রাজশাহীতে জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতার

রাজশাহীতে নাশকতার অভিযোগে জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজশাহী নগরীর মেহেরচণ্ডী পূর্বপাড়া এলাকার মিলন (২৮) ও নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার গুরুমশীল গ্রামের রাশিদুল ইসলাম (২৪)। এদের মধ্যে মিলন ছাত্র শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক এবং বর্তমানে মহানগর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড (পূর্ব) জামায়াতের সেক্রেটারি। আর রাশিদুল রাজশাহী মহানগর ইসলামী ছাত্র শিবিরের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর শাহ মখদুম থানার আমচত্বর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই দুজনের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য রয়েছে।এর আগে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজশাহীতে গোপন বৈঠক করার অভিযোগে জামায়াত ইসলামীর ১২ নারী কর্মীকে আটক করেছে মতিহার থানা পুলিশ। এসময় জিহাদি বইপত্রসহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মতিহারের বেলঘরিয়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়।মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, গোপনে তারা খবর পান মতিহারের বেলঘরিয়া এলাকার মীর হোসেনের বাড়িতে কিছু সংখ্যক নারী গোপন বৈঠক করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই বাড়িতে সন্ধ্যায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জামায়াতের নগর শাখার ১২ নারী কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আজম ও দণ্ড পাওয়া নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ তাদের সংগঠনের বিভিন্ন লেখকের জিহাদী বইপত্র ও লিফলেট জব্দ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান ওসি মেহেদী হাসান।এদিকে রাজশাহীতে মেডিকেল ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি (আইএইচটি) কলেজে আন্দোলনরত ছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনার পরই ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে ছাত্রীদের গালিগালাজ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে অধ্যক্ষের রুমের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে ছাত্রীরা। অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হলে ছাত্রীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতসহ ছাত্রলীগের নেতাদের উৎপাত ও নিরাপত্তরার দাবিতে আইএইচটির ছাত্রীরা বুধবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা। আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ছাত্রলীগের একটি অংশ তাদের পাশে ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের করে দেয়। ছাত্রীরা অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বের হয়ে হলের সামনে অবস্থান নেয়।

Comments Us On Facebook: