Friday , October 19 2018
Home / রাজনীতি / জয় বাংলা নারী বান্ধব ওবায়দুল কাদেরকে সামলা!

জয় বাংলা নারী বান্ধব ওবায়দুল কাদেরকে সামলা!

অবিরাম ছুটে চলেছেন তিনি। দেশের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত। কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন। রাজনীতিহীন দেশে তিনিই খবরের খোরাক। কর্মীদের চাঙ্গা করতে তিনি ছড়ায় ছন্দে বিএনপিকে আক্রমণ করেন।তারপরও বছর না পেরুতেই নেতা-কর্মীদের হাস্যরসের খোরাক তিনি। তাঁকে নিয়ে প্রতিদিন নিত্য-নতুন জোকস, কৌতুক। তাঁর নাম হয়েছে ‘নারী বান্ধব সাধারণ সম্পাদক।’ শুধু দলের নেতা কর্মী নয়, গণমাধ্যম কর্মীরাও জানে নারীদের তিনি আলাদা গুরুত্ব দেন। তিনি হলেন, ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। যোগাযোগ এবং সেতু মন্ত্রী।

রাতে জরুরি একটা সংবাদ যাচাই করতে হবে, প্রয়োজন আওয়ামী লীগের একজন নেতার কমেন্ট। সাংবাদিক ফোন করলেন ওবায়দুল কাদেরকে। সাধারণ সম্পাদক একটু বিরক্ত সুরেই বললেন ‘কাজ পাওনা, এসব নিয়া এত রাতে ফোন করো।’ ফোনটা রেখে দেন। সম্পাদককে তার নিউজটা কনফার্ম করতে হবে। অগত্যা কি করা, সাংবাদিক তার নারী সহকর্মীকে অনুরোধ করলেন, সাধারণ সম্পাদককে ফোন করতে। নারী সাংবাদিকের ফোন তিনি ধরলেন। মিষ্টি করে প্রশ্নের উত্তরও দিলেন।

আবার ধরা যাক, ছাত্রলীগের কোনো সমাবেশ। দেখলেন মেয়েরা সব পিছনে বসে আছে। মাইক নিয়ে মেয়েদের নাম ধরে ডেকে ডেকে বললেন ‘সামনে আসো’। তার ফেসবুকে নারীরা ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠালে সঙ্গে সঙ্গে তাতে সম্মতি আসে। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পরও মধ্যরাতে তিনি কারও সঙ্গে রাতভর কথা বলেন।

এসব কথা গুলো এখন আকাশে বাতাসে। ওবায়দুল কাদের কে নিয়ে আলোচনা এলেই এসব চর্চাই বেশি হয়।ওবায়দুল কাদের নিজেও নারী প্রীতি নিয়ে লুকোচাপা করেন না। করেননি কখনো, কারাগারের দু:সহ দিনগুলোতে তিনি নারীদের নিয়ে ভেবেছেন। তার ‘যে কথা বলা হয়নি’ গ্রন্থে পাওয়া যায় দ্বিধাহীন স্বীকারোক্তি-

‘সেদিন সকাল বেলায় আধোঘুম, আধো জাগরণে স্বপ্ন দেখলাম সাবিহাকে।— সাবিহা উত্তর জনপদের সুশিক্ষিত পরিবারের সন্তান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিল। অনার্স পাস করে বিদেশি এক বিমানে এয়ার হোস্টেসের চাকরি পেয়ে যায়। আমার সঙ্গে পরিচয় ফ্লাইটে, দুবাই থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে, নিরানব্বই সালে। বেশ ‘ Smart and impressive তরুণী। ইংরেজীতে Fluent। কথা বার্তায় লেখাপড়ার ধার বোঝা যায়। কণ্ঠস্বর যেন সমুদ্রের গান। চঞ্চলা হরিনীর মতো গতি আর চলার ছন্দে। উজ্জল শ্যামবর্ণের মেয়েটির ছিপছিপে পাতলা গড়ন। হাসলেই মনে হয় আমার প্রিয় নায়িকা সুচিত্রা সেন। ওর সঙ্গে এই দেখাই আমার শেষ দেখা। কিন্তু কথা হয়েছে বহুবার। কথা হতো টেলিফোনে। বলতে বলতে আমরা বেশ ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম….(পৃষ্ঠা ৪৬)

‘২০০৭ সালের নভেম্বরে একদিন মধ্যরাতে লন্ডন থেকে সাবিহার সর্বশেষ ফোন পাই। তখন জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে উত্তাল ঢাকা সহ সারা দেশ। স্বাভাবিক কারণে খুব ব্যস্ত সময় আমার। অনেক রাতে বাসায় ফিরি। ঘুম ঘুম চোখে ফোন পেয়ে প্রথমে কিছুটা বিরক্তই হয়েছিলাম। মুহূর্তেই পরিচিত মিষ্টি কণ্ঠস্বর কানে বাজতেই বুঝলাম, অপরপ্রান্তে সাবিহা। কথায় কথায় রাত গড়িয়ে প্রায় ভোর হয়ে যায়।’….(পৃষ্ঠা ৪৬)

তার প্রেমিক হৃদয়ের উচ্ছাসের আরও কিছুটা পাওয়া যায়…….‘মোবাইলেই সীমিত থাক সব হৃদয়ের কথা।……. ভ্যালেন্টাইন ডে-তে মেয়েদের সুন্দর সুন্দর মেসেজ পড়তে ভালো যে একদম লাগে না তা নয়। আমার কাছে যারা ম্যাসেজ পাঠায় তার মধ্যে একজনের লেখা আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। তাকে আমি চেনার সুযোগ পাইনি ফোন করলে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতো।…. (পৃষ্ঠা-৮২)

এখন শুধু মোবাইলে মেসেজ না, ফেসবুকেও ওবায়দুল কাদের বেশ সক্রিয়। মেয়েরা ইনবক্সে মেসেজ পাঠালে তিনি দ্রুত উত্তর দেন-এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। তবে লোকে বলে, অনেক দুষ্ট ছেলে নাকি রসিকতা করতেই মেয়ে সেজে ওবায়দুল কাদেরের ফেসবুক ফ্রেন্ড হয়েছেন। ও.কের আবেগ আকুলতায় তারা ব্যাপক মজা পান।

About editor

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …