Wednesday , October 24 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / ফেরেশতা এলেও সমালোচনা করবে আওয়ামী লীগ: তৈমূর আলম খন্দকার

ফেরেশতা এলেও সমালোচনা করবে আওয়ামী লীগ: তৈমূর আলম খন্দকার

আসমান থেকে ফেরেশতা আনা হলেও আওয়ামী লীগ তার সমালোচনা করত। আর আওয়ামী লীগের সমস্যা হচ্ছে লর্ড কার্লাইলের এই নিয়োগের ফলে ব্রিটিশ আইনজীবীরাও জানবে আমাদের বর্তমান বিচার ব্যবস্থার কী অবস্থা। এই আতঙ্কেই আওয়ামী লীগ তার নিয়োগের বিরোধীতা করছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আইনজীবী নিয়োগের দৃষ্টান্ত এদেশে রয়েছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা মোকাবেলায়ও বিদেশি আইনজীবী আনা হয়েছিল। আইনজীবীরা আইনের ব্যাখ্যা দেন। লর্ড কার্লাইল মীর কাসেমী আলীর লবিস্ট ছিলেন কি, ছিলেন না তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আইনজীবী আইনের ব্যাখ্যা দিবেন, এটাই তার কাজ।তিনি আরও বলেন, বিএনপির বড় বড় আইনজীবী থাকা সত্ত্বেও বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ মানসিক সন্তুষ্টির জন্য। এ ছাড়া বিশ্বও জানল ৭৪ বছর বয়স্ক একজন মানুষকে ৫ বছরের সাজা দিয়ে জেলে নিয়ে কী ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। তিনি তো দেশের তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। জনগণ তাকে ২৩ আসনে ২৩ বার জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছিল। এমন একজন মানুষকে এভাবে নাজেহাল করা ঠিক নয়।

বিচারের মূল্য ২৮ বছর

৩২ বছর আগে আব্দুল কাদের বাড়ি থেকে দুটি গরু নিয়ে যশোরের সাতমাইল এলাকার একটি পশু হাটে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে তার প্রতিবেশি মফিজুর রহমানও দুটি পশু নিয়ে হাটে বিক্রির জন্যে যাচ্ছিলেন।পথিমধ্যে বিডিআর (বর্তমানে বিজিপি) সদস্যরা তাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়। গরুগুলোর কাগজপত্র দেখাতে বলে। নিজের পোষা গরু বলে তার কোনো কাগজপত্র তাদের সঙ্গে ছিল না। বিডিআর’এর এক ল্যান্স নায়েক কাদের ও মফিজুরের বিরুদ্ধে গরু চোরাচালানের মামলা করে দেন। ১৯৮৬ সালে এ মামলা হওয়ার পর হরি চাঁদপুরের ওই দুই বাসিন্দাকে পরের বছর ৩০ মার্চ যশোর আদালত ৫ বছরের জেল দেয়।জামিন পাওয়ার আগে কাদের ও মফিজকে ৩ বছর জেল খাটতে হয়। তারা তখন যশোরে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে আপিল করেন। এরপর দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় তাদের দিন যায় কারাগারে। গতকাল বুধবার ২৮ বছর পর হাইকোর্ট ঘোষণা করে কাদের ও মফিজ নির্দোষ।টেলিফোনে কাদের তার গ্রাম থেকে জানান, আমি খুশি। কাদেরের বয়স এখন ৫৫ বছর। দুই সন্তানের জনক মফিজ এক বছর আগে চিরমুক্তি পেয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। কাদের বলেন, অনেক বছর পর হলেও হাইকোর্টের এ রায়ে আমি মুক্তি অনুভব করছি।

বিডিআর’এর ল্যান্স নায়েক আমির আলী ১৯৮৬ সালের ২৭ আগস্ট শার্শা থানায় ওই মামলা করেন এবং এ মামলার আইনজীবী ছিলেন কুমার দেবুল দে। কুমার বলেন, যশোর হাইকোর্ট ১৯৯০ সালে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এ মামলাটি ঢাকায় হাইকোর্টে স্থানান্তর হওয়ার পর পড়ে ছিল। গত বছর হাইকোর্টের রেজিস্টার অফিস সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটিকে জানায়, কাদের ও মফিজের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াব মারা গেছেনকমিটি এ মামলার শুনানির ব্যবস্থা করে। ভারত থেকে চোরাচালানে পশুগুলো কাদের ও মফিজ এনেছিল এধরনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন আইনজীবী কুমার দেবুল দে।

About editor

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …