Friday , July 20 2018
Home / পাঠক কলাম / তাবলীগ জামায়াত নামটি পরিবর্তন করে দেওবন্দী জামায়াত রাখা উচিত নয় কী ?

তাবলীগ জামায়াত নামটি পরিবর্তন করে দেওবন্দী জামায়াত রাখা উচিত নয় কী ?

শিরোনামের প্রশ্ন পড়েই আপনার হয়তো মাথা গরম হয়ে গেছে। হওয়ারই কথা ! প্রিয় দল, জামায়াত নিয়ে কেউ যদি ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করে বা তুচ্ছ তাচ্ছিলো করে, আপনার খারাপ লাগারই কথা ! কিন্তু আপনি যখন অন্য দল গোষ্টি, জামায়াত কে নিয়ে বিদ্রপ করে হেন-ত্যানবাদী বলে খিস্তি করেন, কোন প্রকার যুক্তি, দলিল ছাড়াই কাউকে বাতিল সাভ্যস্ত করেন, তখন অন্যের কেমন লাগে সেটা বোধ হয় একটু হলেও উপলদ্ধি করতে পারছেন ?

যাই হোক, আমার আজকের আর্টিকেল আপনার উপলদ্ধি শক্তিকে শানিত করার জন্য নয়, বরং ভিন্ন উদ্দেশ্যে। শুরুতে এতটুকো বলার উদ্দেশ্য হলো, সত্যকে ধারণ করার জন্য যে ধরনের নিরপেক্ষ মন মানসিকতার প্রয়োজন রয়েছে, সেটা কোন দলের ভিতরেই শতভাগ নেই। থাকার সুযোগও নেই। কারন সংকীর্ন দৃষ্টিভঙ্গি সব ক্ষেত্রেই রয়েছে, হয়তো কম বেশি, এই যা।

এক্ষেত্রে আপনি কত কদম এগিয়ে সেটা বিবেচনার জন্য আপনার বিবেক, ইলম এবং ইনসাফপরায়নতার ওপর ভরে করে স্বিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেন। কারণ বিবেকের চেয়ে বিশ্বস্ত আদালত আর একটিও নেই। আপনি গয়ের জোড়ে, সার্টিফিকেটের জোড়ে কিছু বললে হয়তো দুনিয়ার কুটি মানুষ বিশ্বাস করবে, কিন্তু সত্যে রুপান্তরিত হয়ে যাবে না। মিথ্যা সব সময় মিথ্যাই থাকে, তার ওপর সাময়িক সময়ের জন্য সত্যের মোড়ক লাগানো যায়। কিন্তু কুদরতে ইলাহীর ইচচ্ছে হলে সেই মোড়ক খুলতে বেশিক্ষন লাগে না। যেটা ঘটেছে তাবলীগ জামায়াতের বেলায়।

এবার তাহলে আসল কথায় আসা যাক-
তাবলীগ জামায়াত কি সত্যিই সে ধরনের মকবুল জামায়াত, যে জামায়াত গোটা উম্মাহর ইসলাহ, কল্যান আর কামিয়াবীর জন্য তৈরি করা হয়েছে ? একজন বনী আদমও যেন আল্লাহর পথের বাইরে না থাকে, সে ব্যবস্থা করার জন্যই তাবলীগ জামায়াতের শত শত মুবাল্লিগ মুরব্বিরা দিন রাত এক করে ফেলছেন, এ কথা কি এখন আর বিশ্বাস করার মতো মনে হচ্ছে ? অন্তত বিগত কয়েক দিনের কর্মকান্ড সেই সত্যের পক্ষেই স্বাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তাবলীগ জামায়াত মোটেও সত্যিকারের মকবুল জামায়াত নয়, এটা সিলসিলার সংকীর্ণতায় গড়া একটি জামায়াত !

ফেসবুকের কোন কোন তাবলীগি বা ইসলামপন্থী প্রিয় ভাই দোস্ত বুজুর্গরা অবশ্য আমার লেখা দেখেই প্রথমে ধরে নেন, আমি জামায়াত ইসলামীর গুনকির্তন করার জন্যই তাবলীগের সমালোচনা করছি। কেউ হয়তো বলতেও পারেন, আরে ব্যাটা জামায়াত করস, তাবলীগের বিষয়ে তোর কথা বলার অধিকার কোথায় ? এগুলো তোদের গাত্রদাহ মাত্র ! আপনি হয়তো এও ভাবছেন যে, জামায়াতের পোলাপান তাবলীগে ভালো চাইবে না, এটাই সত্য।

জ্বি না, এটাই সত্য নয়, বরং সত্য হলো আপনি তাবলীগ জামায়াত কে আপনার নিজের সম্পত্তি বানিয়ে রেখেছেন, অতঃপর নিজের খায়েশ পুরনের স্বার্থে উম্মাহর বিশাল এক অংশকে প্রথমেই নিজের দৃষ্টি শক্তি থেকে সরিয়ে রেখেছেন ! যে কারনে আপনার মনে হয়েছে, তাবলীগের বিপক্ষে বলাই হলো দলীয় স্বার্থ্যান্ধতা, শয়তানী,ধোকাবাজি। কিন্তু আসল সত্য হলো, তাবলীগ জামায়াতকে একমাত্র সার্বজনীন, আল্লাহর রাস্তা, উম্মাহর কল্যানে নিয়োজিত জামায়াত হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরেও নিজেদের সিলসিলার সম্পদ মনে করে তাকে নিজেদের কন্ট্রোলে রাখার নুন্যতম চেষ্টাই হলো সত্যিকারের সংকীর্ণতা, শয়তানী, ধোকাবাজী !

নিজের ইলমের ওপর শতভাগ আস্থা নিয়ে আমি হলফ করে বলতে পার, তাবলীগের ওপরে দেওবন্দের কন্ট্রোল নেওয়ার যে হীন প্রচেষ্টা প্রকাশ্যে চালানো (কন্ট্রোল পুর্বে থেকেেই ছিলো এবং প্রায়ঃশই গোপন থাকতো, কিন্তু সা’দ সাহেব তাদের উসুলে পরিপুর্ণ আনুগত্য না দেখাতে প্রকাশ্যে এসেছে মাত্র ) হচ্ছে এবং তার ফলশ্রুতিতে এ দেশের দেওবন্দী সিলসিলার কতিপয় আলেম ওলামা এবং মুরব্বিরা যেভাবে মাওলানা সা’দ সাহেবের কথা ও কাজের ওপর চিরুনী অভিযানে চালাচ্ছেন অতঃপর তার পুর্বের দেওয়া কিছু বক্তব্যকে ভিত্তি করে তাকে যেভাবে হেনস্তা করা হলো এবং তাবলীগের বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে যেতে বাধাগ্রস্থ করা হলো, সেটা কোন মকবুল জামায়াতের বা উম্মাহার জন্য তৈরি করা সার্বজনিন কল্যানময় জামায়াতের চিত্র হতে পারে না।

এরকম সমস্যা কেবল মাত্র সংকীর্ণ চিন্তা চেতনা, মাজহাবী ফেরকার গোড়াকলে আবদ্ব, নিজেদের সিলসিলা পুর্নজীবিত বা প্রচারিত করার নিমিত্তে তৈরি করা যে কোন দল বা জামায়াত থেকেই আশা করা যায়। আপনি হয়তো বলবেন আমি সংকীর্ণতায় আটকে গিয়ে কারো বিরুদ্ধে অপবাদ দিচ্ছি। মোটেও নয়, আমি আমার প্রতিটি অক্ষরের জন্য পরকালে হিসেব দেওয়ার চিন্তা মাথায় রাখছি। আপনি বরং চিন্তা করুন, আপনার বিবেকের দরজা খুলে রেখেছেন কিনা নাকি দলীয়, গোষ্টিগত, সিলসিলা বা ফেরকাবাজির প্রীতিতে আটকে গেছেন ?

এর পরেও কেউ যদি জোর দিয়ে বলতে চান, তাবলীগ জামায়াত সার্বজনীন উম্মাহ দরদী, উম্মাহর কল্যান আর কামিয়াবীর জন্যই এর সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি চোখ বন্ধ করে দুনিয়া দেখছেন ! আপনার হয়তো মনে হয়েছে, এটা একটি মামুলি ঘটনা। আপনি হয়তো অন লাইন অফ লাইনে পরিবেশিত কিছু তথ্য উপাত্ত দেখে মনে করেছেন যে, সা’দ সাহেব কিছু বিতর্কিত উক্তি করেছেন, তাবলীগের মুরব্বি থাকার কারণে তার কিছু ইখতেলাফী বক্তব্য ওলামাদের আঘাত করছে, দির্ঘদিনের ফিকহী মিমাংসাকে তিনি নিজের মতো করে বলার কারনেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে আমি বলে দেবো, আপনি ভুল করছেন।

এটা একজন ব্যক্তি সা’দকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ব্যাপারটি এমন নয় যে, আমরা সা’দকে খুব ভালোবাসি, তাই তার সব কথাকে চুপ করে হজম করছি। তাকে সরিয়ে দেওয়াতে আমরা কষ্ট পাচ্ছি। বিষয়টি যদি এত সহজ হতো, তাহলে তো আমরা খুশি হতাম। একজন সা’দ ব্যক্তি হিসেবে কথা ও কাজে, বয়ানে বক্তৃতায় ভুল করতেই পারেন। কিন্তু এই ভুল করা ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল সা’দ সাহেব প্রথম নন, দেওবন্দের অনেক বুুজুর্গের কিতাব পত্রে বিস্তর ভুল রয়েছে। তাদের ভুল থাকার পরেও কেউ তাদের রচিত কিতাব পত্রকে সিলেবাসভুক্ত করতে অনিহা দেখাননি।

তাছাড়া ব্যক্তি সা’দের ভুলগুলো এমন নয় যে, তিনি সংশোধনের বাইরে চলে গিয়ে কুফরির গর্তে পড়ে গেছেন। তাকে শোধরানো যেতো না, এমন দাবিও কেউ করেননি। তথাপীও তাকে সরে যেতে হবে, তার হক ছিলো ময়দানে বসা। একজন মুসলিম হিসেবেও তার হক রয়েছে ইজতেমার ময়দানে যাওয়া, অথচ এক প্রকার জোড় করে, বিক্ষোভ করে, তাকে তার হক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। স্টেজে গিয়ে বয়ান করা আর ময়দানে যাওয়াতে নিশ্চয় ফারাক রয়েছে। তাকে বয়ান থেকে বিরত রাখা যেত, কিন্তু সেটা না করে তাকে বাতিল স্বাভ্যস্ত করা হয়েছে।

কেউ কেউ তো বলেই দিয়েছেন, তিনি যুগের আরেক মওদূদী। অলী পুরীর মতো ব্যক্তি তো বলে দিলেন, তিনি ইয়াহুদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। কত ভয়ংকর কথা। কেউ কি একবারও ভেবেছেন, ব্যক্তি সা’দ দু একটি ভুল করে কি করে ইয়াহুদী দালাল হতে পারেন ? এ থেকে বুঝা যায়, দেওবন্দ এবং তাদের ঘরনার মুরব্বিরা তাবলীগের মধ্যকার নিজেদের কন্ট্রোল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

তারা যেটা অগ্রিম ভেবেছেন সেটাই তাদের জন্য কাল হয়ে গেলো। তারা অতি দ্রুত নেতীবাচক চিন্তা থেকে স্বিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভুল করে ফেলেছেন। সারা দিন অন্যদের বাতিল প্রমানে মোনাজারার আহ্বান জানানো ব্যক্তিরা কেন পারলেন না মাওলানা সা’দ কে ডেকে নিয়ে মুনাজারা করতে ? তিনি কি চতুর্থ আসমানের বাসিন্দা ছিলেন ? মোটেও নয়, বরং এটা ব্যক্তি সা’দের ছোটখাটো পদস্থলনের কাহিনী নয়, বরং এর থেকে বেশি কিছু।

দৃষ্টিমানদের কাছে স্পষ্ট হলো যে,দির্ঘদিনের পরীক্ষিত ব্যক্তি, তাবলীগের প্রতিষ্টাতাদের রক্ত যার শরীরে বইছে, সেই সা’দ সাহেব দেওবন্দের ভাবনার বাইরে বেড়িয়ে যাওয়ার সামান্য চিন্তা করার সাথে সাথেই তিনি হয়ে গেলেন ইয়াহুদীদের দালাল, খৃষ্টানদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী। এ থেকে স্পস্ট হচ্ছে যে, দেওবন্দীরা নিজেদের ছাড়া অন্য সব গ্রুপকে আহলে হকের কাতারেই শুমার করে না। এটা যদি সত্য হয় তাহলে দেওবন্দ হচ্ছে সব চেয়ে ব্ড় ফেরকার জায়গা এবং দেওবন্দের কন্ট্রোলে থাকা তাবলীগও ফিরকাবাজিতেই লিপ্ত থাকবে, কখনোই সার্বজনিন হতে পারবে না। আমি বিশ্বাস করি না, দেওবন্দ কোন ফেরকার দায়িত্ব্য নিতে প্রস্তুত থাকবে না এবং চাইবেও না !

তাবলীগ জামায়াতকে কন্টোল করার ভিতর দিয়ে দেওবন্দের সকল মুরব্বিরা এটা স্পষ্ট করে দিলেন যে, এটা কোন সার্বজনীন জামায়াত নয়। বরং এটা দেওবন্দের মাসলাক, সিলসিলায় পরিচালিত একটি দাওয়াহ কেন্দ্রের নাম। এখানে তাই চলবে যা দেওবন্দ ভালো মনে করবে ! এখানে তারাই নেতৃত্ব দিতে পারবে যারা দেওবন্দের ফিকহী, সুলুকি আদর্শের সাথে ঐকান্তিক ভাবে ঐক্যমতে আসতে পারবে এবং সন্তুষ্ট চিত্তে তার অনুশরন করবে এবং তাবলীগ জামায়াতের ভিতর দিয়ে তার প্রতিফলন ঘটনানো চিন্তা করতে পারবে ! যে তরিকা দেওবন্দ স্বিকৃত হবে সেটাই হবে তাবলীগের উসুল, দেওবন্দ যার বিরুদ্ধে থাকবে, তাবলীগ থেকে তার বিরোধীতা হতে হবে, হোক সেটা সুক্ষভাবেই না কেন !

একবার ভাবুন তো, এটা কি উম্মাহর সার্বজনীন কামিয়াবীর চেতনাধারী কোন পক্ষের কোন ভাবনা হতে পারে ? এর দ্বারা কি দায়ী ইলাল্লাহর চরিত্র ধারণ করা সম্ভব ? আপনি যদি বিষয়টি নিয়ে প্র্যাকটিকল দৃষ্টি ভঙ্গি গ্রহণ করতে চান, তাহলে একবার চিন্তা করুন তাদের কথা যাদের অনুশরণ আমাদের জন্য জরুরী করে দেওয়া হয়েছে। সেই সাহাবায়ে কেরাম (রা) কিভাবে একটি সার্বজনীন খেলাফত বা জামায়াতের চিত্র আমাদের দেখিয়ে গেছেন তার ইতিহাসও দেখুন।

ইলমি মতবিরোধ, আমলে ভিন্নতার পরেও সাহাবাদের (রা) যুগে কারো খলিফা হতে সমস্যা ছিলো না। ব্যক্তি পরিবার, গোষ্টি, কওম থেকেও ইমরাত নির্ধারণ করার ঘোর বিরোধী ছিলেন তারা। অন্যদিকে ইমারত এবং নেতৃত্ব্যের যোগ্য ব্যক্তিরা পরস্পর চিন্তায়, কর্মে ভিন্নতার নজির রেখে গেছেন। তথাপীও উম্মাহর সার্বজনিন কল্যান আর কামিয়াবীর ক্ষেত্রে তারা এক শব্দের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন। কেউ কখনো বলেনি, অমুক খলিফার ফিকহী দৃষ্টি ভঙ্গি আমার মতো নয়, অমুকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আমার পছন্দের নয়। তার খেলাফতে থাকা জায়েজ নয়। বরং তারা এসব কিছুকে পরোয়া করতেন না বলেই তো সার্বজনিন, উম্মাহ দরদী, অনুশরণযোগ্য খেলাফত ব্যবস্থা রেখে যেতে পেরেছিলেন।

এবার আপনি চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন তো, তাবলীগ জামায়াতের কোন আমীর যদি নিজেকে মাজহাবী বন্ধন থেকে মুক্ত মনে করে, সহিহ হাদিসের (বর্তমানে প্রচলিত আহলে হাদিস নয়) অনুশরণ করাকে জোড় দেয়, তাহলে কি তাবলীগ জামায়াতে তার ইমামত চলবে ? কোন একজন সা’দ যদি দেওবন্দী সিলসিলার কথিত জিকিরের অজিফাকে বেদয়াতী আমল হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টাও করে, তার ইমামত কি থাকবে ? থাকবে না তো ! তাহলে আপনি কিসের ওপর ভর করে বলবেন, এই জামায়াত সার্বজনিন ? এখানে শুধুমাত্র ’মুসলিম’ এই শব্দটি কে প্রাধান্য দেওয়া হয় না, বরং সাথে সাথে আপনাকে দেওবন্দী মুসলিম হতে হবে, তবেই আপনি তাবলীগ জামায়াতে ইমরাত সামলানোর যোগ্যতা পাবেন।

আপনি স্বিকার করুন আর না করুন, দেওবন্দী সিলসিলার বাইরে, তাদের আকাবারগনের রেখে যাওয়া পথ ও পন্থার (সেটা দলিল প্রমানে যতই দুর্বল হোক না কেন) বাইরের তাবলীগের কোন অস্তিত্বের স্বিকার দেওবন্দ যেমন করে না, তেমনি এদেশে দেওবন্দের প্রিতীতে আকন্ঠ নিমজ্জিত কোন গোষ্টিই করে না। তাবলীগের নেতৃত্বে, উসুল নির্মানে দেওবন্দী ভাবনার বাইরে কোন চিন্তাই তারা করতে পারেন না। যে কারণে দেখা যায় যে, এর দ্বারা উম্মাহার বিশাল এক অংশকে বাতিল স্বাভ্যস্ত করে রাখা হচ্ছে। দেশের ভিতরেও এই বিষয়ে একটি জোড় আলোচনা রয়েছে যে, তাবলীগ জামায়াত ওহাবী দর্শনে পরিচালিত একটি গ্রুপ। তাবলীগের ওপরে দেওবন্দের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রন এবং তাদের মতাদর্শের জোড় প্রচলনই এরকম ধারণার জন্ম নিতে সাহায্য করেছে।

যে কারণে ওহাবী দর্শনের বিরোধী ব্যক্তিরা এর ফায়দা থেকে মাহরুম হচ্ছে। একটি সার্বজনিন দা’য়ী ইলাল্লাহর কাজে নিযুক্ত আ’ম সংগঠণ এরকম সংকীর্ণ গোষ্টি কেন্দ্রিক চিন্তা থেকে মুক্ত থাকে, তাদের নেতৃত্বে যে কোন ফিকহী, মাজহাবী গোষ্টি, যে কোন সত্যের পথে পথিক, হোক না তার চিন্তা, কর্মের ভিতরে অনুমোদনযোগ্য যতই মত পার্থক্যের ছায়া, তবুও সে সেই দলের নেতৃত্বে আসতে পারেন, যদি তিনি সত্যিই যোগ্য হন। কিন্তু এখানে তাবলীগ জামায়াতের ইমামতের সব থেকে বড় যোগ্যতা তাকে দেওবন্দীই হতে হবে !

তাহলে প্রশ্ন আসে, সত্যের ধারা কি শুধু দেওবন্দ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ? যারা দেওবন্দী নয়, তাদের ইলম, আমল, ইক্বীদাব বিশ্বাস কি পরিত্যাজ্য ? এরকম ভাবনার অনুশারীরাই তাবলীগ জামায়াতকে দেওবন্দী সম্পত্তি বানাতে চেষ্টা করছেন এবং এর ওপর কন্ট্রোল ধরে রাখার জন্য প্রকাশ্যে নিজেদের চরিত্র দেখিয়ে দিয়েছেন।

এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, এদেশের কওমী আলেমদের কাছে ইলমী সিলেবাস আসে দেওবন্দ থেকে। সত্যের আগমন ঘটে দেওবন্দী ফিল্টারে ফিল্টারড হয়ে। যেটা দেওবন্দ সত্য বলে না, সেটা কারো নজরেই সত্য হিসেবে স্বিকৃত হয় না। দেওবন্দ থেকে পুর্বে ঘোষিত কোন হারাম যখন দেওবন্দ থেকেই হালাল ঘোষিত হয়, তখন এদেশের আলেমরাও সেটা বহুগুনে হালার বানিয়ে দেদারছে খেতে থাকেন। দেওবন্দ থেকে মিথ্যা সনদ প্রাপ্ত একই বিষয় যখন দেওবন্দ থেকে ফিল্টার হয়ে সত্যে রুপান্তরিত হয়, তখন অনেকেই সেটাকে পুর্বের থেকেও বেশি করে অনুশরণ শুরু করেন। এটাকে অনুশরণ নয়, অনুকরণ বলা হয়। শরীয়াতে এর কোন ওজর আছে কিনা আমার জানা নেই।

এসব থেকে আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, কিছু লোক বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, সত্যের একমাত্র স্রোতধারা কেবল মাত্র দেওবন্দ, এর বাইরে যা আছে তার অধিকাংশই বাতিল বা মিথ্যা মিশ্রিত। এরকম বিশ্বাসী লোকদের দিয়ে আর যাই হোক, উম্মাহ দরদী, সংকীর্ণতামুক্ত কোন সংগঠণ বা জামায়াত গঠিত হতে পারে না , হলেও সে তার উম্মাহ কেন্দ্রিক ঐক্যবদ্ধতা ধরে রাখতে পারে না।

কেউ হয়তো বলবেন, আমি দেওবন্দের শত্রু হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি। আল্লাহর কসম করে বলি, দেওবন্দী ওলামা, তালেবানদের সাথেই আমার সখ্যতা এবং আন্তরিকতা সব থেকে বেশি। আমার রাজনৈতিক পরিচয়ের পুর্বে আমি নিজেকে একজন মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি গর্ববোধ করি। আর মুসলিম হিসেবে আমার দায়িত্ব্যে মধ্যে পড়ে নিজের চোখের সামনে থাকা যে কোন কদর্যতা, মিথ্যাচার আর সংকীর্নতার বিরুদ্ধে কথা বলা। এটা যে কোন দল ও গোষ্টির বেলায় সত্য। আমার চিন্তায়, কথায় যদি বাস্তবতার নুন্যতম গ্যাপ থাকে,তাহলে কমেন্টে জানান, আমি সেই লাইন ডিলেট করে দেবো।

তবুও বলবো, তাবলীগ জামায়াত হোক সার্বজনীন বিশুদ্ধ, ইসলাম কেন্দ্রিক জামায়াত। যে জামায়াতের আহলে হাদিস ভাইরা সময় লাগাতে পারবে,আহলে সুন্নী নামের কেউ তাবলীগে সময় লাগানোকে উম্মাহার জন্য জরুরী মনে করবে ! জামায়াত হেফাজত কোন রং পরিচয় কাউকে তাবলীগের জিম্মাদার বানাতে বাধাগ্রস্ত করবে না। যে তাবলীগের ইমারত কোন গোষ্টির পছন্দে নয়, আল্লাহ ও তার রাসুলের (র) রেখে যাওয়া আদর্শ. তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে আল্লাহকে অধিক ভয় করে, নীতিতে প্রতিষ্টিত হবে।

যে তাবলীগ সকল প্রকার ইসলামী খেদমতকে আল্লাহর ওয়াস্তে সহায়তা করবে, কারো সমালোচনা করে কোন গোষ্টির প্রতিনিধির দায়িত্ব্য পালণ না করে আল্লাহর খলিফার ভূমিকা নেবে, আমরা সেই সার্বজনীন তাবলীগ চাই। হয়তো এর জন্য তাবলীগের সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে। দেশের সকল মত ও পথের আলেমরা এক যোগে তাবলীগের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধন করলে এই সমস্যা দুরু হতে পারবে। কিন্তু দেওবন্দের কন্ট্রোল নামে ডেরাকলে থাকলে, সেটা কখনোই সম্ভব নয়। এই কথা আমরা ইতিপুর্বে বলিছি, আবারো বলছি, বার বার বলে যাবো ইনশায়াল্লাহ। সত্য প্রচারে, সত্যের পক্ষ নিতে গিয়ে আমরা দেখি না, সত্যের পক্ষে কে বলছে ! আমরা দেখি কি বলা হচ্ছে।

Apu Ahmed

About banglamail

Check Also

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও গরুর গল্প

“একলোক আগে প্রতিদিন ৬০ টাকা ধরে দুধ কিনতো ।মাসে যাইত ১৮০০টাকা! চিন্তা কইরা দেখলো প্রতিদিন …