Wednesday , October 17 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / ইউএসটিসি’র ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী আতেফ শেখ হত্যার রহস্য উদঘাটন’

ইউএসটিসি’র ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী আতেফ শেখ হত্যার রহস্য উদঘাটন’

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
ইউএসটিসি’র ভারতীয় মেডিকেল শিক্ষার্থী মোঃ আতেফ শেখ (২৪), পিপিটি নং-৩৭৮৩১৬৪, জাতীয়তা-ভারতীয়, পিতা- আবদুল খালেক, মাতা-ফারিজোতান শেখ এর সাথে ঘটনাস্থল আকবর শাহ্ থানাধীন আব্দুল হামিদ রোড, লেকভিউ সোসাইটি, হাজী ইউসুফ ম্যানশন, বাড়ী নং-৬০৮/এ, ফ্ল্যাট নং-ডি/২ বাসায় ১) মাইসনাম উইনসন শিং (২৪), ২) গানঞ্জমাই নীরাজ (২৫) এবং ৩) তোঙ্গবরম জয়েস্তানা দেবী বসবাস করা অবস্থায় গত ১৪/০৭/২০১৭ ইং তারিখ অনুমান ১৯:০০ ঘটিকা হইতে ২২:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত তাহার ছেলে কতিপয় বন্ধু ১) প্রভাকর লাইসরাম, ২) মালেমনগনবা মায়েংবাম, ৩) অথোকপাম রোনাল্ড, ৪) প্রমোশ চাকমা টুকু, ৫) সজল চাকমা মুনসহ ড্রিংকস্ পার্টির ব্যবস্থা করেন।

তাহারা সকলেই ইউএসটিসি এর এমবিবিএস এবং বিবিএ কোর্সের ছাত্র। গত ১৪/০৭/২০১৭ ইং তারিখ ২২:৩০ ঘটিকা হইতে ২৩:৫০ ঘটিকার মধ্যে মাইসনাম উইনসন শিং এর রুম থেকে আতেফ শেখ কে গলা কাটা ও মাইসনাম উইনসন শিং কে ফ্যানের সাথে গলায় বেল্ট দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার পূর্বক তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অতপর কর্তব্যরত ডাক্তার বাদীর ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাদী সন্দেহ করেন যে, গত ১৪/০৭/২০১৭ ইং তারিখ ১৯:৩০ ঘটিকা হইতে ২৩:৫০ ঘটিকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাহাদের মারাত্মক আঘাতের কারণে বাদীর ছেলে মারা যায়। উক্ত ঘটনায় বাদী আব্দুল খালেক এজাহার দিলে আকবর শাহ্ থানার মামলা নং-২০, তারিখ-১৮/০৭/২০১৭ খ্রিঃ, ধারা-৩০২/৩৪ দঃ বিঃ রুজু হয়। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), জাকির হোসেন ভূঁইয়া মামলার প্রাথমিক তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি গানঞ্জমাই নীরাজকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন।

পরবর্তীতে গত ২০/০৭/২০১৭ ইং তারিখ পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো’র পুলিশ পরিদর্শক জনাব সন্তোষ কুমার চাকমা, পিপিএম-বার মামলার পরবর্তী তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামী মাইসনাম উইনসন শিং কে গ্রেফতার করেন। বারং বার রিমান্ডে এনে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মাইসনাম উইনসন শিং জানান যে, ঘটনার আগে পরে সব কিছু তার মনে থাকলেও ঘটনার সময়টুকু সে স্মৃতিচারণ করতে পারছে না।

যার প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের ০৬ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করে মাইসনাম উইনসন শিং এর মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করেন। মেডিকেল বোর্ড মাইসনাম উইনসন শিং ইচ্ছাকৃতভাবে স্মৃতিচারণ করতে না পারার বিষয়টি বলার চেষ্টা করতেছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

এতকিছুর পরও মাইসনাম উইনসন শিং ঘটনার বিষয়ে তার আগের অবস্থানে অনড় থাকায় ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন আলামত রক্ত, ছুরি, ছুরির বাট, চাদর ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাব, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা বরাবর প্রেরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রেরিত জবাবে জানান যে, প্রেরিত আলামত সমূহ রক্ত, ছুরি, চাদর থেকে একজনের ডিএনএ এবং ছুরির বাট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে।

যার প্রেক্ষিতে উক্ত ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে সন্দেহভাজন মাইসনাম উইনসন শিং ও গানঞ্জমাই নীরাজ এর ডিএনএ তুলনামূলক পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে তাদেরকে ডিএনএ ফরেনসিক ল্যাব, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা বরাবর প্রেরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন উভয়ের ডিএনএ এর সাথে ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত ডিএনএ তুলনামূলক পরীক্ষা করে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, ছুরির বাট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএ এর সাথে মাইসনাম উইনসন শিং এর ডিএনএ এর মিল পাওয়া গেছে। অপর সন্দেহভাজন গানঞ্জমাই নীরাজ এর ডিএনএ এর সাথে কোন ডিএনএ এর মিল পাওয়া যায় নাই।

সাক্ষীদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দী, মেডিকেল রিপোর্ট, ডিএনএ রিপোর্ট ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণে পিবিআই এর তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব সন্তোষ কুমার চাকমা, পিপিএম-বার কর্তৃক গ্রেফতারকৃত প্রধান সন্দেহভাজন আসামী মাইসনাম উইনসন শিং ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে জব্দকৃত ছোরা ব্যবহার করে ভিকটিম আতিফ শেখকে উপর্যুপুরি আঘাত করে গলা কেটে হত্যা করার পর আবেগতাড়িত হয়ে নিজের ব্যবহৃত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মর্মে প্রকাশ পায়।

ঘটনার মোটিভ জানার জন্য তাহাকে পুনরায় পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিজ্ঞ আদালতে পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করা হবে।

About banglamail

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …