Saturday , October 20 2018
Home / ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে / “বাংলাদেশ যখন বিক্রি হচ্ছিলো, তখন বাংলাদেশীরা সবাই নাগিন নাচ নাচতেছিলো !

“বাংলাদেশ যখন বিক্রি হচ্ছিলো, তখন বাংলাদেশীরা সবাই নাগিন নাচ নাচতেছিলো !

একটা প্রবাদ আমরা প্রায় পড়ি, রোম যখন পুড়ছিলো, নিরো তখন বাশি বাজাচ্ছিলো। বর্তমানে কালে ঐ প্রবাদের জন্ম হলে সম্ভবত সেটা চেঞ্জ হয়ে এমনটা হতো, “বাংলাদেশ যখন বিক্রি হচ্ছিলো, তখন বাংলাদেশীরা সবাই নাগিন নাচ নাচতেছিলো। ”

গত কয়েকদিন যাবত খবর আসতেছে, খুব শিঘ্রই গ্যাসের দাম দ্বিগুন হচ্ছে। (http://bit.ly/2GDa9xs)
গ্যাসের দাম যদি দ্বিগুন হয়, স্বাভাবিক বিদ্যুতের দাম দ্বিগুন হবে। যাতায়াত ভাড়া দ্বিগুন হবে, দ্রব্যমূল্যের ভাড়া দ্বিগুন হবে। পুরো জীবনযাত্রার খরচ দ্বিগুন হবে। অথচ এখনই বাংলাদেশের মানুষের কঠিন অবস্থা। সরকার মুখে মুখে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠিয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু চালের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ টাকা হওয়ায় মানুষ ভাত খেতে পারছে না। বাজারে কমে গেছে ক্রেতার যাতায়াত। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম দ্বিগুন করা মানে পুরো দেশকে কৃত্তিমভাবে দুর্ভিক্ষে ঠেলে দেয়া।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণ বিদেশ থেকে উচ্চমূ্ল্যে আমদানি করা হচ্ছে গ্যাস। (http://bit.ly/2pmNrSa) অথচ পুরো বাংলাদেশে ভাসছে গ্যাসের উপর।

মাত্র ২ দিন আগে দৈনিক সমকালের খবর-
মহেশখালীতে হাইপ্রেসার জোনে গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশী কোম্পানিকে না দিয়ে ভারতীয় কোম্পানিকে দিয়ে করা হচ্ছে। (http://bit.ly/2tWs67L)
দাবি করা হচ্ছে বাংলাদেশী কোম্পানি সক্ষমতা নেই। অথচ টাকা দিয়ে বাঘের চোখও পাওয়া যায়। টাকা দিয়ে প্রয়োজনী যন্ত্রপাতি, লোকবল বা প্রযুক্তি কিনে নিলে সক্ষমতার প্রশ্ন আসবে কেন ?
উল্লেখ্য বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় একটা বিরাট গ্যাসক্ষেত্র আছে, যেখানে ২০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আছে বলে মনে করা হয়। যে গ্যাস আহরণ করলে বাংলাদেশে আগামীতে সৌদি আরবের মত জ্বালানি সুপার পাউয়ারে পরিণত হবে। (http://bit.ly/2Iwhi3e) উপকূলীয় এলাকায় সম্রাজ্যবাদীদের যে আনাগোনা, তার অন্যতম কারণ সেই বিশাল গ্যাসক্ষেত্র।
অনেকের ধারণা, কক্সবাজার উপজেলার মহেশখালীতে সেই বিশাল গ্যাস ক্ষেত্রের একটি মুখ রয়েছে, যা ভারতীয় কোম্পানির অনুসন্ধানের তত্ত্ববধানে দেয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ২০শে জুলাই দৈনিক যুগান্তরে একটি খবরে বলা হয়,
“গ্যাসকূপ আবিষ্কারের দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ভারতীয় অপতৎপরতাসহ নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে সুরমা অববাহিকায় ১৪নং ব্লকে আবিষ্কৃত ১৯টি গ্যাসকূপে রহস্যজনক কারণে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।”
খবরে আরো দেখানো হয়-গত ১০০ বছরে বাংলাদেশে অনেক বড় বড় গ্যাস কুপ পাওয়া গেলেও তা অজ্ঞাত কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে এর পেছনের কারণ হিসেবে সংবাদে বলা হয়, “বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন করতে গেলে ভারতের মাটির নিচ থেকে চলে আসে”।
(http://bit.ly/2pkHhSs)

তারমানে বাংলাদেশে থেকে গ্যাস টানলে ভারতের ভূমি পাশে থাকায় তার গ্যাসও বাংলাদেশ দিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারে। এ ভয়ে বাংলাদেশে গ্যাস তুলতে দেয় না ভারত। এই যখন অবস্থা, তখন মহেশখালীতে বাংলাদেশী কোম্পানি রেখে ভারতীয় কোম্পানি দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান মানে তো চোরের কাছে মুরগী বর্গা দেয়।

আমরা জানি, সৌদি আরব পৃথিবীর অন্যতম ধনী দেশ। তাদের দেশের মানুষ খুব একটা খাটা-খাটুনি করে না। তাদের মাটির নিচের সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা দু’হাত দিয়ে খরচ করে শেষ করতে পারে না। বাংলাদেশেও তো সেকরম হতে পারতো । বাংলাদেশে মাটির নিচে যদি ২০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায় তবে বাংলাদেশের মানুষও তো বসে বসে খেতে পারে, বাংলাদেশ হতো পৃথিবীর অন্যতম ধনী রাষ্ট্র। কিন্তু গ্যাসের জিম্মা বাংলাদেশীদের কাছে না রেখে ভারতের কাছে কেন দিচ্ছে আওয়ামী সরকার?

২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলো- “২০০১ সালে গ্যাস বেচতে রাজি হইনি বলে ক্ষমতায় আসতে পারিনি” (http://bit.ly/2FL9z3K)

স্বাভাবিকভাবে তখন একটা প্রশ্ন উদিত হয়, তাহলে ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে কি বিক্রি করতে রাজি হওয়ায় তিনি ক্ষমতায় এসেছেন এবং আগামীতে ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন ?

Noyon chatterge

About banglamail

Check Also

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতির কি উপকার হবে ? – নুরুল ইসলাম বুলবুল

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে জাতির জন্য নিম্নোক্ত কাজ গুলো সুচারুভাবে আঞ্জাম দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে। …