Wednesday , October 24 2018
Home / রাজনীতি / এমপি বাবু তুমি কার? আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নাকি সন্ত্রাসী, খুনী, চাঁদাবাজদের!

এমপি বাবু তুমি কার? আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নাকি সন্ত্রাসী, খুনী, চাঁদাবাজদের!

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু’র সাথে সন্ত্রাসীদের এত আঁতাত কেন? সন্ত্রাসীদের তিনি কেনইবা এত সমীহ করেন? দলীয় নেতাকর্মীরা তার কাছে ভীড়তে না পারলেও সন্ত্রাসীরা থাকেন তার কাছে কাছে। এমপি বাবুর এধরনের সন্ত্রাসী প্রীতিকে ভাল চোখে দেখছেন না আড়াইহাজারের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।এলাকাবাসি বলেন, বিএনপির শাসনামলে ডাকাতরা চলতো এমপিদের কথায়। আর এখন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ডাকাত ও খুনের মামলার আসামীরা থাকেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর আশেপাশে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এসব সন্ত্রাসী, খুনী, চাঁদাবাজরা এমপিকে ফুলের তোড়া দেন, কোট পিন উপহার দেন। এমন দৃশ্য এখন আড়াইহাজারে নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আড়াইহাজার থানায় এলাকায় ওয়ারেন্টের আসামী ধরতে হলেও এখন এমপি বাবুর অনুমতি প্রয়োজন হয়। তিনি নাকি ওয়ারেন্ট তামিলের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছেন। তাকে না জিজ্ঞাসা ছাড়া কোন ওয়ারেন্টের আসামী গ্রেফতার করা যাবে না। এনিয়ে পুলিশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর মতে, এমপি বাবু এখন সাধারন মানুষের নয়, তিনি যেন সন্ত্রাসীদের এমপি। আর আড়াইহাজারে আসলে সন্ত্রাসীরা পাহারা দিয়েই রাখছেন তাকে। আড়াইহাজারের কয়েকজন সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানকে নিয়েই এমপি বাবুর কাজ কারবার। আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লাক মিয়াকে নিয়ে সারাদিন মেতে থাকেন এমপি বাবু। আর এই লাক মিয়ার বিরুদ্ধে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর অভিযোগ তার স্বামী ছিলো জাপান প্রবাসী। তাকে জোর করে বিয়ে করেছেন লম্পট লাক মিয়া। স্বামীর পাঠানো টাকা দিয়ে তার নামে করা বাড়ি লাক মিয়া জোর করে লিখে নিয়েছেন। প্রতিবাদ করায় তার ছোট ভাইকে (শ্যালক) ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীদের গডফাদার লাক মিয়া। এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানায় লাক মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও পুুলিশ এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর কারনে তাকে গ্রেফতার করছে না।

আড়াইহাজার উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী, শীর্ষ বালু খেকো ও কালাপাহারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। পান থেকে চুন খসলেই এলাকার কত মায়ের সন্তান যে প্রান হারিয়েছে সে হিসেব নেই। আর এই আলোচিত সন্ত্রাসীকে নিয়েই এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর চলাফেরা। সম্প্রতি পুলিশ কনস্টেবল রুবেল হত্যার পর থেকে এখনো অধরা এই গডফাদার। স্বপনের মত সন্ত্রাসীরাই এমপি বাবুর প্রিয় পাত্র। তাদেরকে নির্বাচনে বিনাভোটে পাশ করাতে পারলেই তিনি খুশী হন। আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাহমুদ। যাকে এলাকাবাসী ‘ভূমিদস্যু ওয়াদুদ’ হিসেবে চিনে। এলাকার নিরীহ লোকজনের জায়গা জমি জোর করে দখল করে প্লট করে বিক্রি করে দিচ্ছেন তিনি। আর সেই ভূমিদস্যুই এমপি বাবুর কাছের লোক।

এলাকাবাসির মতে, এসব সন্ত্রাসীদের ওপর ভর করেই চলছে এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর দিনকাল ও রাজনীতি। দলীয় নেতাকর্মীরা সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। যত সুযোগ-সুবিধা আছে সব কিছুই যেন সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও খুনিদের জন্য।

About editor

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …