Wednesday , October 17 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে মতিঊর রহমান মাদানির বক্তব্য কতোটুকু গ্রহণযোগ্য?

আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে মতিঊর রহমান মাদানির বক্তব্য কতোটুকু গ্রহণযোগ্য?

সৌদি আরবে অবস্থান রত সৌদি সরকারের দাওয়া বিভাগের একজন কর্মচারী জনাম মতিউর রহমান মাদানি সাহেবকে নিয়ে লেখা অপু আহমেদApu Ahmed ভাইএর স্ট্যাটাস পড়ে কয়েকটি কথা না লিখে পারলাম না। Apu Ahmed ভাই তার লেখার শেষে লিখেছেন “যারা নিজেদের জীবনে দ্বীমুখিতা দেখাচ্ছেন, তাদের সমালোচনায় আল্লামা সাঈদীর কি আসে যায় ?” আল্লামা সাঈদী সাহেবের বেলায় কথাটি সত্য হলেও আমার জন্য বিষয়টি পীড়াদায়ক। সমালোচনার জবাব দেয়া জামায়াত নেতৃত্বের বৈশস্ট নয়। জামায়াতের নেতারা কখনোই মিথ্যা এবং অবান্তর সমালোচনার জবাব দেন নাই। তারা সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা পোষণ করেন। এভাবেই জামায়াত তার নেতাদের তৈরি করে। কিন্তু একটা নির্ভেজাল খলিস দ্বীনি আন্দোলন এবং এর নেতাদের বিরুদ্ধে ঢাহা মিথা তহমত বা ইলজাম দিয়ে সহজ সরল মানুষকে এই আন্দোলন থেকে বিরত রাখা, বিভ্রান্ত করা আমার মতো একজন সমর্থকের পক্ষে বিনা বাক্যে মেনে নেয়া সম্ভব না।

হাদিসে বলা হয়েছে এক মুমিন আরেক মুমিনের আয়না। অর্থাৎ এক মুমিন আরেক মুমিনের কোনো ভুল বা স্খলন দেখলে তা সংশোধনের জন্য আয়নার মতো হয়ে ধরিয়ে দেবেন। আয়না যেমন মিথ্যা বা অতিরঞ্জন করেনা, একদম সঠিক জিনিসটি দেখায় তেমনি এক মুমিনও অন্য মুমিনের ভুল বা স্খলন বড়ো বা অতিরঞ্জন করবেন না। আর উদ্দেশ্য হবে সেই ভাইকে সংশোধন করা। তাকে জনসমক্ষে শরমিন্দা করা, বেইজ্জত করা, হেয় করা, নিজের জ্ঞান জাহির করা, এইসব প্রকাশ হলে তা সংশোধনের জন্য বলা যাবেনা বরং তাকে ভিন্ন কিছু (গীবত) বলতে হবে। একজন মুসলমানের সম্পদ, ইজ্জত, আব্রু রক্ষা করা অন্য মুসলমানের কর্তব্য। জনাব মতিউররহমান মাদানী কি করে আল্লামা সাঈদি সাহেবের মতো বিখ্যাত একজন আলিমের সমালোচনা প্রকাশ্যে করতে পারেন? আমি বলছি না যে সাঈদি সাহেব ভুলের উর্ধে। মানুষ হিসেবে, জ্ঞানের কমতি থাকতেই পারে। জেনে, না জেনে বা ভুল জেনে তিনি কিছু বলতেই পারেন। একজন আলিমে দ্বীন হিসেবে মতিউররহমান মাদানী সাঈদী সাহেবের ভুল গুলো শুধরে দিতেও পারেন বরং সাঈদী সাহেব কোনো ভুল করলে তাকে সংশোধনের দায়িত্ব মতিউররহমান মাদানী সাহেবের মতো জ্ঞনীদের উপর বর্তায়। আর এটা হল একজন আলিম হিসেবে মতিউররহমান মাদানী সাহেবের উপর সাঈদী সাহেবের হক্ক।

কিন্তু এই হক্ক কিভাবে আদায় করবেন? ইন্টারনেটে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তহমত দিয়ে? কিছু মোসাহেব সামনে নিয়ে একজন প্রখ্যাত আলিমের কথা খন্ডিত করে রেকর্ড বাজিয়ে? যদি ধরেও নেই যে, সাঈদী সাহেব কিছুই জানেন না, তার পরও একথা তো সত্য যে, তাকে কোটি কোটি লোক ভালবাসে, সেই ভালবাসা থেকে লোদেরকে বিরত করতে? তিনি সে সংগঠনের সাহায্যে ইসলামকে প্রতিস্টিত করার চেষ্টা করছেন তা থেকে মানুষকে বিরত রাখতে? তাকে তার কিছু ভুল কথার জন্য এভাবে জনসমক্ষে হেয় প্রতিপন্ন করে? এটা কি ধরণের ভব্যতা? ইসলাম কি এমন করে মানুষকে বেইজ্জত বে হুরমত করতে শিখায়? রাসুল (স) অথবা সাহাবায়ে কিরামের কেউ কি এমন করেছেন? ইতো পূর্বেকার সালাফে সালেহীনরা কি এমন করে তাদের মতভিন্নতার কারণে অন্য কোন সালেহীনের বিরুদ্ধে এমন কটাক্ষ করে মজমা জমিয়ে রসিয়ে রসিয়ে বদনাম করে ইন্টার নেটে ছড়িয়ে দিয়েছেন? বর্তমান জামানার বিখ্যাত আলেমদের কেউ কি অন্য কারো বিরুদ্ধে এমন কাজ করছেন? যদি না করে থাকেন তবে তিনি কোন সাহসে এমন কাজ করছেন? বর্তমান বাংলাদেশেও অনেক আলিম আছেন যারা মতিউর রহমান মাদানী সাহেবের চেয়েও জ্ঞানী। তারাও সালফে সালেহীনদের পথে আছেন। তারা তো এমন করছেন না। উদাহরণ স্বরূপ মুফতি ইব্রাহিম, প্রিন্সিপাল কামাল উদ্দিন জাফরির নাম নেয়া যায়। আরো অনেকেই আছেন।

এমন এক সময় বেছে নিয়ে তিনি জনসমক্ষে সাঈদী সাহেবের সমালোচনা করছেন যখন সাইদি সাহেব জালিমের কারাগারে বন্দী। সাঈদী সাহেবের পক্ষে এই সমালোচনা শুনার, সংশোধন হবার বা তার আত্নপক্ষ সমর্থনেরও কোন সুযোগ নাই। অথচ সাঈদী সাহেব জেলে যাবার আগে প্রতি বছর কয়েকবার সৌদি আরবে যেতেন, থাকতেন, বিভিন্ন মাহফিলে বক্তব্য রাখতেন। প্রতি বছর রামাদানে ইতিকাফ করতেন। আর মাদানী সাহেবও সব সময় সৌদি আরবে আছেন। যদি তার অন্তরে সত্যিই সাঈদী সাহেবকে সংশোধনের ইচ্ছা থাকতো তবে তিনি সাঈদী সাহেবের সাথে দেখা করতে পারতেন, অথবা সাঈদী সাহেবকে ডেকে পাঠাতে পারতেন, অথবা তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে একসাথে আলাপ আলোচনা করে ভুলগুলো শুধরে দিতে পারতেন। এর পরও সাঈদী সাহেবের সাথে যোগাযোগের উপায় ছিল যা ব্যবহার করে মাদানী সাহেব তাকে জনসমক্ষে হেয় না করেও সংশোধন করতে পারতেন। এরকম ভাবে চেষ্টা করার পরও যদি সাঈদী সাহেব মাদানী সাহেবকে সময় না দিতেন বা সঠিক দলিল দেয়ার পরও ভুলের উপর গোঁ ধরে থাকতেন তবে অবশ্যই মাদানী সাহেব তা জনসমক্ষে প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিতে পারতেন যা আমরাও শুধু মেনেই নিতাম না বরং সাঈদী সাহেবেকেই এজন্য দায়ী বলে মনে করতাম। কিন্তু তিনি সাঈদী সাহেবের সাথে কোনো প্রকার যগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলে জানান নি, তাকে একা একি ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবী করেন নি। উল্টো নিজের জ্ঞান আর কথার বাহাদুরি দেখাতে প্রকাশ্যে একজন স্মমানীত মানুষের অসাক্ষাতে তার দোষ ত্রুটি আলোচনাএবং ছিদ্রান্বেষণ করে এই কাজকে জাহীর করেছেন যাকে তিনি গীবত না বলে মনে করেন নি বলেও জানিয়েছেন। অথচ গীবতের প্রথম শর্তই হল, যা কোনো ব্যাক্তিকে নিয়ে বলা হবে, তা তার অসাক্ষাতে বলা হবে এবং তা যদি ঐ ব্যক্তি শুনে তবে মনক্ষুন্ন হবে।

About banglamail71

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …