Wednesday , October 17 2018
Home / ধর্ম​ / এখনো থামেনি ঘাতকদের ছোবল

এখনো থামেনি ঘাতকদের ছোবল

১১-ই মার্চ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে সুন্দর একটি নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যারা হামলা চালিয়েছিলো, তারা আজো থামেনি। তাদের হিংস্র ছোবল এখনো অব্যাহত আছে। সময় পাল্টেছে, মানুষ পাল্টেছে কিন্তু পরিবর্তন হয়নি হায়েনাদের রক্ত পিয়াসু মনোভাব।

সেদিন কি ঘটেছিলো! মতিহারের পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে। ইতিহাস বলে দেয়, একটি নবীণ বরণ করছিলে ইসলামী ছাত্রশিবির। সব কিছু ঠিক ঠাক চলছিল। যথারীতি অনুষ্ঠানও শুরু হয়েছিলো। কিন্তু সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে এই চমৎকার আয়োজনে গায়ে জ্বালা ধরে গেলো বাতিলপন্থীদের। তাই তারা অস্রসহ স্বদলবলে হামলা চালায় নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। জীবন কেড়ে নেয় সাব্বির আহমেদ, আবদুল হামিদ, আইয়ুব আলী ও আবদুল জাব্বারের। আর আহত করে অগণিত মেধাবী ছাত্রদের। এভাবেই সেদিন বাতিলরা শিক্ষাঙ্গণের পবিত্র মাটিকে রক্তাক্ত করে কলঙ্কিত করেছিলো মানবতা ও শিক্ষাকে।

৩৬ বছর আগের সেই নরপিচাশের দল আজও থেমে নেই। এখনও অভ্যাহত আছে তাদের বিষাক্ত ছোবল। সেদিনই তারা ধ্বংস করতে চেয়েছিলো ইসলামী ছাত্রশিবিরকে। ইসলামী আন্দোলনের উত্থানকে বাঁধাগ্রস্ত করতেই চালিয়েছিলো ইতিহাসের জঘন্য এই হত্যাকাণ্ড। কিন্তু সময়ের পরিবর্তণে তারাই আজ নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে। যাদের ব্যানার ধরার লোকও থাকে না ক্যাম্পাসগুলোতে। অথচ আজ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির তার সৌরভে গোটা দেশকে আলোকিত করে চলেছে।
এর আগেও এই একই অপশক্তিরাই শহীদ আব্দুল মালেককে হত্যা করেছিলো। কিন্তু ওরা জানে না, যে দেশে তিতুমিরের রক্ত বহমান, সেদেশে ইসলামী আন্দোলনকে মুছে ফেলা যায় না। মেধাবী তরূণদের গুম-খুন করে ইসলামের আদর্শ থেকে দূরে সরানো যায় না। কারণ এদেশের মানুষের রক্তের প্রতিটি কণায় মিশে আছে ইসলামের সুমহান চেতণা।

ইসালামী আদর্শের সামনে ঠুনকো সমাজতান্ত্রিক মতবাদকে ছাত্রদের মাঝে গ্রহণযোগ্য করতে না পেরেই তারা মেধাবী ছাত্রদের হত্যার উৎসবে মেতে উঠে। আর উল্টো শিবিরকেই হত্যাকারী বলে প্রলাপ বকতে থাকে। তারা একটি সূত্রের ব্যাপকভিত্তিক প্রচার করছে। তা হচ্ছে, একটি মিথ্যা কথাকে বারবার প্রচার করলে একদিন তা সত্যে পরিণত হয়ে যায়। এই সূত্র থেকেই তাদের মিথ্যার বেসাতি গাইছে। কিন্তু ইতিহাস সব সময় ঘুরে ফিরে সত্যের কাছেই ফিরে আসে এবং আসবে। একটু চোখ মেললেই দেখা যায়, কারা বিশ্বিবিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। আর কারা সেসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিলো। সব কিছুই দিবালোকের মত স্পষ্ট। তারপরও ছাত্রশিবিরই না কি মানুষ হত্যা করে! সেই সাব্বির থেকে শুরু হয়ে আজ পর্যন্ত একটি ক্যাম্পাসেই এই অপশক্তির দল ১৭ জন মেধাবী ছাত্রকে হত্যা করেছে। শুধু রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয় নয়, দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসই তাদের নোংড়া রাজনীতির শিকারে পরিণত হয়েছে। যার জন্য রক্ত ঝরেছে বারবার।

আর সেই সব প্রগতিশীল নামের হায়েনারাই আজ দেশে বুদ্ধিজীবির মুখোশ পরেছে। সাংস্কৃতিকে নোংড়ামিতে ডুবিয়ে দিচ্ছে। গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। যাদের কারণেরই দেশের সূর্য সন্তানদের ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনকে নকল আর আধিপত্বের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে। এভাবে সুশিল নাম করে সমাজ থেকে ইসলাম ও ইসলামী আদর্শকে চীরতরে বিলিন করার অপচেষ্ট চালাচ্ছে। তবে তারাও জানে এটা কখনও সম্ভব নয়; তবুও শয়তানের সাথীরা তাদের চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ সময় এসেছে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর। হায়েনাদের কালো বিষদাঁত উপরে ফেলার। বাংলাদেশের মানুষের কাছে, তারা যেমন ধিকৃত, সর্বত্র তাদের সেই ধিক্কার ছড়িয়ে দিতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিতাড়িত করতে হবে এই অপশক্তিকে।

লেখক: নিজাম উদ্দীন

About banglamail

Check Also

প্রকৃত ধর্মব্যবসায়ী আওমিলীগের স্বরুপ উন্মোচন !

আজকে আমি বাকশালী সরকারের কয়েকটি ভন্ড দিক তুলে ধরবো। দেখুন- আওয়ামীলীগ নামে যে রাজনৈতিক দল …