Wednesday , October 17 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / জামায়াত- শিবিরের কর্মীরা দাড়ি ছোট রাখে ও পাঞ্জাবী পরেনা কেন?

জামায়াত- শিবিরের কর্মীরা দাড়ি ছোট রাখে ও পাঞ্জাবী পরেনা কেন?

উত্তর:- হজম করতে কষ্ট হলেও লিখলাম, অনেকের খারাপ লাগবে, কারন,কথায় আছে গরম ভাতে বিলাই বেজার, তবুও পড়ার অনুরোধ রইল। আচ্ছা বুজুর্গ সাহেবরা আপনারা লম্বা করে ফতোয়া দেন জামায়াত শিবিরের ছেলেরা পেন্ট শার্ট পরি, আমরা লম্বা দাড়ি রাখি না পাঞ্জাবি জুব্বা পরি না, আমাদের আবার কিসের ইসলাম, আমরা কাফের এই সেই কত কি?

আচ্ছা আপনারা লম্বা দাড়ি, আর জুব্বা পড়েই বা কি করেছেন?? হাদিয়া আর দাওয়াত খাওয়া ছাড়া, আরে ব্রিটিশ শাসনের সময় দেশে তো বুজুর্গের অভাব ছিল না, কই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নিজের গলার সুরটা কয়বার উচু করেছেন?? উলটো ফতোয়া দিয়েছেন যারা ইংলিশ শিখবে, যারা ব্রিটিশদের অধীনে চাকরি করবে তাদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়াও জায়েজ নাই। ফলে মুসলমানরা দিনের পর দিন না খেয়ে কষ্ট পেয়েছে, ইংলিশ তো ঠিকই শিখলেন। আচ্ছা দেখেন তো তুরস্কের দিকে, যে দেশটাতে ৪০ বছর মুসলমানদের উপর অত্যাচার করেছে, অই দেশে কি বুজুর্গ কম ছিল?? কম ছিল না কিন্তু দাওয়াত খাওয়া ছাড়া আর কিছুই জানত না, শেষ পর্যন্ত যে ব্যাক্তিটা সেই দেশে ইসলামি বিপ্লব ঘটিয়েছে তিনি পেন্ট শার্ট শুট কুট পড়ুয়া এরদোগান সাহেব, একটা কথা শুনলে আপনারা লজ্জা পাবেন সেটা হল, রাসূল (সা:) এর শ্রেষ্ট যোগের পর থেকে এই পৃথিবীতে যত ইসলামি বিপ্লব হয়েছে সব বিপ্লব পেন্ট শার্ট ওয়ালারাই করেছে,জীবন দিয়েছে পেন্ট শার্ট ওয়ালারাই, আপনারা শুধু চেয়ে দেখেছেন আর ফতোয়া দিয়েছেন, ব্রিটিশ বিরুধী আন্দোলনের নায়ক, শেরে বাংলা ফজলুল হক, হাজী শরিয়ত উল্লাহ, তিতূমীর, তারা সবাই সাধারন মুসলমান ছিলেন বুঝলেন??

আরে বুজুর্গ সাহেব আপনি শিবিরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন, আচ্ছা আপনাকে প্রশ্ন করি আপনি তো দ্বীনের দায়ী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন, আচ্ছা সিগারেট খায় বদমাশি করে, গুন্ডামি করে এরকম কয়টা ছেলের কাছে আপনি ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছেন? আপনারা মাদ্রাসায় পড়ান শুধু মাদ্রাসার ছাত্র- ছাত্রীদের কে ইসলাম শিখালেন, স্কুলের এরা কি পাপ করেছে? মাদ্রাসার এরা হল একটা নরম মাটির মত, যে মাটিতে চাইলেই চারা রূপন করে ফল পাওয়া যায় কম বেশি কারন মাদ্রাসার পরিবেশটাই অন্য রকম। কিন্তু একটা স্কুলের ছাত্র সে একটা শক্ত মাটি , তাকে আগে নরম করে তারপর তার মনে ইসলামের চারা রুপন করতে হয়। আমরা এইটাই করি, আমরা শক্ত মাটিকে শ্রম দিয়ে,গায়ের ঝরানো ঘাম দিয়ে নরম করি, তারপর চারা রূপন করি, আর আপনারা তৈরী করা নরম মাটিতে চাষ করেন আর, যারা শক্ত মাটিকে নরম করে চাষ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন।

আচ্ছা আপনারা চেয়ারে বসে মাইকের মাধ্যমে তাফসীর করেন, এটা অনেকনে ভাল কাজ,মানুষ তাফসীর শুনে ২/১ দিন আমল করে তারপর শেষ, আরে বুজুর্গ সাহেব,শিবিরের ভাইয়েরা একটা ছাত্রকে ইসলামের দিকে আনার জন্য মাসের পর মাস আঠার মত লেগে থাকে, পকেটের পয়সা খরচ করে, শেষ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তার হেদায়েতের জন্য, তাদের বিরুদ্ধে আপনি ফতোয়া দেন? আপনি কয়দিন কেদেছেন? কয়দিন সেই সব ছাত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছেন, যে ছাত্রগুলো, নেতার সাথে, নেশার সাথে মিশে নিজেকে শেষ করে ফেলেছে?

আরে বুজুর্গ সাহেব আজকে শিবিরের যে সাবেক সভাপতি জেলখানায় বন্দি, শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভাই, উনাকে সংগঠনে আনার জন্য শিবিরের দায়ীত্বশীল ভাই একটানা এক মাস এক কিলোমিটার পথ হেটে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়িয়েছেন এমনকি একদিন বৃষ্টির রাতে নামাজে ডাকতে গিয়ে দায়ীত্বশীল ভাই সাপের কামর খেয়ে মারা যাবার অবস্থায় চলে গিয়েছিল। এরকম অসংখ্য নজির আছে। সেই সব ছেলেদের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন??

যারা সরাসরি কুরআন পড়তে পারেনি, বাংলা কুরআন হাদিস শিখে হাজার হাজার, পথ হারা তরুন ছাত্র সমাজের কাছে কুরআনের দাওয়াত পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছে। আচ্ছা যে স্কুলের ছেলেটা মাসেও নামাজের ধারে কাছে যায় না তাকে আপনি নামাজের দাওয়াত দিয়ে সাথে সাথে যদি বলেন আচ্ছা তুমি কাল থেকে পাঞ্জাবি পড়বে আর দাড়ি রাখবে তাহলে সেই ছেলে আপনারা ধারে কাছে আসার সম্বাবনা ০০০০% তাকে আস্তে আস্তে তার ভিতরে আল্লাহর ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে ইসলামের মৌলিক ইবাদাত গুলো মানার ব্যাপারে সচেতন করে দিলে সে এক সময় তার আমল দিয়ে সব চেইঞ্জ করে ফেলবে। আর এইটাই হল আমাদের অপরাধ আমরা পথ হারা ছাত্র সমাজের কাছে ইসলামের দাওয়াত সহজ ভাবে উপস্থাপন করি, “অথচ রাসূল (সা:) বলেন, তোমরা দ্বীনের দাওয়াতকে সহজ করো কঠিন করো না। সু’সংবাদ দাও বিতস্রদ্ধ করো না আবার কুরআনেও আছে “ডাকো তোমার প্রভুর দিকে হিকমত ও নসিহত সহকারে আর তর্ক কর উত্তম পন্থায়” সব কিছুর পর এদেশের বুজুর্গ সাহেব দেরকে সহ আলেম যারা আছে সবাইকে সম্মান করি।

আমরা দেখি একটা লোক- তা সে যত ভুলের মধ্যেই থাকুক না কেন, অন্য কেউ তার কাজে ছিদ্রান্বেষণ অথবা কোন ত্রুটি নির্দেশ করলে, তা সে কোনভাবেই বরদাশত করতে পারেনা। তাই দেখা যায়, যখনি কোন ব্যক্তির কোনরূপ ত্রুটি বা দুর্বলতা নির্দেশ করা হয় তখন ঐ ব্যক্তি রাগে ফেটে পড়ে এবং তার মধ্যে বিরোধিতার ভাব পরিলক্ষিত হয়। যত যুক্তিই তাকে দেখানো হোক না কেন, সে তার ত্রুটি এবং দুর্বলতা ঢাকার জন্য সাফাই গাইতে গিয়ে বহু রকমের যুক্তি প্রমাণ পেশ করবেই। এরও একমাত্র কারণ হলো- যেহেতু প্রত্যেকেই মনে করে যে তার মত ই নির্ভুল।

একথা সর্বজনবিদিত যে, মানুষের নৈতিক জীবনের সংশোধন, তার ক্ষতিকর বৃত্তিগুলোর অপনোদন এবং জীবনকে সঠিকভাবে কামিয়াব করে তুলবার উপযোগী একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন পদ্ধতি উপস্থাপন লিখলাম আর যা পড়েছেন, এগুলা আমাদের ধাম্বিকতা না, অহংকারও না, শুধু কিছু কথার জবাব দিলাম। আর হ্যা দাড়ি টুপি জুব্বা এগুলো পড়লেই যদি আল্লাহর ওলি হয়ে জান্নাতে যাওয়া যেত তাহলে সবার আগে জান্নাতে যাওয়া উচিত আব্দুল্লাহ বিন উবাইর কারন নবীজি যে জুব্বা পড়তেন সেই একই রকম জুব্বা পড়তেন আব্দুল্লাহ বিন উবাই শুধু তাই নয় তার মুখেও ছিলো লম্বা দাড়ি। আবু জাহেল, উতবা, শায়বা এদের মুখেও লম্বা দাড়ি ছিলো এরা সবাই জুব্বা পড়তেন তাহলে কি এরাও জান্নাতি হবে?? বাংলাদেশের দেওয়ান বাগী, কুতুব বাগী, রাজার বাগী আরো শত শত ভন্ড আলেম আছে যাদের মুখে দাড়ি গায়ে জুব্বা এরাও কি তাহলে জান্নাতে যাবে? কই একদিনও তো গলা উচু করে সরকার কে উদ্দেশ্য করে বলতে পারলেন না যে এরা কাফের এই ভন্ডদের আস্তানা গুড়িয়ে দিন এখানে কেন আপনার ফতুয়া নেই?? শুধু তাই নয় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছেলে মেয়েরা জিনা ব্যভিচার অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকে সর্বদা এমনও নজির আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরা মদ দিয়ে সকালে ব্রাশ করে কুলি করে কই এদের বিরুদ্ধে তো আপনার কোন ফতুয়া নেই?? অথচ একটা ছেলে কলেজ /বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে নামাজ পড়ছে, প্রতিদিন অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত করছে, হাদিসের কিতাব অধ্যয়ন করছে, ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করছে, শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সলাতে চোখের পানি ফেলে বাবা-মা, ভাই বোন, আত্মীয় স্বজনের জন্য, দেশের সার্বিক কল্যানের জন্য যে ছেলেটা রবের কাছে প্রার্থনা করছে সেই ছেলেটাকেই আপনি কাফের ফতুয়া দিয়ে দিলেন?? দাড়ি টুপি জুব্বা এগুলো নবীজির সুন্নাত কিন্তু ফরজে আইন এমন কোন বিষয় নয় সুতরাং শিবির এটা স্বীকার করে যে এর কারনে তাতের গুনাহ হচ্ছে তবে এটাও সঠিক যে কোন বড় কিছু পাওয়ার জন্য সামান্য কিছু ভুল সেটা ক্ষমার যোগ্য আর শিবিরের ছেলেরা সেটাই করছে। এমনকি সহিহ কোন হাদিস দ্বারা প্রমানিত নয় যে, দাড়ি,টুপি, জুব্বা না পড়লে সে কাফের, জান্নাতে যেতে পারবেনা, আল্লাহ এর জন্য পাকরাও করবেন, কিয়ামতের দিন এর জন্য জবাব দিহিতা করতে হবে, ফেরেশতারা কবরে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন এমন দলিল কি আপনি দিতে পারবেন?? তাহলে কেন শিবিরের বিরুদ্ধে ফতুয়া দেন? আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক দিক দেখে বিচার করেনা আল্লাহ দেখেন মানুষের কলবের ভিতরটা এবং সে অনুপাতেই তিনি বিচার করেন। সুতরাং শিবিরের বিরুদ্ধে ফতুয়া না দিয়ে তাদের সাথে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ দেশে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করুন, এই কাফেলায় শরিক হয়ে ইসলামের খেদমত করুন। আশা করি ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন কারন সত্যটা বুঝানোর জন্য একটু কঠোর কথা বলতে হয়েছে তবে এটাকে খারাপ মনে না করে সত্যটা অনুধাবন করুন। আল্লাহ আমাদের সকলকে সত্য বুঝার তাওফিক দান করুক।(আমিন)।

About banglamail71

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …