোধিত) প্রস্তাবিত’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে পুরো অর্থও জোগান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

জানা গেছে, নতুন ভবনটিতে দুটি বেজমেন্টসহ ১৪টি তলা থাকবে, আয়তন হবে ১৬ হাজার ৪১৭ বর্গ মিটার। থাকবে একটি জেনারেটর (৫০০ কেভিএ), ৪টি লিফটসহ অডিটরিয়াম,সভা কক্ষ, আইটি সার্ভার ও এসি’র ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম।সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সববিছু ঠিক থাকলে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে গুলিস্তান থেকে ডাক বিভাগের প্রধান কার্যালয় শেরে বাংলা নগরে স্থানান্তর করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার ই/১৩/এ নম্বর প্লটে পৌনে এক একর জমির ওপর নির্মিত হবে বাংলাদেশ ডাক অধিদফতরের সদর দফতর।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর সারাদেশে ৪টি জিপিও, ৬৭টি প্রধান ডাকঘর, ৪৮০টি উপজেলা ডাকঘর, ৮৬৫টি সাব-পোস্ট অফিস, ১১টি বিভাগীয় শাখা অফিস এবং ৮ হাজার ৪৬০টি এজেন্সি পোস্ট অফিস অর্থাৎ মোট ৯ হাজার ৮৮৭টি ডাকঘরের মাধ্যমে দেশব্যাপী পোস্টাল সেবা দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর ২৫ হাজার ৭৭৪ জন জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে অধিদফতরটির জনবলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৮৮৬ জনে। এর মধ্যে গুলিস্তানের জিপিও ভবনের সদর দফতরে কর্মরত ১ হাজার ৮৫২ জন। দেশব্যাপী গ্রহক সংখ্যা ও ডাক সেবা কার্যক্রম বৃদ্ধির পাশাপাশি সেবার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জায়গাসহ আলাদা সদর দফতর না থাকায় সংস্থাটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে।

ডাকা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গুলিস্তানে ১৯৬২-৬৩ সালে অপারেশনাল কার্যক্রমের লক্ষ্যে তিন তলা ভিত্তির উপর নির্মিত জিপিও ভবনটি এখন আর ওপরের দিকে বাড়ানো সম্ভব নয়। তাছাড়া, একই স্থানে জিপিও ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করতে হলে জিপিও’র কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। এ কারণে শেরেবাংলা নগরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় সদর দফতর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে ১৫০ ফুট উঁচু ভবন নির্মাণ করার ছাড়পত্র দিয়েছে। ২৫ তলার ভিত্তিসহ ২টি ভূগর্ভস্থ বেজমেন্ট ও ৮ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করে ডিপিপি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ২০১৪ সালের ১৭ জুন ৫৪ কোটি ৭২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়। এ শর্তে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে প্রকল্পটির ডিপিপি অনুমোদনও দেওয়া হয়।

তবে ভবনটির অবশিষ্ট ছয়টি ফ্লোর এখনই নির্মাণের প্রয়োজন হওয়ায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে সংশোধিত ডিপিপি হিসেবে আরেকটি প্রস্তাব পাঠায় পরিকল্পনা কমিশনে। এই সংশোধিত প্রকল্পটির পিইসি সভা গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রস্তাবিত অংশভিত্তিক পরিমাণ ও ব্যয় সঠিকভাবে উল্লেখ না করায় সভায় ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য অবশিষ্ট কাজের পরিমাণ ও ব্যয় যথাযথভাবে নির্ধারণ করে আরডিপি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পিইসি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরডিপিপি পুনর্গঠন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। পুনর্গঠিত আরডিপিপি’র ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের সময় প্রস্তাব করা হয়েছে ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পৃথক সদর দফতর ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জিপিও ভবনের অপারেশনাল স্পেস বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিচালনা কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্পাদন করা সম্ভব হবে।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভবনটি নির্মিত হলে জনগণকে দেওয়া ডাক বিভাগের সেবার পরিমাণ বাড়বে। আর নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতিও বাড়বে।’

About editor

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …