Wednesday , October 24 2018
Home / রাজনীতি / পাক সরকারের জুলুম শেখ মুজিবকে অসাধারণ জনপ্রিয়তা দিয়েছিল : বেগম জিয়াকেও সরকার সেদিকেই ঠেলে দিচ্ছে

পাক সরকারের জুলুম শেখ মুজিবকে অসাধারণ জনপ্রিয়তা দিয়েছিল : বেগম জিয়াকেও সরকার সেদিকেই ঠেলে দিচ্ছে

মোবায়েদুর রহমান: প্রায় বছরখানিক ধরে রাজনীতির অঙ্গনে একটি জোর গুজব বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেটি হলো, আগামী নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে প্রধান বিরোধী দল করে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পার্টি বানানো হবে বিএনপিকেও অপজিশনে রাখা হবে, তবে তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে। এই লাইনে সরকারের কাজ এখনও চলছে। তবে আগের হিসাব কিছুটা ঘুরে গেছে বলে মনে হয়।

কারণ, এক বছর আগে বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি সংসদে তো নয়ই, রাজপথেও ছিল না। আওয়ামী ঘরানার অনেক বুদ্ধিজীবি মনে করেছিলেন যে, বিএনপি অখন্ড পাকিস্তান আমলের মুসলিম লীগের পরিণতি ভোগ করবে। কিন্তু সেটি হয়নি।শকুনের অভিশাপে গরু মরেনি। বিএনপি এক বছর পরে, অর্থাৎ বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হয়েছে। কালক্রমে আওয়ামী লীগে যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মত নেতা অসাধারণ জনপ্রিয়তা নিয়ে উত্থিত হয়েছেন, তেমনি বর্তমানেও বেগম খালেদা জিয়া অসাধারণ জনপ্রিয়তা নিয়ে উত্থিত হয়েছেন।বিএনপির অবস্থা মুসলিম লীগের মত তো হয়ইনি, বরং আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তায় ভয়াবহ ধ্বস নেমেছে এবং দলটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কেন এমন হলো সেটি সম্পর্কে সঠিক ও নিরপেক্ষ ধারণা পেতে হলে আমাদেরকে সেই পাকিস্তান আমলে ফিরে যেতে হবে। আসুন আমরা কয়েক দশক পেছনে ফিরে তাকাই।

যারা প্রবীণ নন, তারা হয়তো জানেন না যে, মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান হাসিল হলেও পরবর্তীতে মুসলিম লীগ প্রথমে মাঠ এবং পরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে দেরী হওয়ায় এই দলটি সমগ্র ছাত্র সমাজ এবং যুব সমাজের বিদ্বেষ অর্জন করে।যদিও ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের শাসনতন্ত্রে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, কিন্তু ১৯৫৩ সালে বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর প্রধান মন্ত্রীত্বের আমলেই ঠিক করা হয় যে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে। কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে। ৫২ সালের রক্ত ঝরার পর পূর্ব বাংলার বাঙ্গালীদের মনে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, মুসলিম লীগ সেই ক্ষত শুকাতে পারেনি।এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, তখনও বর্তমান বাংলাদেশের নাম পূর্ব পাকিস্তান হয়নি। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তান হয়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এটির নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান।

২৬ মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানের নাম হয় বাংলাদেশ। যাই হোক, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এবং পূর্ব বাংলার বাঙ্গালীদের মনে বঞ্চনার ভাব সৃষ্টি হওয়ায় ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। তারপর থেকেই সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।১৯৪৯ সালে মুসলিম লীগেরই একটি অংশ আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে। পরবর্তীতে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলটিকে আওয়ামী লীগ করা হয়।কিন্তু সাবেক পশ্চিম পাকিস্তানে মুসলিম লীগের অবস্থা এমন শোচনীয় হয়নি। আর সেখানে ৫২ সালের মত পরিস্থিতির উদ্ভব না ঘটায় শাসক দল মুসলিম লীগ কোনো বড় ধরণের ব্লান্ডার করেনি।আওয়ামী লীগের জন্ম এবং বিএনপির জন্মের মধ্যে একটি সাধারণ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। উপমহাদেশে মুসলমানদের তাহজীব তমদ্দুন এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম লীগের জন্ম হয় এবং ভারত ভেঙ্গে সেই সব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

সেই অর্থে ১৯৪৭ সালের ১৪ অগাস্ট স্বাধীনতা পর্যন্ত মুসলিম লীগ ভারতবর্ষের মুসলমানদের চিন্তাধারা ও অনুভুতিকে ধারণ করতে পেরেছিল। তাই ভারত ভেঙ্গে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান কায়েমের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষিত বদলে যায়।পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে দেড় হাজার মাইল দূরে থাকায় এই অঞ্চলের বাঙ্গালীদের আবেগ, অনুভুতি, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু মনোযোগ দিতে পারেনি। ফলে বাঙ্গালীদের মাঝে ধীরে ধীরে একটি বঞ্চনা বোধের সৃষ্টি হয়।পূর্ব বাংলার বাঙ্গালীদের এই অনুভুতিকে আওয়ামী লীগ সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয় এবং সেটি তারা ধারণ করে। এই পরিবর্তিত উপলব্ধির ফলেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের একটি অংশ মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে।

\দুই\

পরবর্তী ইতিহাস সকলেই জানেন। মুসলিম লীগ জনবিচ্ছিন্ন হতে হতে ক্ষমতাকেন্দ্রিক পার্টিতে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যকে প্রধান ইস্যু করে এবং সেই ভিত্তিতে মাঠে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যায়। ঠিক একই পথ অনুসরণ করে বিএনপির জন্ম হয়।পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীদের আশা আকাঙ্খাকে প্রধান ইস্যু করে আন্দোলন করায় আওয়ামী লীগ জনপ্রিয় হয়। তাদের আন্দোলনের চ‚ড়ান্ত পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ হয় এবং পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে আবিভর্‚ত হয়।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ঠিক পাকিস্তানের মতই নতুন প্রেক্ষিত সৃষ্টি হয় এবং জনগণের মনে নতুন চিন্তাধারার জন্ম লাভ করে। পাকিস্তান আমলে মুসলিম জাতীয়তাবাদের ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে এই অঞ্চলের মানুষের বাঙ্গালী সত্তা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। পরিণতিতে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ সৃষ্টি হওয়ার পর তৎকালীন সরকার এবং আওয়ামী লীগ বাঙ্গালী সংস্কৃতি এবং বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদের ওপর মাত্রতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে সেই একই বাঙ্গালীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ এবং মুসলিম সত্তা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।জনগণ আওয়ামী লীগ থেকে সরে যায়। কিন্তু ঐ সময় বিরোধী দল হিসেবে যে দুটি বড় দল রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল তারা জনগণের নতুন অনুভুতি এবং আশা আকাঙ্খাকে ধারণ করতে পারেনি। দল দুটি হলো ভাসানী ন্যাপ এবং জাসদ।জাসদের সিরাজুল আলম খান, আসম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ প্রমূখ নেতা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিলেও তারা মুসলিম চেতনা সম্পর্কে সযতেœ নীরবতা পালন করে।ফলে আওয়ামী লীগ বিরোধী হিসেবে তাদের প্রতি জনগণের নেতিবাচক সমর্থন থাকলেও সেটি কখনো ইতিবাচক সমর্থন হয়ে উঠতে পারেনি।১৯৭৫ সালে ক্ষমতার পট পরিবর্তন ঘটলে জেনারেল জিয়াউর রহমান প্রথমে জাগোদল ও পরে বিএনপি গঠন করেন।

স্বাধীনতার ঘোষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে জনগণের মধ্যে এমনিতেই তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। এর সাথে তিনি যখন ইসলামী মূল্যবোধ এবং ভৌগলিক সীমারেখাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ জনগণের নিকট উপস্থাপন করেন তখন জনগণ সাথে সাথেই তার এই দর্শন ও তত্ত তথা আদর্শ গ্রহণ করেন।এর মধ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এসে হাজির হয়। সেটি হলো, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেখা গেল, ভারতকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যকারী হিসেবে যতটা নিঃস্বার্থ বন্ধু ভাবা হয়েছিল তারা ততটা নিঃস্বার্থ নয়।তারাও বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে শোষন ও বঞ্চিত করতে শুরু করে এবং বাংলাদেশের ওপর প্রভুত্ব ফলায়। জেনারেল জিয়াউর রহমান ভারতের এই আধিপত্যবাদী ভ‚মিকাকে মেনে নিতে পারেননি। বরং তিনি বাংলাদেশকে ভারতের আধিপত্যবাদ মুক্ত একটি সত্যিকারের স্বাধীন দেশ হিসেবে গড়ে তোলায় ব্রতী হন। জেনারেল জিয়ার এই ভূমিকাকে জনগণ সর্বান্ত করণে গ্রহণ করে।

\তিন\

যেসব কারণে মুসলিম লীগের পতন হয় সেসব কারণ বিএনপির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। বিএনপি মুসলিম লীগের মত প্যালেস পলিটিকস বা প্রাসাদ রাজনীতির মধ্যে নিজেদেরকে বন্দী করেনি। পাকিস্তান আন্দোলন ছিল একটি আদর্শের আন্দোলন এবং মুসলিম লীগ ছিল সেই আন্দোলনের পতাকাবাহী।কিন্তু মুসলিম লীগ ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানে সংগঠন করেনি। ফলে পাকিস্তান কায়েম হওয়ার পর মুসলিম লীগ যখন ক্ষমতায় যায় তখন তারা সামরিক ও বেসামরিক আমলা এবং ধনবান ব্যক্তি অর্থাৎ বুর্জোয়াদের কবলে বন্দী হয়। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে সেটি ঘটেনি।জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। একই সাথে বিএনপি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় এবং উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলে। এমনকি অধিকাংশ ইউনিয়নেও বিএনপির শাখা বা সংগঠন রয়েছে।

এসব শাখা সংগঠন একেবারে কোনো সময়ই নিষ্ক্রিয় হয়নি।
আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর রয়েছে। এই ফ্যাক্টরটি বিএনপিকে বিলীন হতে দেয়নি। সেটি হলো, ৯৬ ছাড়া পরবর্তী ২ টার্মে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার গণতান্ত্রিক আচরণ করেনি।

তাদের দলীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডের মধ্যে ফ্যাসিবাদ বারবার প্রবলভাবে মাথা চাড়া দিয়েছে। আওয়ামী সরকার তার বিরোধীদেরকে মোটেই সহ্য করতে পারেনি। প্রধান দুটি বিরোধী দল হলো বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী। এই দুটি দলের ওপর ১০ বছর আগে থেকেই নেমে এসেছে জুলুমের স্টীম রোলার।আজও সে জুলুম অব্যাহত রয়েছে। অনেক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা বেমালুম ভুলে গেছে যে জুলুম এবং নির্যাতন করে রাজনৈতিক আদর্শ এবং রাজনৈতিক বিরোধিতাকে দমানো যায় না।ভয়াবহ জুলুম রাজনৈতিক বিরোধী কণ্ঠকে হয়তো সাময়িকভাবে স্তব্ধ করতে পারে। কিন্তু স্থায়ীভাবে পারে না। সময় এবং সুযোগ মত দ্বিগুন বা বহুগুন শক্তি নিয়ে বিরোধীরা রাজনৈতিক সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপির জনপ্রিয়তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষুন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিগত ১০ বছর ধরে আওয়ামী সরকারের জুলুম নির্যাতন মানুষকে বিএনপির ঐসব ব্যর্থতার কথা ভুলিয়ে দিয়েছে এবং তাদের সমর্থন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেড়েছে।আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর রয়েছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ না করে বরং তার নামকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনকে গভীর মনোযোগের সাথে স্টাডি করেনি।বিরোধী দলের নেতা হিসেবে যতই জুলুম নির্যাতন নেমে এসেছে, যতই তিনি কারাভোগ করেছেন ততই শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা এবং শক্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি বিশেষ কারণে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে।

এই দৃষ্টিকোন থেকে আওয়ামী লীগ যদি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনকে বিবেচনা করেন তাহলে তারা দেখবে যে, মামলা মোকদ্দমা থেকে শুরু করে জেল-জুলুম এবং অন্যান্য হয়রানির ফলে বেগম জিয়া তথা বিএনপির জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা থেকে শুরু করে তার বিরুদ্ধে চলমান ৩৬ টি মামলার ফলে জনগণের গভীর সহানুভুতি বেগম জিয়ার দিকে চলে গেছে। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়াকে ৫ বছরের কারাদন্ড দেওয়ার ফলে রাতারাতি বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে।পাকিস্তান সরকার যেভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তাকে আকাশচুম্বী করেছিল ঠিক তেমনিভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাকে আকাশচুম্বী করছে।

একটি কথা আজ আমি স্পষ্ট বলতে চাই, বেগম জিয়া যদি আর ৬ মাস কারাগারে থাকেন এবং তার মুক্তির দাবিতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন যদি অব্যাহত থাকে তাহলে সরকার দেখতে পাবেন যে শেখ মুজিবের উত্থান ঘটেছে যে পথে বেগম জিয়ার উত্থানও ঘটবে সেই পথে।যেখান থেকে এই লেখাটি শুরু করেছিলাম এখন আবার সেখানে ফিরে যাচ্ছি। আমি শুরুতেই বলেছি যে বিগত ২/৩ বছরে রাজনীতির প্রেক্ষাপট আমূলভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন আর সরকার চাইলেই জাতীয় পার্টিকে দ্বিতীয় দল করতে পারবে না। আর চাইলেই বিএনপিকেও দ্বিতীয় দল করতে পারবে না।এবার যদি জনগণ ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারে তাহলে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নয়, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি পার্লামেন্টে আসবে। যদি তক্তা উল্টে যায় তাহলে আরো অনেক কিছুই ঘটবে যেগুলো এখনো অনেকের কল্পনাতেও আসেনি।

About editor

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …