Tuesday , October 23 2018
Home / রাজনীতি / বিএনপিকে ঠেকাতেই ব্যস্ত পুলিশ , বেপরোয়া অপরাধীচক্র

বিএনপিকে ঠেকাতেই ব্যস্ত পুলিশ , বেপরোয়া অপরাধীচক্র

জনগণের জান-মাল রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করছে সরকার। আইনশৃংখলায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে রাজধানীসহ দেশ জুড়ে ছিনতাইকারী ও মাদক চোরাকারবারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে।ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণও হারাচ্ছে বহু মানুষ। রাজনৈতিক কর্মীদের দমন-নিপীড়নের সুযোগে দেশ জুড়ে বেপরোয়া পুরুষ-নারী ছিনতাইকারী চক্র।সাবেক আইজিপি নুরুল আনোয়ার দিনকালকে বলেন, প্রায়দিন পত্রিকার পাতা খুললে ছিনতাইয়ের খবর দেখতে পাই। অনেকে মারা যাচ্ছে, কেউ গুরুতর আহত হচ্ছে, লুটে নিচ্ছে সর্বস্ব। পুলিশের মূল কাজ হলো যখনই অপরাধ সংঘটিত হবে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া। অপরাধ দমন ও আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব এড়িয়ে পুলিশ দায় এড়াতে পারে না। ছিনতাইকারীর হাতে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাচ্ছে।

প্রধান দায়িত্ব আইনশৃংখলা রক্ষা বাদ দিয়ে বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমনে যদি পুলিশ অন্যান্য অপরাধকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে সেটা দায়িত্বের প্রতি অবহেলার শামিল। সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত তিন মাসের ব্যবধানে টানাপার্টির কবলে পড়ে শুধু রাজধানীতেই প্রাণ হারিয়েছেন নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন।গত ২৬ জানুয়ারি রাজধানীতে টানাপার্টির প্রাইভেটকারের চাকায় মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলেই মারা যান একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আয়া হেলেনা বেগম।টানাপার্টির কবলে পড়ে যখন হেলেনা নিহত হলেন, প্রায় একই সময় মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৬) নামে খুলনার এক ব্যবসায়ী ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে মারা গেছেন সায়েদাবাদ এলাকায়। স্বামীবাগ রেললাইনে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গত বছর নভেম্বরে মতিঝিলে হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত হন এফবিসিসিআইয়ের এক নারী কর্মকর্তা।

আর ডিসেম্বরে দয়াগঞ্জে এক ছিনতাইকারী টান দিয়ে রিকশা আরোহী এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার সময় তার কোল থেকে পড়ে পাঁচ মাসের ছেলের মৃত্যু হয়। ২৯ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত হন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের চিকিৎসক ফরহাদ আলম।চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ৮ অক্টোবর টিকাটুলিতে ছিনতাইয়ের শিকার এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু তালহা।সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের অভিনব পন্থা হিসেবেই মাঠে নেমেছে নারী ছিনতাইকারী চক্র। নানাভাবে পুরুষদের প্রলুব্ধ করে তারা লুটে নেয় সর্বস্ব। এমনকি নারীদের ক্ষেত্রেও তারা বিশেষ কায়দায় ছিনতাই করে থাকে।গত ৩ অক্টোবর গুলিস্তান থেকে নারী ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা স্বীকার করেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানেই তারা ছিনতাই করে থাকে। নারী হিসেবে বিশেষ কৌশলে ছিনতাই করা যায় বলে জানায় তারা।

আটককৃত নারী ছিনতাইকারীরা জানিয়েছে, বিভিন্ন শপিং মল, নিরিবিলি সড়ক, বিয়ে অনুষ্ঠান, পার্টিই তাদের ছিনতাইয়ে মূল কেন্দ্রস্থল। এছাড়া ফোনে প্রেমের ফাঁদ পেতে নির্জন ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় এই চক্রের সদস্যরা। ভিড়ের মধ্যে শপিং মলগুলোতে নারী ক্রেতাদের সঙ্গে তারা মিশে যায়। সুযোগ বুঝে ভ্যানিটি ব্যাগ, মালপত্র হাতিয়ে নেয়। গণপরিবহনগুলোতেও এই চক্র সক্রিয় বলে স্বীকার করে তারা। কিন্তু ছিনতাইয়ের শিকার অনেক ব্যক্তি ঝামেলা এড়াতে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে চান না।

শান্তিনগর মোড় থেকে ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেট, মালিবাগের এসবি অফিসের সামনে থেকে কাকরাইল মোড়, রাজারবাগ থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের আগে পীরজঙ্গি মাজার, মিরপুর-১ নম্বর গোলচত্বর থেকে টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গুলশান শ্যুটিং ক্লাব, মহাখালী কাঁচাবাজার, পান্থপথ মোড় থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট থেকে সোবহানবাগ, সংসদ ভবন এলাকা, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কাজলার পাড়, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে জনপথ মোড় হয়ে ধলপুর সিটি, মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজ, মৌচাক থেকে মগবাজার মোড়, গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ও বাবুবাজার স্পটে নারী ছিনতাইকারীরা সক্রিয়। ব্যাপক হারে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও পুলিশের নথিপত্রে মাত্র ১২টি ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা উল্লেখ আছে।

ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রতিকার না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে যাচ্ছে না। সম্প্রতি কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন তরুণ মডেল আরমান হোসেন।শুটিং শেষ করে উত্তরা থেকে মোটরসাইকেলে রামপুরার বাসায় ফেরার পথে তিন ছিনতাইকারী পিস্তল ঠেকিয়ে আইফোন ও পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়সম্প্রতি ওই এলাকায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৪০ লাখ টাকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ১০ ডিসেম্বর রাতে ওয়ারিতে শাহীদা নামের এক নারীর পায়ে গুলি করে টাকাসহ হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছিনতাইকারী বা টানাপার্টি চক্রে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসহ বখাটে গ্রুপ জড়িত। গত ৮ নভেম্বর এমন একটি ছিনতাইকারী গ্রুপ রায়েরবাজারের তরুণ সাব্বির হোসেনকে হত্যা করে।ডিএমপির অপরাধ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত দুই মাসে ডিএমপিতে মাত্র ১২টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে সেগুলোই তারা বিবেচনায় নিয়েছেন।ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা দিনকালকে বলেন, এরই মধ্যে ১৪১ এলাকা বা স্পটকে শনাক্ত করা গেছে। এসব এলাকায় কারা ছিনতাই করছে তা খোঁজ নিচ্ছে ডিবি। হালনাগাদ করা হচ্ছে ছিনতাইকারীদের তালিকা। শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে।

About editor

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …