২৩শ’ গাছ কাটা হবে বলে প্রতিবাদ করছে অনেকে ২১টি মসজিদ ভাঙ্গা হবে, সেটা নিয়ে কোন প্রতিবাদ করতে দেখছি না কাউকে

গত কয়েকদিন যাবত দেখছি, যশোরে রাস্তা বানাতে ২৩শ’ গাছ কাটা হবে বলে প্রতিবাদ করছে অনেকে। কিন্তু ঢাকার ভেতর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বানাতে যে ২১টি মসজিদ ভাঙ্গা হবে, সেটা নিয়ে কোন প্রতিবাদ করতে দেখছি না কাউকে। কিন্তু কোনটি নিয়ে প্রতিবাদ করা আসলে জরুরী ?অনেকে বলতে পারেন-“ভাই, ১০০ বছর পুরাতন গাছ। গাছ গেলে ১০০ বছর পুরাতন গাছ আর পাওয়া যাবে না, কিন্তু মসজিদ ভাঙ্গলে তো আবার মসজিদ বানানো যাবে।

আমি বলবো- পুরাতন গাছ গেলে আবার নতুন গাছ লাগানো যাবে। গাছ শখ করে রাখতে গিয়ে রাস্তা বাকা করবেন, কিন্তু রাস্তা বাকে বছরে শত শত লোক এক্সসিডেন্ট করে মারা যাবে, তখন আপনার পরিবেশ বাদ কোথায় থাকবে ?

অপরদিকে মসজিদ গেলে মসজিদ পাওয়া যাবে এ কথাটাও ঠিক না। বর্তমান সরকার অনেক এলাকায় মসজিদ ভাঙ্গছে। বলছে- ‘নতুন মসজিদ করে দেয়া হবে।’ কিন্তু বাস্তবে নতুন মসজিদ করে দেয়া হচ্ছে না। হাতিরঝিল প্রকল্প বানাতে ১টি মন্দির কিন্তু ভাঙ্গা হয়নি, রাস্তা বাকিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু ৫টি মসজিদ ভাঙ্গা হয়েছে (ওয়াকফ করা), বলা হয়েছে নতুন যায়গা দেয়া হবে, কিন্তু বেশ কয়েকবছর হয়ে গেলেও নতুন যায়গা দেয় হয়নি (http://bit.ly/2CW6Yyq)। আবার একটি ভাসমান মসজিদ এখন রয়ে গেছে, কিন্তু মাঝে মাঝে সেনাবাহিনীর অফিসারা হুমকি ধামকি দিচ্ছে মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য।

শুধু গাছের জন্য আন্দোলন করা আমার কাছে লোক দেখানো মনে হয়। কারণ শুধু যশোর নয়, সারা বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার গাছ কাটা হচ্ছে সেটা নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। এছাড়া আপনি কাঠের চেয়ার-টেবিল, দরজা ব্যবহার করবেন, আবার গাছ কাটার বিরোধিতা করবেন সেটা স্ববিরোধীতা। অপরদিকে মসজিদ না ভেঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে বাকিয়েও নেয়া যায়। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না, কারণ যারা কাজগুলো করছে তাদের আলটিমেট উদ্দেশ্যে ইসলামকে দমানো। এবং বলাবাহুল্য এগুলো সব চলে আন্তর্জাতিক ইহুদীবাদীদের প্ল্যান অনুসারে। সারা বিশ্ব জুড়ে যে কুশাসন চলছে, তার মূল কলকাঠিতে কিন্তু ইহুদীবাদীদের হাতে। ইহুদীবাদীরা চায় ইসলামকে দমিয়ে রাখতে। কারণ ইহুদীবাদীরা জানে তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বি হচ্ছে ইসলাম। গত দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে বিশ্বে সুপারপাওয়ারত্বের ৮০% ছিলো মুসলমানদের হাতে এবং মাত্র ২০% এসেছে ইহুদীবাদীদের হাতে। সে হিসেবে তারা জানে, তাদের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলাম এবং কখন যদি তাদের ক্ষমতা হারাতে হয় তবে মুসলমানদের হাতেই হারাতে হবে। এজন্য ইসলামকে তাদের দমন করা জরুরী। এজন্য তাদের সমস্ত কার্যক্রমের একটা অংশ হচ্ছে ব্যবসা ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, অপর অংশ হচ্ছে ইসলাম দমন। বর্তমানে সবার মূল শত্রু যদি ইহুদীবাদ নিয়ন্ত্রিত কুশাসন হয়, তবে তাদের সমস্ত এন্টি ইসলামীক কার্যক্রমের বিরুদ্ধচারণ করা জরুরী এবং সেটা বিশ্ব ইহুদীবাদীদের অন্যায় অত্যাচার শেষ করার লক্ষেই। ইসলামকে জাগাতে হবে, কারণ ইসলামই একমাত্র পারে ইহদীবাদকে পরাজিত করতে।

আপনি যত মতবাদকেই গ্রহণ করেন-

গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম, মানবতাবাদ, পরিবেশবাদসবগুলোর খুটি রয়েছে ইহুদীবাদীদের । ওরাই খুটি এদিক-ওদিক করে আপনার মন-মগজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পুতুল খেলার মত করে আপনাকে নাচায়। সুতরাং ওদের দেখানো পথে আন্দোলন প্রতিবাদ করা মনে চরকির মধ্যে ঘুরতে থাকা এবং তাদের কুশাসনকেই দীর্ঘায়িত করা।তাই বাস্তবে যদি সুশাসন চান এবং অপশাসনের পতন চান, তবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বানাতে ২১টি মসজিদ ভাঙ্গার প্রতিবাদ করুন, সেটাতেই কাজের কাজ হবে।

Comments Us On Facebook: