Saturday , July 21 2018
Home / পাঠক কলাম / রোহিঙ্গা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি

রোহিঙ্গা নিয়ে বিশ্ব রাজনীতি

পার্শ্ববর্তী মায়ানমারের রোহিঙ্গা সমস্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গলার কাটার মতো অবস্থা।  এ সম্প্রদায় নিয়ে বিশ্ব আজ দুই মেরুতে বিভক্ত। বলা যেতে পারে রোহিঙ্গা ইস্যু বিশ্বরাজনীতিতে দুষ্ট চক্রে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘেরর সাধারণ অধিবেশনের ৩য় কমিটিতে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার সংবলিত করার জন্য একটি রেজুলেশন করা হয়।

যার লক্ষ্য হল রোহিঙ্গা সমস্যারর সমাধান। কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত হয় এই কমিশন। এটি সমাধানের জন্য প্রস্তাবক দেশ হল সৌদিআরব।  প্রস্তাবের পক্ষে বিপক্ষে ভোট প্রদানকে কেন্দ্র করে বিশ্ব দুটি ভাগে বাগ হয়ে যায়।

 

যেখানে হ্যা ভোট দেয় ১৩৫ টি রাষ্ট্র। যারা এই সমস্যার সমাধান চায়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০ টি দেশ। হ্যা না কোন মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন ৩৫ টি দেশ তাদের কৌশল গত অবস্থানের কারণে।

 

হ্যা ভোট প্রদান করে রোহিঙ্গাদের পক্ষে অবস্থান নেয় আমেরিকা,কানাডা,ব্রিটেন,ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবকটি দেশ এবং আরব বিশ্ব। বিপক্ষে অবস্থান নেয় রাশিয়া, চীন,কম্বোডিয়া,ভিয়েতনাম সহ দশটি দেশ।

 

মজার বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশেরর সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভারত কোন ভোট প্রদান করে নি। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে তাদের ভূমিকা অস্পষ্ট। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড দাতা দেশ জাপানও নেই বাংলাদেশের পেছনে। এবং ভারত প্রভাব বলয়ের মধ্যে অবস্থিত নেপাল,ভূটান,শ্রীলংকা ভারতের সাথে একাত্মতা পোষন করে ভোট প্রদান থেকে সরে আসে।

 

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে সিরিয়া মুসলিম দেশ হওয়া সত্বেও না ভোট দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। যার সমীকরনে উত্তর মিলবে পলিটিক্স এ রাজনীতি।

 

যুক্তরাষ্ট্র খুব ষ্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে রোহিঙ্গাদের পক্ষে।

USA এর পররাষ্ট্র মন্ত্রী  রেস্ক কিলারসন ( বর্তমানে ট্রাম্প কর্তৃক বরখাস্ত) মায়ানমার সফরে ষ্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্গনের বিষয়টি জোরালো ভাবে উপস্থাপন করেছে।

 

তিনি খতিয়ে দেখতে চেয়েছেন এটি জাতিগত নিধন কিনা। তার কিছুদিন পর তার দেশের অবস্থান অারও শক্ত করেন। তারা রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার জন্য বিশ্ববাশীকে আহবান জানান। বন্ধু দেশ ভারত ও দাতা দেশ জাপান পাশে না থাকলেও বাংলাদেশ পায় অন্যতম পরাশক্তি আমেরিকাকে।

 

বাংলাদেশ নীতিগত ভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাডানোর জন্য বর্তমান সরকারের সাথে মধ্য প্রাচ্যের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তুরস্ক সহ অন্যান্য দেশের তার কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও সম্পর্ক আগের থেকে অনেক ভাল হয়েছে।

 

মিয়ানমার কে চাপে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়িয়েছে। যার কিছু বাস্তব কারনও আছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন রাশিয়ার পুজিবাদ ও সমাজতান্ত্রিক দ্বন্দ্ব আজ নতুন নয়। সেই ক্ষেত্রে আমেরিকা চীন ও রাশিয়াকে শায়েস্তা করার জন্য রোহিঙ্গা একটি ইস্যু মাত্র। মুসলিম দরদী হয়ে তাদের পাশে দাঁডানো মুলত উদ্দেশ্য নয়।

 

আমরা জানি যে মিয়ানমার অনেকটা চীন ও রাশিয়া ঘেষা। মিয়ানমারেরর রাজনীতি, অর্থনীতি,পররাষ্ট্র থেকে শুরু করে প্রায় সব কিছুতেই রয়েছে চীনের থাবা।

 

সম্প্রতি মিয়ানমারেরর উন্মোক্ত গনতান্ত্রিকতার সুযোগ নিয়ে রাখাইন প্রদেশে চীনের অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে। যেখানে গার্মেন্টস থেকে শুরু করে যাবতীয় পন্য উৎপাদন কেন্দ্র হবে। রোহিঙ্গা নিধনে এই বানিজ্য একটি কারন বলা যেতে পারে।

 

এখানে অবশ্য ধর্মীয় কারণ অনেকটা জড়িত। কারণ চীনে বৌদ্ধ মিয়ানমারেও বৌদ্ধ। জাপানের সাথেও এ ধর্মীয় কারণ জড়িত, জাপানেও বৌদ্ধ। কিন্তু সবচেয়ে গুটিবাজী করছে রাশিয়ার পুতিন।

 

পুতিন তার ভাষনে বলেছে “” মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে এটা বলা বলা উচিৎ নয়। বরঞ্চ মিয়ানমারের স্বাধীনতা আছে সন্ত্রাস দমন করে সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার””। রাশিয়ার এ কথা বলাটাও তাদের স্বার্থের সাথে সম্প্রিক্ত।

 

রাশিয়ার অস্র বাজারের যে কয়টি দেশ আছে মিয়ানমার হচ্ছে তাদের অন্যতম একটি। কারণ মিয়ানমার হল সেনা শাসিত একটি দেশ। বর্তমানে গনতান্ত্রিক শাসন থাকলেও ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রন করে সেনাবাহিনী।

 

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র,স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রন করে। অস্র ক্রয়ের জন্য রাশিয়ার  সুচির সাথে যোগাযোগ করতে হয় না, হয় সেই দেশের সেনাবাহিনীর সাথে।

নিজেদের অস্রের বাজার চাঙ্গা এবং আমেরিকার বিরোধিতাই মূলত রাশিয়ার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানে সবচেয়ে বড় বাধা হল রাশিয়ার এই পুতিন।

 

তবে সবচেয়ে বড় অবাক করার মত বিষয় হল সিরিয়ার রোহিঙ্গা ইস্যুতে না ভোট প্রদান। যা প্রতিটি  মুসলিমের হৃদয়ে রক্ত ক্ষরনের সৃষ্টি করেছে। বাশার আল আসাদ মুসলিম শাসক হয়েও রোহিঙ্গারদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান শুধু মুসলিম নয় পুরো বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।  যেটার উত্তরও ঐ পলিটিক্সে রাজনীতি।

 

কারন হিসেবে যেটা দেখা যায় গত কয়েক বছর ধরে আসাদকে উৎখাত করার জন্য সিরিয়ার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। সিরিয়ায় রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার করে শিশু হত্যার অভিযোগে আসাদের সামরিক ঘাটিতে প্রায় ৫৯ টি হামলা চালায় ট্রাম্প প্রসাশন। রাশিয়া তার বিরোধিতা করে আসাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করে।

 

আসাদের ক্ষমতার মসনদকে টিকিয়ে রাখার জন্য  আমেরিকার সাথে রাশিয়ার দ্বন্ব চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে। এই জন্যই মুলত সিরিয়ার আসাদ সরকার বন্ধু রাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে তাদের মতো ‘”না”’  ভোট দিয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

 

আসলে এটা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, অবস্থানটা হল মানবতার বিরুদ্ধে।

আমরা এটাকে অনেকেই ধর্মীয় ইস্যু বলে বিশ্লেষণ  করি।

আসলে ধর্ম কোন ইস্যু নয়।  পক্ষ বিপক্ষে অবস্হান মুলত যার যার স্বার্থ নিয়ে। একটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার। আমেরিকা কেন মুসলিমের পক্ষে এসে দাডালো।  আসলেই কি মুসলিমেরর সহযোগিতা এদেরর লক্ষ্য।

 

এমন সুন্দর ভাবনার কোন কারণ নেই!!

আমরা যদি আমাদের দৃষ্টি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদের পবিত্র ভুমির দিকে লক্ষ্য করি। তাহলে দেখি যে ইসরাইল দ্বারা বছরের পর বছর মুসলিমরা মার খাচ্ছে। মসজিদুল আকসা দখল করে আছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রেরর বলার কিছুই নেই।  বরঞ্চ ইসরাইলের সবচেয়ে বড় মদদ দাদা হল এই যুক্তরাষ্ট্র।

যাই হোক এই অসময়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁডানো সত্যিই সময়ের দাবি ছিল। যাদের দেওয়ার মত কিছু নেই, বাংলাদেশের উপর এক বোঝা হিসেবে আছে। মুসল িম বিশ্বের কোন দেশ তাদের নিতে সাহস পায়নি।

কিছু ত্রান পাঠিয়ে মিডিয়া কাভারেজ করে ফুরুত।

সেই সময় বাংলাদেশের সরকার এত লোকের বাসস্থানের সুযোগ করে দিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সত্যিই প্রশংসিত।

 

তবে আশার কথা হল আমেরিকা যাদের পক্ষ নেয় তাদের স্থায়ী একটা সমাধান হয়।  আমরা আশায় রইলাম।।।

 

-জাহিদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

About thejubi72

Check Also

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও গরুর গল্প

“একলোক আগে প্রতিদিন ৬০ টাকা ধরে দুধ কিনতো ।মাসে যাইত ১৮০০টাকা! চিন্তা কইরা দেখলো প্রতিদিন …