Thursday , October 18 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / দাবির পক্ষে অনড় ভারতের চার ‘বিদ্রোহী’ বিচারপতি

দাবির পক্ষে অনড় ভারতের চার ‘বিদ্রোহী’ বিচারপতি

দাবি উঠেছে, পারিবারিক বিবাদ। চার দেওয়ালের মধ্যেই মিটিয়ে নেওয়া ভাল। নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, প্রবীণ আইনজীবীরা দৌত্য করছেন। চেষ্টা চলছে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র বনাম চার প্রবীণতম বিচারপতির বিবাদ মেটানোর।
ক্ষুব্ধ চার বিচারপতির অন্যতম, বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ আজ কোচিতে জানিয়ে দিলেন, ‘‘বাইরে থেকে দৌত্যের কোনও প্রয়োজন নেই। সরকার বা রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। এটা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। প্রতিষ্ঠানকেই মেটাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ভিতরে যে সব ভুল হচ্ছে, সেগুলো শোধরাতে হবে।’শুক্রবার চার প্রবীণতম বিচারপতি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন, কোন মামলা কোন বিচারপতির বেঞ্চ শুনবে, তা ঠিক করার সময় প্রধান বিচারপতি অনুচিত কাজ করছেন। প্রবীণ বিচারপতিদের বাদ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ, স্পর্শকাতর মামলা বাছাই করা কিছু বিচারপতির কাছেই পাঠানো হচ্ছে।রবিবার প্রধান বিচারপতি বাকি চার প্রবীণ বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু আজ বিচারপতি জোসেফ বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র তাঁদের দাবি মানলে তবেই সমস্যা মিটবে। নচেৎ নয়।
আজ ক্ষুব্ধ বিচারপতিদের পাশে দাঁড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও। আইনজীবীদের সিদ্ধান্ত, যে সব জনস্বার্থ মামলা হচ্ছে, সেগুলি প্রধান বিচারপতি ও অন্য চার প্রবীণ বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচটি বেঞ্চেই পাঠানো হোক। সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক পীযূষ রায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘আগেও এমন হত। আমরা কোনও পক্ষ নিচ্ছি না। কিন্তু প্রবীণ বিচারপতিরা এ বিষয়ে সমস্যার কথা তুলেছেন। এখন এই পথে সমস্যার সমাধান হতে পারে।’’অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, যে সব জনস্বার্থ মামলায় ইতিমধ্যেই শুনানি শুরু হয়ে গিয়েছে, সেগুলিও এই পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চেই সরানো হোক। বিচারক ব্রিজগোপাল লোয়া-র মৃত্যু নিয়ে তদন্তের আর্জি প্রবীণ বিচারপতিদের বেঞ্চে না পাঠিয়ে, বিচারপতি অরুণ মিশ্রের বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। গতকাল তা নিয়েই আপত্তি তোলেন বিচারপতি চেলমেশ্বররা। বার অ্যাসোসিয়েশনের দাবি মানতে হলে প্রধান বিচারপতিকে এখন সেই মামলাটিকেও সরিয়ে নিতে হবে।

আইনজীবী সূত্রের ব্যাখ্যা, আটটি সাংবিধানিক বেঞ্চে নানা মামলার শুনানির বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। কয়েকটি সাংবিধানিক বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি বাকি চার প্রবীণ বিচারপতিকে রাখেননি। এ বার তাঁরা জায়গা পাবেন কি না তা দেখলেই বোঝা যাবে, প্রধান বিচারপতি নরম হচ্ছেন না নিজের অবস্থানে অনড় থাকছেন।সরকারের তরফে এই বিবাদ মেটানোর সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল। তাঁর দাবি, ‘‘সোমবার সকালেই সকলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মধ্যে ঐক্য দেখতে পাবেন। আমাদের আশা, প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়া হবে। বিচারপতিরা অভিজ্ঞ, জ্ঞানী ব্যক্তি। তাঁরা সমস্যা বাড়তে দেবেন না বলেই আমরা মনে করি।’’প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, সাংবাদিক বৈঠক করার আগে সুপ্রিম কোর্টের ২৫ জন বিচারপতির এক সঙ্গে বৈঠক করা উচিত ছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনও সেই ‘ফুল কোর্ট’-এর দাবি তুলেছে। সভাপতি বিকাশ সিংহ বলেন, ‘‘দরজা বন্ধ করেই ওঁরা বসুন। চার বিচারপতি যে অভিযোগ তুলেছেন, তা বিবেচনা করা হোক। এটা পারিবারিক বিবাদ। চার দেওয়ালের মধ্যেই মেটাতে হবে।’’
সূত্র: আনন্দবাজার

About editor

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …