Sunday , June 24 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / সংলাপ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান অ.লীগ-বিএনপির

সংলাপ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থান অ.লীগ-বিএনপির

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুক্রবারের ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার আলোচনায় বসতে সংলাপ ডাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটি এখন আগ্রহী হলেও আওয়ামী লীগ সংলাপে আগ্রহী নয়। শনিবার সারাদিন সংলাপ নিয়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের দেখা গেছে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে।প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেসময় তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নতুন কিছু ভেবে থাকলে তা নিয়ে সব স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।অন্যদিকে সংলাপ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছে আওয়ামী লীগ। শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রয়োজন হলে সংলাপ হবে। কিন্তু এ মুহূর্তে নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এ কারণে সংলাপ করার কোনো দরকার নেই।
এর আগে শনিবার সকালেই বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংলাপ নিয়ে তাদের অনাগ্রহের কথা জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গতবার আওয়ামী লীগ সংলাপের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ায় এবার হয়তো আর সংলাপ হবে না।বাংলা ইনসাইডানির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সব দলের সংলাপ চায় বিএনপি ………………………বিএনপির সংবাদ সম্মেলনপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে ভাষণ দিয়েছেন তা ছিল বেআইনি ও অনৈতিক সরকারের চার বছরের পূর্তি উপলক্ষে। তার ভাষণ জাতিকে হতাশ ও উদ্বিগ্ন করেছে। দেশে বিদ্যমান সংকট নিরসনে ওই ভাষণে কোনও রূপরেখা নাই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা খুবই অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান-২ এর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।সংবাদ সম্মেলনের লিখিত কপি এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা স্পষ্টভাবে সংবিধানে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।’মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও বিধান নেই। সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকার হবে বর্তমান সরকারের অনুরূপ। নির্বাচনকালীন সরকার কেবল রুটিন ওয়ার্ক করবে এমন কিছু সংবিধানে উল্লেখ নাই।’তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের শাসনকে পাকাপোক্ত করার একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংবিধান ও গণতন্ত্র সবসময় সমার্থক হয় না। যদি হতো তাহলে হিটলার ও মুসোলিনির শাসনকেও গণতান্ত্রিক বলা হতো। কারণ তাদের শাসনও সংবিধান অনুযায়ী ছিল।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিএনপি মনে করে, সংলাপের মাধ্যমেই ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে তা নিয়ে বিএনপির একটি চিন্তাভাবনা আছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হলে দেশে যে অনিশ্চিত পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও আমরা মনে করি।’সংবাদ সম্মেলনে এ সরকারের সময় ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, খুন-গুম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও বিদেশে টাকা পাচার সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনটি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মঈন খান, আমীর খসরু মাহামুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

About editor

Check Also

মহিলা ক্রিকেট দলের শিরোপা জয় উদযাপন করলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।।(ভিডিও সহ)

মহিলা ক্রিকেট দলের শিরোপা জয় উদযাপন করলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।।(ভিডিও সহ) Related