Monday , June 18 2018
Home / জাতীয় / তদন্তের আগেই শেখ হাসিনা কিভাবে বলে দিলেন, “ধর্মান্ধরাই জাফর ইকবালকে কুপিয়েছে” !?

তদন্তের আগেই শেখ হাসিনা কিভাবে বলে দিলেন, “ধর্মান্ধরাই জাফর ইকবালকে কুপিয়েছে” !?

তদন্ত ডিসমিস! কারণ, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা এ ঘটনাগুলো ঘটায়, তারা ধর্মান্ধ হয়ে গেছে।’ অর্থাৎ ধর্মান্ধরা জাফর ইকবালকে আঘাত করেছে।

তদন্তের মাধ্যমে তথ্য বের হয়ে এলেই সঠিক হত। তদন্ত চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান যখন এমন তথ্য দেন তখন তদন্তকারীদের আর করার কিছু থাকেনা। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরে ফারুক খান ক্রমাগত বলে গেছেন যে তদন্তকারীরা জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছে, অথচ তদন্ত শেষে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে, তারা এ ধরণের কোনো তথ্য দেন নাই এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতা খুঁজেও পান নাই।

জঙ্গিদের কাছ থেকে পাওয়া হুমকী এবং সম্প্রতি র‌্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থানসহ অনেকগুলো বিষয়ে নিয়ে তদন্তকারীরা তদন্ত শুরু করেছিলো। অবশ্য অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে এই দুটো ঘটনা ছিলো কি না জানা নেই-

১. ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ক্যাম্পাসে জাফর ইকবালের স্ত্রীকে লাঞ্ঝিত করেছিলো ছাত্রলীগ, ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিলে শুরু হওয়া ওই আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় উপাচার্য সমর্থিত ছাত্রলীগ সদস্যরা জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমিন হককে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে অভিমানী জাফর ইকবাল বলেছিলেন, ‘এখানে যে ছাত্ররা শিক্ষকদের উপর হামলা চালিয়েছে, তারা আমার ছাত্র হয়ে থাকলে আমার গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাওয়া উচিৎ।’ এই ঘটনায় ছাত্রলীগের ৪কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে বহিষ্কার করলে ‘ এই ছাত্রলীগের ছেলেদের শাস্তি দেওয়াটা এক ধরনের অন্যায়’ উল্লেক করে জাফর ইকবাল বলেছিলেন, ‘শিক্ষকদের ওপর কে হামলা করেছে? ছাত্রলীগের ছেলেরা? না। এরা তো ছাত্র, আমাদের ছাত্র। এত কমবয়সী ছেলে, এরা কী বোঝে? ওদেরকে আপনি যা বোঝাবেন, তা-ই বুঝবে। কাজেই আমি যখন দেখলাম যে তিনজন আর চারজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, এখন আমার লিটারালি (আক্ষরিক অর্থে) ওদের জন্য মায়া লাগছে।’

এদের যারা বিপথগামী করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘এই বাচ্চা ছেলেগুলোকে মিসগাইডেড করে পাঠিয়ে দিয়েছে, এখন তারাই বিপদে পড়েছে। ছাত্রত্ব বাতিল হবে, শাস্তি হবে। ওরা কি দোষ করেছে? কাজেই, এখন আমার খুবই খারাপ লাগছে। এই ছাত্রলীগের ছেলেদের শাস্তি দেওয়াটা এক ধরনের অন্যায়। যে তাদের পাঠিয়েছে, তাদেরকে শাস্তি দেন।’

২. ২০১৫ সালে ৯মে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী প্রকাশ্যে হুমকী দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি যদি বড় কিছু হতাম তাহলে জাফর ইকবালকে (সিলেট নগরীর) কোর্ট পয়েন্টে ধরে এনে চাবুক মারতাম।’

আজ কয়েকটি পত্রিকায় জাফর ইকবালকে হুমকীর তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় এই দুটো ঘটনার উল্লেখও আছে, তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের রাজনৈতিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করেনি।

শ্রীদেবীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে মিডিয়ার আরও অনেক দেরী, তাই এমন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বারবার।

About banglamail

Check Also

ধর্ষণের চেষ্টার সময় জনতার হাতে গন ধোলাই খেলো ধনির দুলাল (ভিডিও সহ)

ধর্ষণে চেষ্টার সময় জনতার হাতে গন-ধোলাই খেলো ধনির দুলাল (ভিডিও সহ)। ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের …