Friday , July 20 2018
Home / পাঠক কলাম / সত্যিই কী আমরা সংবাদকর্মী?

সত্যিই কী আমরা সংবাদকর্মী?

আমাদের চোখের সামনে অহরহ একের পর এক অঘটনের শিকার হচ্ছেন দেশের সংবাদকর্মীরা। প্রাণ হারাচ্ছেন খুনিদের দারালো অস্ত্র ও বুলেটের নির্মম আঘাতে। সংবাদকর্মী যারা সংগঠনের পদপদবী নিয়ে দায়িত্ববোধের স্থানটি দখল করে রাখছি, তারা দেখছি তাকিয়ে দাবী করছি দায়িত্ববোধ পালন করছি।

রাজপথে সংবাদকর্মীরা লাঠিপেটা, টিয়ারশেল, ককটেল, রাইফেলের বাটের আঘাতে লুটিয়ে পড়ছেন মাটিতে। পায়ের বুটের আঘাতে পিচঢালা রাজপথে সংবাদকর্মীদের দেহ থেতলে দিচ্ছে প্রকাশ্যে। রাতের আধারে, দিবালোকে, জনতার সামনে কারনে অকারনে সংবাদকর্মীরা অহরহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তারপর আমরা ঐক্যবদ্ধ না হয়ে বিছিন্নভাবে মানুষকে দেখানোর জন্য নামেমাত্র রাজনৈতিক সীমানায় কয়েক মিনিটের প্রতিবাদ করবো?

তাই দেশের ও জাতির বিবেক সামাজের দর্পন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত আমার শ্রদ্ধাভাজন, বন্ধুবর ও স্নেহধন্য সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক ভাইদের কাছে ছোট্ট একটি নিবেদন, আমারা যে যেখানেই থাকিনা কেন, আমাদের পরিচয় একটাই আমরা সংবাদকর্মী। আমাদের প্রত্যেকের রাজনৈতিক দর্শন থাকতেই পারে সে চেতনাটি একেবারে ব্যক্তিগতভাবে রেখে দেই। সামিল হই পেশাদারিত্বের সাংবাদিক বা সংবাদ কর্মীদের সংগঠনের মুলনীতিতে। ঐক্যবদ্ধভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানাই সব নির্যাতনের বিরুদ্ধে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অনৈক্যের বেরাজালে জড়িয়ে নিজেকে কেউ আড়াল করতে গেলে, শুধু সংবাদকর্মী নয় সাধারণ নাগরিকদের কাছেও প্রশ্ন ওঠবে। এমন এক সময় আসছে সাধারণ নাগরিক বা নির্যাতিত সংবাদকর্মীদের স্বজনেরা জানতে চাইবেন। তারাও একদিন রাজপথে রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাবার পূর্বে যারা সংবাদকর্মী পরিচয়ে তাদের সংগঠনে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব নিয়ে বসে রয়েছি, তাদের কাছে জানতে চাইবেন, সত্যিই আমরা কী সংবাদকর্মী কীনা?

তারা যখন মুখোমুখি হয়ে জানতে চাইবেন, দেশের আনাচে কানাচে বিভিন্ন মিডিয়ার নানা বয়সের কর্মীরা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের জীবনের ঝুকী নিয়ে দেশের নাগরিকদের প্রাণের কথাগুলো রাষ্টের দৃষ্টিতে দেয়ার জন্য। তুলে ধরছেন রাষ্ট্র যেন আইনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার করে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ভাষণা পুরন করতে পারে। এ গুরু দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সাথে পালন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা সন্ত্রাসী, আপরাধী ও সমাজ বিরোধীদের হাতে অহরহ নির্যাতিত হচ্ছেন।

রাষ্ট্রযন্ত্র আইন নিয়ে বেআইনি ভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে সেই ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাড়াবার কথা। অধিক ক্ষেত্রে তারা তেমনটি যে করেন না, সেকথাও বলা যায় না। তবে জাতির বিবেক সমাজের দর্পন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকদের ওপর যেভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের একটি অংশ বারবার রক্তাক্ত আঘাত করে যাচ্ছেন তখন মনে দুঃখ লাগে। ঘৃণা হয় নিজের কাছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভাবছি, আমরা কোথায় পৌছে গেছি।

অনেকেই বলছেন, আমরা বেশ একটা নাজুক পরিস্থিতিতে পৌছে গেছি। এখানে আমাদের পৌছার কথা নয়, তবুও পৌছে যেতে বাধ্য হচ্ছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এমনটি অকপটে বলা যায়, সংবাদকর্মীদের অবস্থানটি যথার্থতায় নেই। এ জন্য দায়ী কে রাষ্ট্র না আমরা? এ প্রশ্নের সততার জবাবে অধিকাংশই বলবেন সংবাদকর্মীরা দায়ী। দায়ের মূল কারন হচ্ছে সংবাদকর্মীদের অনৈক্য। দায়সারা লোক দেখানো দায়িত্ববোধ প্রকাশ করা।

সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থান, আস্থা, অস্তিত্ব, সত্তা, ব্যক্তিত্ব, অবস্থান, সন্মান, প্রাপ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে যে সব সংগঠন রয়েছে তারা যথার্থতার সাথে প্রাপ্য দায়িত্ববোধ পালন করছেন? যাদের হাতে সংবাদকর্মীরা দায়িত্ব পালনের ভার দিয়েছেন এবং মনোনায়ন করে আসছেন, তাদের বিদ্যমান ভূমিকায় যথার্থতা ফুটিয়ে তুলতে পারছেন? সবাই একবাক্যেই বলছেন, না তারা ব্যর্থ। এ ব্যর্থতার জন্য দায়ী নিজেদেরকে রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভাসিয়ে দেয়া।

সাংবাদিক সংগঠনগুলো যুকে পড়ছে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের দিকে। বিভক্ত হয়ে পড়ছে নানা ব্যক্তি ও রাজনৈতিক দলের পক্ষে। দলবাজি করতে গিয়ে নিজ সংগঠনের করণীয়টা একেবারে ভুলে যেতে বসছেন, যা মোটেই কাম্য নয়। এ কারনে আমাদের প্রাপ্য আদায়ের দাবীর স্থানটি আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ছে। পিছিয়ে যাচ্ছি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারনে নিজেদের অধিকার আদায়ের রাস্তা থেকে। তাইতো এখানে সেখানে যারতার হাতে সংবাদকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

জানামতে বরিশাল ও বরগুনায় দু’সংবাদকর্মী দু’ভাবে নির্যািতনের শিকার হয়েছেন। বরগুনার সংবাদকর্মী সন্ত্রাসী কর্তৃক এবং বরিশালের সংবাদকর্মী রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশের কয়েকজন সদস্য কর্তৃক। যেভাবেই নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকুননা কেন, তারা নির্যাতনে শিকার হয়েছেন এটাই সত্যি। তাদের দেহের রক্ত ঝড়ছে, সামাজিকভাবে সন্মান হারিয়েছেন, পড়ছেন নিরাপত্তাহীনতায়। তাদের পরিবার রয়েছেন আতঙ্কে। কিন্তু কেন?

বলার অপেক্ষা রাখেনা, রাজপথে সংবাদকর্মীরা লাঠিপেটা, টিয়ারশেল, ককটেল, রাইফেলের রাইফেলের বাটের আঘাতে লুটিয়ে পড়ছেন মাটিতে। পায়ের বুটের আঘাতে পিচঢালা রাজপথে সংবাদকর্মীদের দেহ থেতলে দিচ্ছে প্রকাশ্যে। রাতের আধারে, দিবালোকে, জনতার সামনে কারনে অকারনে সংবাদকর্মীরা অহরহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় কোনো প্রতিবাদ নেই। সব প্রতিবাদ যে রাজনৈতিক ধামাঢোলের জালে আটকে গেছে।

রাজপথের সমষ্টিগত প্রতিবাদ চলে গেছে গাছতলায় কয়েকজনের ছবি মিডিয়ায় প্রকাশের জন্য নামেমাত্র কয়েক মিনিটের প্রতিবাদে। ব্যক্তি পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ করছেন নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার সীমানার মধ্যে। এমন প্রতিবাদ চলছে বলেই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যে যেখান থেকে পারছে সংবাদকর্মীর ওপরা ঝাপিয়ে পড়ছে বলেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এতো ঘটনার পরও কী প্রশ্ন জাগবেনা আমরা সংবাদকর্মী কীনা?

About rajubanglamail

Check Also

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও গরুর গল্প

“একলোক আগে প্রতিদিন ৬০ টাকা ধরে দুধ কিনতো ।মাসে যাইত ১৮০০টাকা! চিন্তা কইরা দেখলো প্রতিদিন …