ইজতেমায় দ্বীন শিখতে এসেছে নাকি চিল্লায় যাওয়ার নাম লিখাতে এসেছে?

২ দিন শেষ হতে চললো, অথচ ঘুরে ফিরে সেই একই বয়ান। মুখস্থ হয়ে গেছে আমার। ইমান আমল এর ফিকির করতে হবে, আল্লাহর রাস্তায় বের হতে হবে…! আসুন ভাই নগদ নগদ নাম লিখান, ৪০ দিনের জন্য যারা বের হবেন তারা দাড়িয়ে যান, নাম লিখান… আল্লাহর জন্য বের হতেই হবে। এর অনেক ফজিলত- প্রতি কদমে ১টি কবুল হজ্জের সাওয়াব! ১ টাকা খরচ করলে ৭ লাখ টাকা খরচের সমান সওয়াব। একটা আমল করলে ৭০০ গূন বেশী সাওয়াব পাওয়া যায় অনেক ক্ষেত্রে তা ৪৯ কোটি গুনও হয়ে যায়…!

দুপুরবেলা যার যার খিত্তায় ফাজায়েলে আমল পাঠ করে শোনানো হলো। আর ফাজায়েলে আমল মানেই হলো জাল/জঈফ হাদীসের ফ্যাক্টরী। আরে বাবা বছরের ৩৬৫ দিন ফাজায়েলে আমল পড়ার পরও আপনাদের হয় না? ইস্তেমা মাঠেও এটি পড়তে হবে? বয়ানের বিষয়বস্তু যাই হউক না কেন, বক্তাগণ ঘুরে ফিরে সেই একই কথা বলে, ‘ঘর থেকে বেরিয়ে যাইতে হবে’ ‘এখনই নগদ নগদ নাম লিখান’। হাস্যকর লাগে শুনতে! শিরক, বিদ’আত নিয়ে কোন বায়ান হয় নাই। তাওহীদ ও ইত্তেবায়ে সুন্নাত নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোন বয়ান নাই। অথচ বিশুদ্ধ তাওহীদের জ্ঞানের অভাবের কারনে বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য শিরকী কর্মকান্ড। ইবাদতের মাঝে ভরপুর অসংখ্য বিদ‘আতী আমল; এসব বন্ধ করা বা এসবের বিরুদ্ধ তাদের কোন চিন্তা ফিকির নাই!

এ কিসের এস্তেমা? মানুষ এখানে নাম লিখাতে এসেছে না দ্বীন শিখতে এসেছে?

Comments Us On Facebook: