Wednesday , October 24 2018
Home / রাজনীতি / খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থা চান মওদুদ

খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থা চান মওদুদ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ারও ‘নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা’র ব্যবস্থা চান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচার করতে চান- করুক, কিন্তু আমাদেরকেও অধিকার দিতে হবে। খালেদা জিয়াও যাতে নির্বাচনের জন্য ভোট চাইতে মানুষের কাছে যেতে পারেন, সেটা ব্যবস্থাও থাকতে হবে।’বুধবার বিকেলে দলের গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তবে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

মওদুদ বলেন, ‘আমরা সবসময় বলে এসেছি, আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই যে নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করতে পারে এবং সবাই যাতে সমান সুযোগ সুবিধার অধিকারী হয়। কেননা নির্বাচনী সমান্তরাল অবস্থা থেকে আমরা যদি নির্বাচন করি তাহলে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবো।’তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে একদিকে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে ভোট চাচ্ছেন, অভিযানে নেমেছেন অন্যদিকে উনার প্রতিপক্ষ বা রাজনৈতিক দল বিএনপি। এমনকি দেশের মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে জনপ্রিয় বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন। তিনি ভোট চাইতে পারবেন না- তা কখনও কাম্য হতে পারে না।’বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভোট চাইতে পারেন। তবে যদি তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ না করে আজ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নিজ খরচে ভোট চাইতেন, জনসভা করতেন। তাহলে আমাদের বলার তেমন কিছু থাকতো না। কিন্তু তিনি তো সেটা করছেন না।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিনি যেভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা নির্বাচনের নিয়ম ও বিধি পরিপন্থী বলে আমি মনে করি।’ক্ষমতাসীনদের নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে মওদুদ বলেন, ‘যেখানে গণতন্ত্র নেই সেখানে উন্নয়নশীল দেশ অর্থহীন।’নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচন কমিশন সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন হতো তাহলে এমন কথা বলতে পারতো না যে, তারা সরকারকে চিঠি লিখতে পারবে না। কারণ সংবিধানে এমন কোথাও লেখা নেই যে নির্বাচন কমিশন সরকারকে চিঠি লিখে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন না।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি। ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল আবেদন দাখিল করেন খালেদা জিয়া। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সেটি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পরে চার যুক্তিতে গত ১২ মার্চ চার মাসের জামিন দেন। কিন্তু আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন এবং শুনানির জন্য আগামী ৮ মে ধার্য করা হয়েছে।

About editor

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …