Sunday , May 27 2018
Home / নির্বাচিত সংবাদ / ঈমানের অগ্নিপরীক্ষার পথ ধরেই আবির্ভাব হয় মর্দে মুমিনের – কারাগারে মতিউর রহমান নিজামীর একটি লেখা

ঈমানের অগ্নিপরীক্ষার পথ ধরেই আবির্ভাব হয় মর্দে মুমিনের – কারাগারে মতিউর রহমান নিজামীর একটি লেখা

আল্লাহর জমিনে এবং মানুষের জীবনে সমাজে শান্তি, কল্যাণ, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টাই ইসলামী আন্দোলন। আর এই আন্দোলনের মূল পথিকৃত হচ্ছেন আম্বিয়ায়ে কেরাম (আঃ)। আর যুগে যুগে তাদের সার্থক উত্তরসূরী হিসাবে যারা এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে আসছেন এক পর্যায়ে তারা সিদ্দিকীন, সালেহীন এবং শোহাদা হিসাবে অভিহিত হয়ে আসছেন ইসলামের ইতিহাসে। এই পথে আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ: সা:) সবচেয়ে বেশী পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই সাথে তাদের যারা সার্থক উত্তরসূরী হিসাবে ভূমিকা রেখেছেন তাদেরকে শেষ নবী রাসূল (আ: সা:) গণের পরেই সবচেয়ে বেশী বিপদ মুছিবতের মুকাবিলা করতে হয়েছে। একটি হাদিসে কুদসীতে এর বর্ণনা এসেছে এভাবে “সবচেয়ে বেশী বালা মুছিবতের মুখোমুখী হয়েছেন নবী রাসূলগণ (আ: সা:); এর পর তাদের অনুসরণের দিকে যারা যত অগ্রসর তারা তত বেশী বিপদ-আপদের মুখোমুখী হয়েছেন”। এই ধারা চলে আসছে আবহমানকাল থেকে এবং একই ধারা অব্যাহত থাকবে ভবিষ্যতেও।

আমাদের প্রিয় নবী, মানবতার একান্ত দরদী বনধু, পরীক্ষা চাইতে বা কামনা করতে নিষেধ করেছেন। তবে এর পরও যদি পরীক্ষা এসে যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে চরম ধৈর্যের সাথে ছবর ও ইস্তেকামাতের সাথে ময়দানে শক্ত অবস্থান নিয়ে টিকে থাকা, ছাবেতে কদম থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন। আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবতার মুক্তিদূত হিসাবে যে সব নবী রাসূলগণের আগমন ঘটেছে, তারা সবাই অত্যন্ত দরদপূর্ণ ভাষায়, মানুষের একান্ত কল্যাণকামী ও শুভাকাংখী হিসাবে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগী কবুল করার এবং খোদাদ্রোহী শক্তির দাসত্ব ও আনুগত্য অস্বীকার করার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তাতে কোন জঙ্গীবাদের গন্ধও ছিলনা, ছিলনা প্রান্তিকতা বা চরমপন্থার কোন স্থান। তারপরও খোদাহীন সভ্যতা ও সমাজ ব্যবস্থার সুবিধাভোগী গোষ্ঠী বা কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী নবী রাসূলগণের দাওয়াত বা আহ্বানকে সহ্য করতে পারেনি। বরং তাদের স্বার্থহানির আশংকা করে অংকুরেই এ দাওয়াতকে মিটিয়ে দিতে সর্বশক্তি দিয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নমরুদ ফেরাউনদের ইতিহাস এর সাক্ষী। তাই ইসলামের নির্ভেজাল মৌলিক দাওয়াতের ভিত্তিতে যখন যারাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছে বা করবে, তাদের পথে পথে বাধা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ছাড়া কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর সামনে কোন বিকল্প নেই। তাই প্রতিবন্ধকতা আসবেই, এটা অবধারিত এবং ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা।

উপরিউক্ত বিষয়ের প্রতি স্বয়ং আল্লাহ-সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার সর্বশেষ রাসূলের মাধ্যমে তার সর্বশেষ কিতাবে ঈমানের দাবীদারদেরকে সতর্ক করেছেন এবং ঈমানের দাবী পূরণের মাধ্যমে, তাদের দাবীর সত্যতার প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। এ সম্পর্কে সুরায়ে আনকাবুতের ২নং ও ৩ নং আয়াতের নির্দেশনা বেশ প্রণিধানযোগ্য। আল্লাহ বলেন, “মানুষ কি ভেবে নিয়েছে, যে আমরা ঈমান এনেছি” এতটুকু বলাতেই তাদের রেহাই দেওয়া হবে, তাদের কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে না, অথচ ইতিপূর্বে তাদের পূর্বসূরীদের পরীক্ষা নিয়েছি। আল্লাহ অবশ্যই এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চান, কারা ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী আর কাদের দাবী সত্য নয়।” সূরায়ে বাকারার ২১৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা কি মনে করেছ এমনিতেই জান্নাতে পৌছে যাবে? অথচ এখনও তোমাদের উপর সেই পরিস্থিতি আসেনি যে সব পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন তোমাদের পূর্বসূরীগণ। তাদের উপর উপর্যুপরি বিপদ ও প্রতিকূলতা নেমে এসেছে, বিপদের চরমতা ভূমিকম্পের রূপ নিয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে স্বয়ং নবী এবং তার সাথে ঈমানদার ব্যক্তিগণ (তারস্বরে চিৎকার করে) বলে উঠেছে আল্লাহর সাহায্য কবে কখন আসবে? (এমনি প্রতিকূল অবস্থায়) আল্লাহর পক্ষ থেকে আশার বাণী এসেছে “জেনে নাও আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে”। সূরায়ে ইউসুফের ১১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে “এমনকি যখন নবী রাসুলগণও প্রায় হতাশার শিকার হয়ে ধারনা করেছেন, তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়ে প্রত্যাখাত হতে হবে তখনই তাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এসেছে। অতঃপর আমরা যাদের চেয়েছি তাদেরকে উদ্ধার করেছি। আমাদের গজব থেকে বা পাকড়াও থেকে অপরাধীদের (নবী রাসূলদের বিরোধিতাকামীদের) রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় নেই।”

সূরায়ে মুহাম্মদের ৩১ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “আমি তোমাদের পরীক্ষা নিয়েই ছাড়ব, যাতে এটা জানা যায় যে কারা আল্লাহর পথে সংগ্রামী আর কারা ধৈর্য ধারণকারী। আরো যাচাই বাছাই করতে পারি তোমাদের প্রকৃত অবস্থা।” এভাবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার সর্বশেষ নবীর উপর নাজিলকৃত সর্বশেষ কিতাব আল কুরআনের অসংখ্য জায়গায় ঈমানের দাবীদারদের দাবীর সত্যতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিরীক্ষার কথা বার বার উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তিনি তার বনধু হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে দুনিয়ার মানুষের ইমাম বা নেতা হিসাবে ঘোষণায় তাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেই বলেছেন, এ সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে উদ্দেশ্য করে বলা হল “আমি অবশ্যই তোমাকে গোটা মানব জাতির জন্যে ইমাম বা নেতা বানাব।

ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার নেতৃত্ব সব চেয়ে বড় আমানত আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সৃষ্টির সেরা মানুষের জন্যে। এই আমানতের সদ্ব্যবহার হলে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্ববাসী পাবে শান্তি কল্যাণ ও ন্যায় ইনসাফের নিশ্চয়তা। আর যদি অপব্যবহার হয় তাহলে তা হতে পারে বড় রকমের বিপর্যয়ের কারণ। তাই আল্লাহ নিজেও এই আমানত অন্যত্র অর্পণ করেন না। মানবজাতিকে বিশেষ করে ঈমানের পথের মানুষকে এই আমানত যথাযোগ্য পাত্রে অর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যথাযথ গুরুত্ব সহকারে। কাজেই এই আমানতের বহনকারী যারা হবে তাদের ঈমানের অগ্নিপরীক্ষার কষ্টিপাথরে যাচাই ও বাছাই হয়েই আসতে হবে। আর এই যাচাই বাছাই এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। বাধা প্রতিবন্ধকতাসহ সার্বিকভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ছবর ও ইস্তেকামাতের পরাকাষ্ঠা দেখাতে সক্ষম হওয়া না হওয়াকেই।

তবে আল্লাহ বড় মেহেরবান। তিনি রহমান ও রহীম। তিনি ঈমানের এই পরীক্ষা যেন তার বান্দার সক্ষমতার অতিরিক্ত না হয়, অসাধ্য না হয় এজন্যে তিনি নিজেই তার দরবারে তার পছন্দের ভাষায় দোআ করার জন্যে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

সূরায়ে বাকারার শেষ আয়াতটির মর্ম উপলব্ধি করলে সহজেই এটা বুঝতে পারি। আল্লাহর শিখানো দোআটির মর্মার্থ হল, “হে আমাদের রব আমরা যদি ভুল ভ্রান্তি করেই থাকি তাহলে তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, আমাদের পূর্ববর্তীদের যেমন বোঝা চাপিয়েছ আমাদের তেমন কোন বোঝা চাপিও না। এমন বোঝাও চাপিও না যা বহন করার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের মাফ করে দাও, ক্ষমা করে দাও, আমাদের প্রতি রহম কর; তুমিই আমাদের অভিভাবক, অতএব তুমি আমাদেরকে কুফরী শক্তির মুকাবিলায় বিজয় দান কর।”

এই দোয়ার মাধ্যমে যেমন সাধ্যের অতিরিক্ত পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে অব্যাহতি বা নিষ্কৃতির আকুতি উচ্চারিত হয়, তেমনি চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও কুফরী শক্তির উপর ইসলামী শক্তির বিজয়ের স্বপ্ন বিজয়ের আকাংখাও লালন করার সুস্পষ্ট ইশারা ইঙ্গিত পাওয়া যায় অনুরূপ আরো অনেক দোআর মাধ্যমে।

যেমন “হে আমাদের রব, আমাদেরকে চরম ও পরম ধৈর্য্য ধারণের তৌফিক দাও, তৌফিক দাও সুদৃঢ়ভাবে ময়দানে অবস্থান গ্রহণের (ছাবেতে কদমীর সাথে) আর বিজয় দান কর কাফেরদের উপর। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আল্লাহর সাহায্য কামনার জন্যেও আল্লাহ আমাদেরকে তার পক্ষ থেকে সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, বলেছেন, আল্লাহর সাহায্য কামনা কর ছবর ও সালাতের মাধ্যমে। সালাতই আল্লাহর নৈকট্যলাভের প্রধান মাধ্যম। তারপর এখানে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্যে দুই উপায়ের মধ্যে সবরের কথা আগে উল্লেখ করা বিশেষভাবে তাৎপর্য্যপূর্ণ। প্রতিকূল অবস্থায় আল্লাহর কাছে ঈমানদার বান্দাদের সবরটাই বেশী পছন্দের বিষয় । সবরের দাবী হল প্রতিকূল অবস্থায় অস্থির না হয়ে আল্লাহর সাহায্য ও রহমতের আশায় আশান্বিত হয়ে ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ দেওয়া, সাফল্য বিলম্বিত হওয়ায় বা প্রতিকূল পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত বা জটিলতর হওয়ার কারণে হতাশার শিকার না হয়ে যথাসময়ে আল্লাহর সাহায্য আসবেই এবং তার দ্বীন বিজয়ী হবেই এই আস্থায় মনোবল অটুট অক্ষুন্ন রাখার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

সবরের আরেকটি দিক হল ইসলামের প্রতি বৈরীশক্তির অসদাচরণের মুকাবিলায় তাদের প্রতি সদাচরণ করতে সক্ষম হওয়া। আল্লাহ নিজেই সূরায়ে ফুসসিলাত বা হা-মীম আস্সাজদায় বলেছেন। “ভাল কাজ আর খারাপ কাজ সমান নয়, অতএব খারাপ কাজের মোকাবিলা কর ভাল কাজ দিয়ে (তবে এই কাজ খুব একটা সহজ কাজ নয়)। এমনটি তারাই করতে পারে যারা পরম ধৈর্য্যশীল এবং ভাগ্যবান।”

এভাবে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরম পরাকাষ্ঠা দেখানোর মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা ও চরম বা কট্টর বিরোধীদের সীমাহীন খারাপ আচরণ সত্ত্বেও তাদের প্রতি ক্ষমাসুন্দর আচরণ অব্যহত রাখতে সক্ষম হওয়ার মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের বাহ্যিক গুণাবলি অর্জিত হয়ে থাকে স্বাভাবিকভাবে। যার প্রকৃত উদাহরণ রাসূল (সা) এর মক্কী জীবনের তের বছরের চরম প্রতিকূল অবস্থায় তার সাথীদের মধ্যে গড়ে উঠে ব্যতিক্রম ধর্মী চারিত্রিক বলিষ্ঠতা এবং বৈশিষ্ট্য যার প্রশংসা করেছেন স্বয়ং আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা তার পাক কালামে মজিদে একাধিক স্থানে। মক্কী জীবনে রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এর সাথী সঙ্গীগণ ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে যে বাধা প্রতিবন্ধকতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতেও আল্লাহ এবং তার রাসূলের পক্ষ থেকে ছবর একং ইস্তেকামাতের নির্দেশ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার মাধ্যমেই তাদের মধ্যে এই ব্যতিক্রমধর্মী উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়েছিল। যুগে যুগে যারা আল্লাহর দ্বীন কায়েমের আন্দোলন করেছেন রাসূল মুহাম্মদ (সা.) গৃহীত কর্মনীতি অনুসরণ করে তারাও তাদের সমসাময়িক যুগে ঈমানের কঠিনতম অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন যেমন হয়েছেন, তেমনি ঐ প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই তারাও ব্যতিক্রম ধর্মী উন্নত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জনে সক্ষম হয়েছেন, সক্ষম হয়েছেন উন্নত মানবিক গুণাবলী অর্জনেও যার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে ইসলামের কট্টরতম বিরোধীরাও।

আল্লাহ তায়ালা সূরা ফুরকানের ৬৩ নং আয়াত থেকে ৭৫ নং আয়াতে সেই কালজয়ী চরিত্রের বর্ননা দিতে গিয়ে বলছেন, “রহমানের (আসল) বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের সাথে যখন মুর্খরা ঝগড়া করে, তখন তারা বলে, শান্তি (চাই)। এবং যারা রাত্রি যাপন করে পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়ে ও দন্ডায়মান হয়ে; এবং যারা বলে, হে আমার পালনকর্তা, আমাদের কাছ থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ; বসবাস ও অবস্থানস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা। এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে ব্যক্তি তাওবা করে সৎকাজের পথ অবলম্বন করে, সে তো আল্লাহর দিকে ফিরে আসার মতই ফিরে আসে। এবং যারা মিথ্যা কাজে যোগদান করে না এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়। এবং যাদেরকে তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহ বোঝানো হলে তাতে অন্ধ ও বধির সদৃশ আচরণ করে না। এবং যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান কর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শ স্বরূপ কর। তাদেরকে তাদের সবরের প্রতিদানে জান্নাতে কক্ষ দেয়া হবে এবং তাদেরকে তথায় দোয়া ও সালাম সহকারে অভ্যর্থনা করা হবে।” সূরা মুমিনুন এর প্রথম দিকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সফলকাম মুমিনদের বৈশিষ্ট বর্ননা করতে গিয়ে বলছেন, “মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র; যারা অনর্থক কথা-বার্তায় লিপ্ত নয়, যারা যাকাত দান করে থাকে, এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে, তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না, অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে। এবং যারা তাদের নামায সমূহের খবর রাখে। তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে চিরকাল থাকবে।

প্রসঙ্গত বলতে চাই, ইসলামী আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে পরিপূর্ণ বিজয় লাভের আগে, এ আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ব্যতিক্রমধর্মী উন্নত চরিত্র এবং মানবিক গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে ইসলামের প্রতিপক্ষের মনে তাদের নৈতিক প্রভাব সৃষ্টি হতে হবে। ইসলামের চূড়ান্ত বিজয়ের আগে ইসলামী আদর্শের ধারক বাহকদের অবশ্যই তাদের প্রতিপক্ষের উপর নৈতিক বিজয় অর্জন করতে হবে। এই নৈতিক বিজয় যেমন আল্লাহর রাসূল (সা.) অর্জনে সক্ষম হয়েছিলেন তেমনি তার সাথী সঙ্গীগণও রাসূল (সা.) এর সার্থক অনুসারী হিসাবে তাদের উন্নত নীতি নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলীর স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ইসলামের বিজয়ের নিশ্চিত শুভ সংবাদটি দিতে গিয়ে আল্লাহ তার রাসূল মুহাম্মদ (সা.) এবং সাথীদের কয়েকটি উন্নত বলিষ্ঠ ও ব্যতিক্রমধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করেছেন সুরাতুল ফতহের শেষ রুকুতে। “আল্লাহ সেই মহান স্বত্ত্বা যিনি তার রাসূল পাঠিয়ে আল হুদা ও দ্বীনে হক সহকারে, মানবরচিত সকল দ্বীন বা জীবন বিধানের উপরে বিজয়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে। মুহাম্মদ (সা.) ও তার সাথী সঙ্গীগণ নিজের বা পরস্পরের প্রতি রহম দিল বা সংবেদনশীল, আর কুফরী শক্তির বিরুদ্ধে বজ্রের ন্যায় কঠোর। তাদেরকে দেখতে পাবে রুকুকারী এবং সেজদাকারী হিসাবে, আর এটা তারা করে আল্লাহর ফজল এবং রেজামন্দী (অনুগ্রহ এবং সন্তোষ) লাভের জন্যে।”

সন্দেহ নেই তাদের মধ্যে আল্লাহর পছন্দনীয় এই ব্যতিক্রম ধর্মী চারিত্রিক বলিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল মক্কার জালেম কাফেরদের নিষ্ঠুর নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাধ্যমে সৃষ্ট ঈমানের অগ্নি পরীক্ষার দীর্ঘ পথ অতিক্রমের মধ্য দিয়েই। পরবর্তী পর্যায়ে মদিনায় ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন যে বিজয় যুগে পদার্পণ করে তার ভিত রচিত হয় মক্কায় দীর্ঘ তের বছরের প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে তৈরী হওয়া ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্রের অধিকারী এই লোকদের খাঁদবিহীন খাঁটি সোনার মানুষ রূপে গড়ে উঠার ফলে।

ইসলামী আদর্শ ও নেতৃত্ব ছাড়া মানব কল্যাণের আর কোন বিকল্প নেই। এই বাস্তব সত্য আজ বিশ্ববাসীর কাছে অজানা অচেনা হয়ে আছে। এজন্যে ইসলামের চির বৈরী শক্তির অপপ্রচার যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী মুসলমানদের অযোগ্যতাও। কথা ও কাজের মাধ্যমে ইসলামকে মানবতার মুক্তি সনদ হিসেবে উপস্থাপনে আমরা অনেকাংশেই ব্যর্থ, ব্যর্থ প্রতিপক্ষ ও অপপ্রচারের সার্থক মোকাবিলা করতেও। এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠার জন্যে একদল সত্যিকার মর্দে মুমিন ও মর্দে মুজাহিদকে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার মাধ্যমেই হয়ত আল্লাহ আমাদের মধ্যে এমন কিছু “মর্দে ‘মুমিন’ ও মর্দে ‘মুজাহিদের’ আবির্ভাব ঘটাবেন, আমি এ ব্যাপারে খুবই আশাবাদী এবং আস্থাশীল। তবে শর্ত হল আল্লাহর দেওয়া সীমারেখার মধ্যে কঠোরভাবে নিজেদের অবস্থানকে মজবুত এবং একই সাথে সংযত রাখতে হবে।

তথ্য সন্ত্রাসের ফলে ইসলাম সম্পর্কে, ইসলামী আদর্শের ধারকদেরও সম্পর্কে যে বিরূপ মনোভাব ও নেতিবাচক ধারণা বদ্ধমূল হয়ে আছে তা দূর করার জন্যে ইসলামী আদর্শের উপস্থাপনা যেমন করতে হবে। বুদ্ধিমত্তার সাথে মজবুত যুক্তির ভিত্তিতে তেমনি ইসলামী আদর্শের ধারক বাহকদের কথা কাজের মাধ্যমে নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে হবে মানবতা মনুষত্বের প্রতীক হিসাবে। সাম্প্রদায়িকতা তথা জঙ্গীবাদের সাথে ইসলামের দূরতম সম্পর্কও নেই। অথচ দেশী বিদেশী প্রচার মাধ্যমে ইসলামকে সাম্প্রদায়িক আদর্শ হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চিহ্নিত করা হচ্ছে সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং জঙ্গীবাদী হিসাবে। পরিস্থিতির কাছে নিজেদের যেন সপে দিয়ে আমরা তাদের এই প্রচারণার জন্যে আরো অতিরিক্ত হাতিয়ার তুলে না দেই সে ব্যাপারেও আমাদেরকে সতর্ক এবং সাবধান থাকতে হবে।

প্রতিহিংসা পরায়ণ রাজনীতির অকথ্য নিপীড়ন ও নির্যাতনের ফলশ্রুতিতে যেন আমাদের মধ্যে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মন মানসিকতা স্থান করে নিতে না পারে সে ব্যাপারেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা আজকের সময়ের দাবী। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মন জয় করা, তাদের উপর ইসলামী শক্তির নৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের ফলশ্রুতিতে এক পর্যায়ে মজলুম ও জালেমের জুলুমের শিকারে মজলুম যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে তার মধ্যে জুলুমের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠাটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি এবং আদর্শিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটাই সব চেয়ে বড় পরাজয়। ইসলামের মূল বক্তব্য হল জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্যে কল্যাণ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আল কুরআনের একাধিক জায়গায় আল্লাহ মুসলিম উম্মাকে ন্যায় ইনসাফের পতাকাবাহী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, অর্থাৎ দায়িত্ব দিয়েছেন। সূরায়ে নহলের ৯০ নং আয়াতটি জুমআর সময় খোৎবার উপসংহারে প্রতিনিয়ত আমরা শুনে আসছি। এই ন্যায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা উম্মাত হিসাবে আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব তেমনি ব্যক্তিগতভাবে এ দায়িত্ব বর্তায় প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানের উপর। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কেবল তার বা তাদের পক্ষেই সম্ভব যিনি বা যারা রাগ বিরাগের বা ব্যক্তিগত ক্রোধ আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয় না বা কোন পদক্ষেপ নেয় না; যিনি বা যারা কেবল আল্লাহর পছন্দ অপছন্দ কে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয় বা পদক্ষেপ নেয়।

আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কার ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন “কোন গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি পূর্ব শত্রুতার কারণে যেন তোমরা ন্যায় ইনসাফ করতে ব্যর্থ না হও। অবশ্যই ইনসাফ কর, এটাই তাকওয়ার নিকটবর্তী আমল।”

ইসলামী আন্দোলনের প্রধান কাজ “দাওয়াত ইলাল্লাহ” আর ইসলামী আন্দোলনের নেতা বা কর্মীদের প্রধান পরিচয় হল তারা দায়ী ইলাল্লাহ। দাওয়াত ইলাল্লাহ’র কাজ করতে গিয়ে বিরোধিতার সম্মুখীন হয়ে প্রতিপক্ষের সাথে কী আচরণ করতে হবে এ ব্যাপারে কুরআনে একাধিক স্থানে দিক নির্দেশনা আছে। সুরায়ে ফুসসিলাত বা ‘হা-মীম আস্সাজদা’য় বলা হয়েছে ভালকাজ আর খারাপ কাজ সমান নয়, অতএব খারাপ কাজের মোকাবিলা কর উত্তম কাজ দিয়ে। তাহলে দেখতে পাবে যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল সে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে। তবে এটা যে খুব একটা সহজ সাধ্য ব্যাপার নয় আল্লাহ এর স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, যারা অসীম ধৈর্য্য ও সহনশীল তারা ছাড়া আর কারো পক্ষে এমনটি করা সম্ভব নয়। অপর দিকে সূরায়ে নহলের শেষের দুটি আয়াতে এবং সূরায়ে আশ শূরার ৩৯ নং আয়াত থেকে ৪৩ নং আয়াত পর্যন্ত আয়াতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর সামনে সব সময় আলোক বর্তিকা হিসাবে থাকা একান্তই অপরিহার্য। সূরায়ে নহলের শেষের দিকে দাওয়াত কিভাবে দিতে হবে এটা যেমন বলা হয়েছে তেমনি বলা হয়েছে, “তোমার রবই ভাল জানে কে পথভ্রষ্ট হবে আর কে পাবে সঠিক পথের সন্ধান”। আরো অগ্রসর হয়ে বলা হয়েছে, “যদি প্রতিশোধ নিতেই হয় তাহলে ততটুকুই নিতে পার যতটুকু তুমি আঘাত প্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে যদি ছবর করতে পার তাহলে সেটা ছবরকারীর জন্যেই হবে কল্যাণকর।” এর পর বলা হয়েছে ছবরই কর, তোমার এই ছবরের সাথে আছেন স্বয়ং আল্লাহ। তাদের ব্যাপারে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ো না, তাদের চক্রান্ত ষড়যন্ত্রের কারণে নিজেকে কোণঠাসা মনে করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সহায় যারা মুত্তাকী এবং মুহসীন।

সূরায়ে আশ শূরায় আখেরাতে যাদের জন্যে আল্লাহ অসংখ্য ও চিরস্থায়ী নিয়ামত রেখেছেন তাদের পরিচয় দিতে গিয়ে অনেক গুলো বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন। এক পর্যায়ে বলেছেন যদি কখনও তারা বিদ্রোহীদের মুখোমুখী হয় তাহলে তা সার্থকভাবে তার মোকাবিলা করে। কেউ খারাপ আচরণ করলে তার প্রতিকারে ততটুকু বেদনা দেওয়া যাবে যতটুকু খারাপ আচরণ করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে তবে যদি কেউ ক্ষমা করে দেয় এবং মিটমাট করে নেয় তাহলে তার জন্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে যথাযোগ্য পুরস্কার। অত্যাচারিত হবার পর যারা প্রতিশোধ নেয়। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলার নেই। পাকড়াও হবে তারা বা ব্যবস্থা নিতে হবে তাদের বিরুদ্ধে যারা মানুষের উপর জুলুম করে, যারা অন্যায়ভাবে দুনিয়ায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাদের জন্যে রয়েছে বেদনা দায়ক শাস্তি। আর যারা সবর করে এবং ক্ষমা করে, তাদের এই ভূমিকাই প্রকৃত পক্ষে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা।

সূরায়ে লোকমানের এক পর্যায়ে হযরত লোকমান (আ:) তার পুত্রকে আমর বিল মারুফ এবং নেহী আনেল মুনকার অর্থাৎ ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করার কাজের উপদেশ দিয়ে বলেন, এই কাজে তোমাকে যে প্রতিকূলতার মুখোমুখী হতে হবে সে অবস্থায় ছবর করতে হবে। এটাই বীরত্বের কাজ, অথবা এটাই এমন কাজ যার জন্যে বিশেষভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকিদ করা হয়েছে। মোদ্দাকথা, অবস্থা পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক না কেন আল্লাহর দিনে আহ্বান জানানোর কাজ অব্যাহত রাখতেই হবে। পথ একটা বন্ধ হলে দশটি পথ খোলার কৌশলী ভূমিকা পালনের যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে। তবে কোন অবস্থায় প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার পথে পা বাড়ানো যাবে না। চরম পন্থা বা প্রান্তিকতার দিকে যাওয়া যাবে না। এ পথ নবী রাসূল (সা.) গণের অনুসৃত পথ নয়, শেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর (সা.) অনুসৃত পথ নয়। আল্লাহর সর্বশেষ কিতাব আল কুরআন এবং সর্ব শেষ নবীর সুন্নাহ ও সিরাতের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ব্যাপারে সব সময়ই সতর্কতার প্রয়োজন ছিল। তবে বর্তমান বিশ্বরাজনীতির সৃষ্ট ধুম্রজাল ছিন্ন করে ইসলামের নিজস্ব বার্তা সুস্পষ্ট করার স্বার্থে এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্ব অনেক অনেক বেশী উপলব্ধি করতে হবে।

About editor

Check Also

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও গরুর গল্প

“একলোক আগে প্রতিদিন ৬০ টাকা ধরে দুধ কিনতো ।মাসে যাইত ১৮০০টাকা! চিন্তা কইরা দেখলো প্রতিদিন …