এরদোগান কতটা ক্ষমতাধর ?

তুরস্কের নতুন সরকার ব্যবস্থায় এরদোগান কতটা ক্ষমতাধর…………..গেল এপ্রিলে রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট শাসিত সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যায় তুরস্ক। এতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ব্যাপক ক্ষমতাধর হন।

এর আগে ২০১৪ সালে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির পদ থেকে সরে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এরও আগে এক দশকের বেশি সময় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এবং তারও আগে তিনি ইস্তাম্বুল শহরের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
হা’ ‘না’ ভোটে স্বল্প ব্যবধানে জিতলেও প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হয়েছেন তুরস্কের এই শাসক।প্রায় এক শতক আগে প্রজাতন্ত্র ঘোষিত সংবিধানে আমূল পরিবর্তন ঘটে এই সংস্কারের ফলে। এই প্রভূত ক্ষমতা, যা দেশটির আধুনিকায়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা। একই সঙ্গে তুরস্কে সংসদীয় গণতন্ত্রের বদলে পুরোমাত্রায় প্রেসিডেন্টের নির্বাহী শাসন শুরু করেছেন এরদোগান।

এরদোগান তিন বছর আগে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ত্যাগ করতে হয়। জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা নির্বাচিত হন প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতগলু। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় পার্টির সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সম্পর্ক রাখার সুযোগ থাকায় এরদোগান আবারও দলের কর্তৃত্বে ফিরেছেন।প্রেসিডেন্টের ক্ষমতানতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর কোনো ভূমিকা নেই। সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত প্রেসিডেন্টের হাতে। অনির্দিষ্ট সংখ্যক ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন এরদোগান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তুরস্কের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর। সে অনুযায়ী এরদোগান ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবেন। তাতে প্রেসিডেন্টের এক দফার মেয়াদ হবে ৫ বছর। একজন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ দু’দফায় ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। এর মধ্য দিয়ে তুরস্কে ইতি ঘটছে পার্লামেন্টারি শাসন ব্যবস্থা। তার পরিবর্তে তুরস্ক ফিরেছে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনে।মন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ এমনকি বরখাস্ত করার ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বেড়েছে ।
নতুন ব্যবস্থায় ডিক্রি জারি করার ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টের হাতে। আগে এটি মন্ত্রিপরিষদের হাতে ছিল।দেশে কখন জরুরি অবস্থা জারি করতে হবে সে সিদ্ধান্তের ক্ষমতাও এখন এরদোগানের হাতে।নতুন ক্ষমতা পেয়ে এরদোগানই সরকারের নির্বাহী প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান।

আগেই এরদোগান বলেছেন, তুরস্কের নতুন এই সরকার ব্যবস্থা হবে অনেকটা ফ্রান্স বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো। শরণার্থী সংকট থেকে শুরু করে প্রতিবেশী সিরিয়ায় যুদ্ধ, ইসলামি জঙ্গিবাদ, কুর্দি বিদ্রোহের সন্ত্রাসের মতো সমস্যা জর্জরিত এই সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন সরকার কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এরই মধ্যে উল্লেখিত ইস্যু ছাড়াও জেরুজালেম ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে বিশ্বের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেছে, “অতীতে যে ভঙ্গুর জোট সরকার ছিল সে অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য এটার প্রয়োজন ছিল। তার যুক্তি, একই রকম সরকার আছে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রেও।
একনজরে এরদোয়ান ইস্তাম্বুলের মেয়র: ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৮ তুরস্কের ২৫তম প্রধানমন্ত্রী: ১৪ মার্চ ২০০৩ – ২৮ আগস্ট ২০১৪ তুরস্কের ১২তম রাষ্ট্রপতি: ২৮ আগস্ট ২০১৪ জন্ম: ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪, ইস্তাম্বুল, তুরস্ক রাজনৈতিক দল: জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি (২০০১-বর্তমান)রাজনৈতিক জীবন: জাতীয় স্যালভেশন পার্টি (১৯৮১-এর পূর্বে), ওয়েলফেয়ার পার্টি (১৯৮৩-১৯৯৮), ভার্চো পার্টি (১৯৯৮-২০০১)
স্ত্রী: এমিনি গালবারেন সন্তান: আহমেত বারান এরদোগান, নেকমিতিন বিলাল, এশরা সামিয়েপড়াশোনা: মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়
ধর্ম: ইসলাম (সুন্নি)

তথ্যসূত্র: তুর্কি ওয়েবসাইট ও বিবিসি অবলম্বনে

Comments Us On Facebook: