Thursday , April 26 2018
Home / রাজনীতি / সরকার দিশে হারা হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে

সরকার দিশে হারা হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে

সরকার চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।তিনি বলেন, বিএনপিসহ ২০ দলের মধ্যে কোনো হতাশা নেই। হতাশা কিন্তু সরকারি দলে। এবং তাদের হতাশা এমন পর্যায়ে গেছে যে তারা কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না। কোন পথে চলবে?মঙ্গলবার (২০ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতা সুসংহত, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য করণীয় শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় দল নামের একটি সংগঠন।সরকারি দলের আচরণ শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, স্বৈরতান্ত্রিক নয়, তাদের আচরণ ফ্যাসিজমে পৌঁছে গেছে মন্তব্য করে আমির খসরু বলেন, এটা নিরাপত্তাহীনতার একটি লক্ষণ। এই ধরণের একটি দল তারা যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, জনগণকে ভয় পায় তখন তারা জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। যেরকম ভাবে তারা দেশের মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা আজকে বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর একটি মাত্র কারণ সেটা হলো তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এবং তারা এগুলোকে কব্জা করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপত্তার খোঁজ করছে।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, তাদের নিরাপত্তাহীনতা এমন পর্যায়ে গেছে যেখানে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অস্ত্র নিয়ে আসতে হয়। জোর করে জনগণকে তুলে নিতে হবে।তিনি বলেন, তারা খালি হাতে আসতে সাহস পায় না। তাদের এমন কি ভয়ভীতি? মনে হচ্ছে তারা যুদ্ধে নেমেছে। যে পথে তারা যাচ্ছে তা কিন্তু স্বৈরশাসকের পথ। একদলীয় শাসকের পথ। এই পথে জনগণ আরো নিষ্পেষিত, নির্যাতিত হতে হবে। আর এই পথই সরকার বেছে নিয়েছে।এই অবস্থায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের একমাত্র পথ হচ্ছে নিপিড়ন নির্যাতনের পথ। গুম, খুন, হত্যা, জেল ও জুলুমের পথ।সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের যে প্রকল্প নিয়েছে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণকে বাইরে রেখে, বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে হবে। জনগণকে যদি ভোট থেকে বাইরে রাখতে হয় তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রাখতে হবে। কারণ ব্যাংক লুট করে, শেয়ার বাজার লুট করে, মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার টাকা লুট করে তাদেরকে নির্বাচনী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।

বেগম খালেদা জিয়া হলেন আপসহীন নেত্রী। তিনি আজকে গণতন্ত্রের মা উপাধী পেয়েছেন। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনে তিনি আজ জেলে গিয়েছেন। দেশের মানুষের নাগরিক অধিকার ফিরে পেতে তিনি জেলে গিয়েছেন।বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ আজ বদ্ধ পরিকর। যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আমরা ঘোষণা করেছি তাতে তারা পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে কেউ আমাদের সাথে হাটছে, কেউ পিছে বা কেউ পাশে হাটছে। কিন্তু লক্ষ একটাই সেটা হলো বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। আমরা সেই পথে সফল হবই এবং গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের গণতন্ত্রের মা হিসেবে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান এড.সৈয়দ এহ্সানুল হুদার সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মন্ত্রী মোস্তোফা জামান হায়দার, এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তোফা ভূইয়া, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, লেবার পার্টির( একাংশের) হামদুল্লাহ আল মেহেদী, দেশ বাচাও মানুষ বাচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

About editor

Check Also

যেভাবে ধরা খেলো তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জনের বানোয়াট তথ্য ..

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেই ব্রিটেনে বসবাস করছেন। …