Monday , June 18 2018
Home / জাতীয় / কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে এ কেমন শহীদ মিনার ?

কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে এ কেমন শহীদ মিনার ?

বাংলাপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, ১৯৫৭ সালে শিল্পী হামিদুর রহমানের পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী মেডিকেল হোস্টেল প্রাঙ্গণের একাংশে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়। নকশায় মিনারের মূল অংশে ছিল মঞ্চের ওপর দাঁড়ানো মা ও তার শহীদ সন্তানের প্রতীক হিসেবে অর্ধবৃত্তাকার স্তম্ভের পরিকল্পনা। স্তম্ভের গায়ে হলুদ ও গাঢ় নীল কাচের অসংখ্য চোখের প্রতীক খোদাই করে বসানোর কথা ছিল, যেগুলি থেকে প্রতিফলিত সূর্যের আলো মিনার-চত্বরে বর্ণালীর এফেক্ট তৈরি করবে। এছাড়া মিনার-স্থাপত্যের সামনে বাংলা বর্ণমালায় গাঁথা একটি পূর্ণাঙ্গ রেলিং তৈরি ও মিনার চত্বরে দুই বিপরীত শক্তির প্রতীক হিসেবে রক্তমাখা পায়ের ও কালো রঙের পায়ের ছাপ আঁকাও মূল পরিকল্পনায় ছিল। পাশে তৈরি হওয়ার কথা ছিল জাদুঘর, পাঠাগার ও সংগ্রাম-বিষয়ক দীর্ঘ দেয়ালচিত্র (ম্যুরাল)।

শহীদ মিনার নির্মাণের সময় এ বিষয়গুলো মাথায় রাখা দরকার কি না বা এ বিষয়ে আইনে বাধ্যবাধকতা আছে কি না জানতে চাইলে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আমরা আজকে যা করছি তা কিন্তু আগামীতে ইতিহাসের একটা অধ্যায় হয়ে দাঁড়াবে। আমরা আসলে কতোটা সচেতন আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য নিয়ে, সেটা ভাবার সময় এসেছে। শহীদ মিনারের একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও স্পিরিট আছে। আমাদের রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো- এসব বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা আমাদের রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আমাদের সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলার এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধিতে অবদান রাখার ও অংশগ্রহণ করার সুযোগ লাভ করতে পারেন।’

সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তুরিন বলেন, ‘বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ বা তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতি নিদর্শন, বস্তু বা স্থানকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তবে এ ধরনের স্থাপত্য শহীদ মিনারের ‘স্পিরিট’কে স্তিমিত করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যাক্টিভিস্টরা। আর স্থপতিরা বলছেন, এই ডিজাইনে যে ফর্ম ব্যবহার হয়েছে তা বেখাপ্পা, সামঞ্জস্যহীন। তবে যথাযথভাবে যে কোনও স্মৃতিসৌধ বানানো যেতে পারে।

আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শহীদ মিনারের একটি অর্থপূর্ণ কাঠামো প্রস্তুত করা, যেন দেখলেই চেনা যায় এটা শহীদ মিনার। একনজরেই যেন যে কেউ বুঝতে পারেন এটা ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মিত।

About banglamail

Check Also

ধর্ষণের চেষ্টার সময় জনতার হাতে গন ধোলাই খেলো ধনির দুলাল (ভিডিও সহ)

ধর্ষণে চেষ্টার সময় জনতার হাতে গন-ধোলাই খেলো ধনির দুলাল (ভিডিও সহ)। ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের …