Wednesday , October 24 2018
Home / রাজনীতি / শেখ হাসিনা কোথাও ১ নম্বর হতে পারছেন না কেন!

শেখ হাসিনা কোথাও ১ নম্বর হতে পারছেন না কেন!

আমাদের শাহীন ভাই একটা জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। প্রশ্নটা হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময় বিশ্বের মাঝে দুই নাম্বার তিন নাম্বার চার নাম্বার হচ্ছেন কেন? কেন তিনি এক নাম্বার হচ্ছেন না? আজকে আমরা এ বিষয়ে আলোকপাত করবো।কথা সত্য। দেখা যাচ্ছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক দ্য ষ্টাটিসটিক্স উনাকে বিশ্বের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছে। কিছুদিন আগে আমেরিকাভিত্তিক পিপলস এন্ড পলিটিক্স তাকে বিশ্বের তৃতীয় কর্মঠ ও সৎ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলো। কিছুদিন পরে নাইজেরিয়াভিত্তিক হিউম্যান একশন তাকে বিশ্বের চতুর্থ স্নেহময়ী ও জনকল্যাণমুখী প্রধানমন্ত্রী বানাবে।এরপর দেখা যাবে নরওয়েভিত্তিক দি এনাউন্সমেন্ট তাকে বানাবে বিশ্বের তৃতীয় জ্ঞানী ও মহৎপ্রাণ প্রধানমন্ত্রী। এরপর সুইডেনভিত্তিক দ্য মাদাফাদা ইনস্টিটিউট অফ ফাদামাদা রিসার্চ তাকে বানাবে বিশ্বের দ্বিতীয় আত্মত্যাগ স্বীকারকারী প্রধানমন্ত্রী। এরপর হয়তো আসবে উগান্ডাভিত্তিক দ্য ক্যালকুলেশন এর পালা। তারা কি বানাবে তা এখন আর অনুমান করতে পারছি না, দুঃখিত।

শেখ হাসিনার সাইকি যদি আপনি বুঝার চেষ্টা করেন তাহলে দেখবেন প্রতিহিংসাপরায়ণ একজন সাইকোপ্যাথ এর টেক্সটবুক এক্সামপল। পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দুঃখজনক অভিজ্ঞতায় গেলে খুব শক্ত ও এক্সট্রা অর্ডিনারি মানসিকতা না থাকলে যে কোন স্বাভাবিক মানুষের এটা হবে। এখন যথাযথ চিকিৎসার বদলে বাংলাদেশ বরং তাকে নেতা বানিয়ে দিয়েছে। সুতরাং সাইকো হিসেবে তার অতৃপ্ত আকাংখা চিরদিন অতৃপ্তই থেকে যাবে।সে অতৃপ্তির জ্বালা মেটাতে সুবিধা মারতে থাকা চাটার দল এরকম একেকটা ট্রেন্ড আনতে থাকবে। অনেকদিন তারা অনারারী ডক্টরেট দিয়ে চালিয়েছে। কিন্তু আপনি প্রতিদিন কালোজাম খেতে থাকলে কয়েকদিন পর দুনিয়ার এই সেরা মিষ্টিটাও আপনার আর ভালো লাগবে না।মনে চাইবে এইবার কাঁচাগোল্লা খাইতে। অথবা সন্দেশ খাইতে। সুতরাং অনারারী ডক্টরেট আপাতত সাইডে গেছে। মার্কেটে এসেছে অমুক সংস্থার রেটিং তমুক সংস্থার সম্মাননা এইসব।

তবে আমরা ফিরে যাবো সেই মূল গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটিতে। তিনি সবসময় কেন দুই নাম্বার তিন নাম্বার চার নাম্বার হচ্ছেন? কেন এক নাম্বার হন না? এর উত্তর হলো, তিনি এক নাম্বার হবেন না এমন কোন কথা নাই। তিনি যে কোন সময় এক নাম্বার হয়ে যাবেন।তবে এখন পর্যন্ত না হওয়ার কারণ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন। আপনি যখন ছোটবেলায় টিভিতে লাইফবয়ের বিজ্ঞাপন দেখতেন তখন একটা সাদা বৃত্তের মাঝখানে অনেক কালো ব্যাকটেরিয়া কিলবিল করতো, তার উপর দিয়ে একটা সাধারণ সাবান চলে যাওয়ার পর দেখা যেতো কালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা তেমন একটা কমেনাই।এরপর যখন ঐ সাদা বৃত্তের উপর দিয়ে একটা লাইফবয় সাবান চলে যেতো তখন দেখা যেতো শত শত কালো ব্যাকটেরিয়া উবে গেছে, শুধুমাত্র একটা অথবা দুইটা অতি ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া নগণ্যভাবে এক কোণায় টিকে আছে।

কেন???

বিজ্ঞাপন নির্মাতারা কি চাইলে ঐ একটা দুইটা ব্যাকটেরিয়াকেও উবিয়ে দিয়ে পুরো বৃত্তকে ফকফকে সাদা করে দিতে পারতেন না? পারতেন। কিন্তু করেননাই এ কারণে যে এতে করে তারা বুঝালেন, দেখো আমরা খুবই সৎ লোক।আমরা জানি দুনিয়া ব্যাকটেরিয়া শুণ্য হয় না সুতরাং যেসব ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর না এমন একটা দুইটা থাকবেই এবং সেটাও আমরা দেখায়া দিসি। এখন সোনার চান মানিব্যাগ খুলে লাইফবয় সাবান কিনোতো দেখি।এই যে তিনি শুরুতেই এক নাম্বার না হয়ে দুই নাম্বার তিন নাম্বার হইতেছেন এখানেও সৈয়দ বুরহান, বিয়ার হাবিব অথবা শাইখ সিরাজের দল ঠিক ঐ একই স্টাইলে তাদের সততার বিষয়টা জনগণের সামনে তুলে ধরতেছে আর কি। আপনারা প্লিজ তাদের বিশ্বাসযোগ্যতায় কোন সন্দেহ করবেন না যেন।

About editor

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …