Wednesday , October 17 2018
Home / পাঠক কলাম / কল্পকাহিনী লিখে কি বিজ্ঞানী হওয়া যায় ?

কল্পকাহিনী লিখে কি বিজ্ঞানী হওয়া যায় ?

জাফর ইকবালের যোগ্যতা খুজতে গিয়ে দেখলাম সে সাইন্স ফিকশন লেখক। শতাধিক সাইন্স ফিকশন বই নাকি সে লিখেছে (যদিও সবাই বলে বইগুলো নাকি বিদেশী গল্পের অনুবাদ)। সাইন্স ফিকশন শব্দের অনুবাদ করলে দাড়ায় ‘বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী’। ছোট বেলায় কিছু সাইন্স ফিকশন পড়েছিলাম। সেখানে দেখতাম কল্পনার জগৎ বিস্তার করতে করতে লেখকরা বলে বসেছে- “ ভিনগ্রহে এলিয়েনের বসবাস। পৃথিবীর বাইরে অমুক গ্রহে অমুক এলিয়েন বাস করে। এলিয়েনরা মানুষের থেকে উন্নত।”

অথচ বর্তমান বিজ্ঞান এখনও এলিয়েন আবিষ্কার করতে পারেনি। মানুষের থেকে উন্নত প্রাণী আছে কি নাই, তাও বিজ্ঞানের ঝুলিতে লব্ধ নয়। বিজ্ঞান শব্দটির সংজ্ঞায় বলা আছে- “ভৌত বিশ্বের যা কিছু পর্যবেক্ষণযোগ্য, পরীক্ষণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য, তার সুশৃঙ্খল, নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা ও সেই গবেষণালব্ধ জ্ঞানভাণ্ডারের নাম বিজ্ঞান।” অর্থাৎ গবেষণালব্ধ সম্যক জ্ঞানই বিজ্ঞান। কিন্তু কল্পকাহিনী বা সাইন্সফিকশন কোন যুক্তিতে বিজ্ঞান বলা হচ্ছে ?

আমি দেখেছি একদল লোক আছে, যারা নিজেদের বিজ্ঞানী বলে দাবি করে আবার ধর্মের বিরোধীতা করে। বলে- “সৃষ্টিকর্তা বলে কিছু নাই সব কল্পকাহিনী।” যদিও তাদের এ ধরনের চিন্তা অযৌক্তিক। কারণ ধর্ম ও বিজ্ঞান সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটো বিষয়। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস আর বিজ্ঞান হচ্ছে যতটুকু গবেষণা হয়েছে ঠিক ততটুকু। একজন বিজ্ঞানী যতটুকু গবেষণা করেছে, সেটাই যে শেষ তা নয়। তারপর আরেকজন আরো গবেষণা করে নতুন কিছু আবিষ্কার করবে। অর্থাৎ বিজ্ঞান নিজেই অসম্পূর্ণ। ধর্ম আর বিজ্ঞানের যেহেতু প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন (একটি বিশ্বাসের সাথে, অন্যটি গবেষনালব্ধ ফলাফলের সাথে), তাই দুটোকে এক কাতারে বিচার করা মূর্খতা বৈ কিছু নয়।

কিন্তু আমার কথা হলো, যারা বিজ্ঞানের কথা বলে ধর্মের বিরোধীতা করছে, তারা কেন সাইন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বিরোধীতা করছে না কিংবা তারাই কেন সাইন্স ফিকশন লেখক ?

আমার মনে হয়, যারা বিজ্ঞানের নামে কল্পকাহিনীর বিরুদ্ধে বলতে চায়, তাদের আগে উচিত সাইন্স ফিকশন লেখকদের বিরুদ্ধে বলা। বলাবাহুল্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কল্পকাহিনী লেখায় (নকল করায় !) জাফর ইকবাল অগ্রগণ্য।

About banglamail

Check Also

বাসার ভাড়াটিয়াকে জিম্মি করে তিন কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছেন শেখ রেহানা !

আমরা কেউই শতভাগ ফেরেস্তা না, মানুষ। তাই ভূল করি, পাপ করি! কিন্তু কেউ একজন বলতে …