Wednesday , October 17 2018
Home / পাঠক কলাম / বাংলাদেশে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দের সুযোগ নেবে আমেরিকা-চীন !

বাংলাদেশে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দের সুযোগ নেবে আমেরিকা-চীন !

(১) সিরিয়ায় অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। বাংলাদেশীদের তা নিয়ে ফেসবুকে কান্নাকাটির শেষ নাই। কিন্তু কিভাবে সিরিয়ায় এই মারামারি কাটাকাটি শুরু হলো ? উত্তর হবে: ইসলাম ধর্মীয় গ্রুপগুলো মধ্যে মারামারি দিয়ে। সিরিয়াতে যা চলছে, সেটাকে বলে সিভিল ওয়্যার বা গৃহযুদ্ধ। শিয়া-সুন্নী-আল কায়েদা-আইএস-কুর্দি মারামারি।সুন্নীরা শিয়াদের মেরেছে, শিয়ারা সুন্নীদের মেরেছে, আইএস সিরিয়ার মাজারগুলো ভেঙ্গে দিলো। নিজেদের মধ্যে মারামারির সুযোগ নিয়ে মাঝখান দিয়ে প্রবেশ করেছে রাশিয়া ও আমেরিকা (সিক্রেট ট্রুপস)। ব্যস যা হওয়ার তাই হলো সিরিয়া পরিণত হলো ধ্বংসস্তুপে।
.
(২) সোমালিয়ায় মারামারি শুরু করলো ‘আল শাবাব’ আর ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাহ’ নামক দুটি ভিন্ন বিশ্বাসের মুসলিম সংগঠন। আল শাবাব প্রথমে সোমালিয়ায় মাজারগুলো ভাঙ্গলো, এরপর ‘আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাহ’ নামক সংগঠনটি ‘আল শাবাব’দের গণহারে হত্যা করলো। পুরো দেশজুড়ে অরাজকতা। এর মধ্যে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে প্রবেশ করলো আমেরিকা। সোমালিয়া পরিণত হলো যুদ্ধ বিধ্বস্ত রাষ্ট্র হিসেবে।
.
(৩) মালিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হলো ‘বোকো হারাম’ আর ‘আজাওয়াদ’ নামক সংগঠনের দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে। দুটোই মুসলমানদের সংগঠন। ‘বোকো হারাম’ মাজারগুলো ভাঙ্গা শুরু করলো এরপর তাদের দমন করার জন্য দেশটির সরকার ফ্রান্স সেনাবাহিনীকে ডেকে নিয়ে আসলো। ব্যস শুরু হয়ে গেলো ৩ পক্ষের মারামারি, মুসলিম রাষ্ট্র মালি পরিণত হলো ধ্বংসস্তুপে।
.
(৪) সোভিয়েত ইউনিয়নকে একসাথে যুদ্ধ করে ভাগানোর পর ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। গৃহযুদ্ধ হয় তালেবান ও মাজারপন্থী দলের মধ্যে। এই দুইদলের গৃহযুদ্ধের সুযোগে ২০০১ সালে সেখানে প্রবেশ করে মার্কিন সেনাবাহিনী। সোভিয়েত ইউনিয়নকে সবাই একযোগে বের করতে পারলেও মার্কিনীরা যখন ঢুকে তখন বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়তে পারেনি দ্বিধাবিভক্ত আফগান মুসলমানরা।
.
উপরে উদহারণগুলো ভালো করে লক্ষ্য করুণ-
.
প্রত্যেকটা মুসলিম রাষ্ট্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়া শুরু করেছে মুসলিম-মুসলিম মারামারি দিয়ে। প্রথমে তারা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দ্বন্দ্ব করে, এরপর তাদের দ্বন্দ্বের সুযোগে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রবেশ করে কোন সম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র। হতে পারে দুটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে, এমনকি একজন সম্ভবত অন্যজনকে মুসলমান হিসেবেও ট্রিট করে না, কিন্তু তারপরও তাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সুযোগ কিন্তু নেয় তৃতীয় পক্ষ মানে সম্রাজ্যবাদীরা।
.
বিষয়গুলোর অবতারণা করলাম সম্প্রতি সিলেটের জৈন্তাপুরে ঘটে যাওয়া কওমী ও মাজারপন্থী দলগুলোর বিরোধকে কেন্দ্র করে। খবরে দেখলাম, কোন একটি ওয়াজ মাহফিলে দ্বন্দ্ব থেকে সুন্নীরা ২ জন কওমী ছাত্রকে হত্যা করে। এরপর তার প্রতিশোধ নিতে ঐ এলাকায় যায় কওমী ছাত্ররা। দৈনিক নয়াদিগন্ত রিপোর্টে বলছে, কওমীদের প্রতিশোধে ৩টি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়ে যায়, এ সময় সাদিয়া আক্তার নামে ৩ মাসের একটি শিশু কন্যাও মারা যায়। (http://bit.ly/2oQJ55E)
.
ঘটনাটি এ পর্যন্ত হলেও ঠিক ছিলো। কিন্তু আমার সন্দেহ সৃষ্টি হয়, যখন শুনলাম হবিগঞ্জে মাজারপন্থীদের এক নেতাকে নাকি অজ্ঞাত মুখোশধারীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে । এরপর শুনলাম চাদপুরে আরেক মাজারপন্থী নেতার উপর হামলা করেছে অজ্ঞাত মুশোখধারীরা। উভয় ক্ষেত্রে মাজারপন্থীদের দাবি, এ হামলা নাকি করেছে কওমী ছাত্ররা। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করতে পারিনি, কারণ কওমী ছাত্ররা হামলা করলেও নিশ্চয়ই মুখোশ পড়ে হামলা করবে না। সন্দেহ তৈরী হয়, তৃতীয় পক্ষ কেউ বিষয়টি আরো বড় করতে চাইছে।
.
এই যখন অবস্থা, ঠিক তখন কওমী নেতারাও উত্তেজিত হয়ে যান। এবং শ্রদ্ধেয় বাবুনগরী, যিনি একাধিক ইসলামী বিষয়ে (নাস্তিক ইস্যু, রাষ্ট্রধর্ম ইস্যু, পাঠ্যপুস্তক ইস্যু) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তিনি পাল্টা আক্রমনের হুমকি দিয়ে দেশজুড়ে মাজারগুলো ভেঙ্গে দেয়ার ঘোষণা দেন। এমনকি মুফতি ইজহার সাহেবের ছেলে মুফতি হারুন ইজহারও দেশজুড়ে ব্রিটিশ আমলের মত মাজারপন্থী বিরোধী ওহাবী আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দেন। (http://bit.ly/2tglPmS) এই দন্দ্বে আরো প্যাচ লাগিয়ে সুন্নী ও মাজারপন্থী দলগুলো তাদেরও পাল্টাপাল্টি কার্যক্রম ঘোষণা করে (http://bit.ly/2CV7JHf)
.
আফগানিস্তান-সিরিয়া-সোমালিয়া-মালিতে যখন এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে মারে, তখন তারা বলে “আমরা জিহাদ করতেছি”। সম্প্রতি সিলেটের জৈন্তাপুরেও মুসলমানরা যখন মুসলমানদের মারতে যাচ্ছিলো, তথন তারা বার বার বলছিলো, “আমরা জিহাদ করতে যাচ্ছি” (ভিডিও :http://bit.ly/2FOxcVO)
.
হা, আপনার সাথে আরেক মুসলমানের বিশ্বাসগত দ্বন্দ্ব থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য মুসলমান ছাত্রকে কেন হত্যা করতে হবে ? কেন আরেকদলের ঘরবাড়িতে আগুন দিতে হবে ? মুসলমান-মুসলমান মারামরি কি জিহাদ ? জিহাদের এই সংজ্ঞা আমি আগে কখন পায়নি ।
.
আন্তর্জাতিকভাবে ‘প্রক্সি ওয়্যার জোন’ বলে একটা টার্ম আছে। মানে আমেরিকা-রাশিয়া/চীনের সাথে সম্রাজ্যবাদের দ্বন্দ্ব, কিন্তু তারা নিজ ভূমিতে যুদ্ধ না করে অন্য কোথাও যুদ্ধ করবে, এটাকে বলে প্রক্সি ওয়্যার। যেমন: আমেরিকা-রাশিয়ার প্রক্সি ওয়ার চলছে আফগানিস্তান ও সিরিয়ার উপর। তাদের দ্বন্দ্বে বলি হচ্ছে নিরীহ মুসলমানরা। আমি আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে এক স্ট্যাটাসে বলেছিলাম, বাংলাদেশ হচ্ছে আমেরিকা আর চীনের ‘প্রক্সি ওয়্যার জোন’। অর্থাৎ সম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও চীন নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ঘটাবে বাংলাদেশের উপর, ফলে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতে পারে বাংলাদেশ।
.
আমার বিশ্বাস আমার এ পেইজে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন আসেন। কেউ শিয়া, কেউ সুন্নী, কেউ ওহাবী, কেউ কওমী, কেউবা মাজারপন্থী। আমার বিশ্বাস, এ পেইজের যারা আসেন, আন্তর্জাতিক সম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্রগুলো তারা অন্যদের থেকে অনেক ভালো বুঝেন। আমি এই সচেতন মহলটিকে হাতজোর করে অনুরোধ করবো, আপনারা আপনাদের সংগঠনের প্রধান বা ওস্তাদদের কাছে যান। তাদের বুঝিয়ে বলুন, বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে। তাদের বুঝিয়ে বলুন, কিভাবে বিশ্বাসগত দ্বন্দ্ব লাগিয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে প্রবেশ করে সম্র্যাজ্যবাদীরা। তাদের বুঝিয়ে বলুন, এভাবে বাংলাদেশেও বিশ্বাসগত দ্বন্দ্ব বন্ধ না করলে সিরিয়া, আফগানিস্তান, মালি বা সোমালিয়ার মত অবস্থা হতে পারে আমাদেরও। দুই দলের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি সুযোগে বিদেশে সেনারা বাংলাদেশে প্রবেশ করবে, তছনছ করবে বাংলাদেশকে। তখন কিন্তু কে সুন্নী, কে ওহাবী আর কে কওমী তা দেখবে না। সবার মা-বাবা-ভাই বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে মুসলমানদের মধ্যে দ্বন্দ্বকে না বলুন, নিরুৎসাহিত করুন, অবসান ঘটান এই দ্বন্দ্বকে।

লিখেছেন – Noyon Chatterjee

About banglamail

Check Also

অর্থের অভাবে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ দেয়া সম্ভব ন​য় !

সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু চালুর দিন থেকে সেতুর ওপর দিয়ে রেল যোগাযোগ চালুর …