Tuesday , June 19 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীদের সবাই ব্যবসায়ী

সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীদের সবাই ব্যবসায়ী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত। এখন চলছে প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম জোরেশোরে আসছে, তাদের প্রায় সবাই ব্যবসায়ী।মেয়র হিসেবে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম। এ পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন বিগত নির্বাচনে আনিসুল হকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তাবিথ আউয়াল। এছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ এবং রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী ডা. এইচবিএম ইকবালের নামও আলোচনায় রয়েছে।ডিএনসিসিতে আনিসুল হকের শূন্যস্থান পূরণে বেশ আগ্রহী আতিকুল ইসলাম। মেয়র পদে আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে পোশাক খাতের এ ব্যবসায়ী বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা মূলত শ্রমঘন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তারা শ্রমিকদের দেখভাল করার মাধ্যমে সেবার মনোভাব প্রকাশ করেন। আমারও ১৯ হাজার শ্রমিক ভাইবোন আছে। তাদের সামগ্রিক দেখভালের মাধ্যমে সেবা করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। রাজনীতি যারা করেন, তাদের আরো বড় পরিসরে সেবামূলক কাজ করতে হয়। পরিধি-ব্যাপ্তি ভিন্ন হলেও রাজনীতি ও ব্যবসার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে বলে আমি মনে করি। আর ব্যবসায়ী সমাজ থেকে আনিস ভাই (আনিসুল হক) মেয়র হিসেবে সফলতা দেখিয়েছেন। তার উদ্যমের ভালো ফল আমরা পেয়েছি। তার এ সফলতা আমাদের জন্য বড় বার্তা এবং অবশ্যই অনুপ্রেরণা। আনিসুল হকের ভালো কাজগুলো চালিয়ে যাওয়া এবং টেকসই করা এখন আমাদের দায়িত্ব।মেয়র হলে ঢাকা শহরের মানুষের জন্য কী করতে চান— এমন প্রশ্নের উত্তরে আতিকুল ইসলাম বলেন, অর্ধশতাধিক খাত আছে, যেগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মেয়রের কাজ করতে হয়। মেয়র হিসেবে প্রথমেই লক্ষ্য থাকবে সুপরিকল্পিত সমন্বয় সাধনের। এর মাধ্যমে অর্থ ও সময় বাঁচানোর সঙ্গে সঙ্গে নাগরিক সেবাও নিশ্চিত করার সুযোগ হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে এ সমন্বয়ের কাজটিকেই আমি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করি এবং একে মোকাবেলা করতে চাই। এ মোকাবেলার জন্য আমি ব্যবসা থেকে দূরে থাকতেও পিছপা হব না।
ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও লড়েছিলেন। তারও ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে— লাল তীর সিড লিমিটেড, নর্থসাউথ সিড লিমিটেড, এমএফ কনজিউমার্স লিমিটেড, এঅ্যান্ডএ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, কেঅ্যান্ডকিউ বাংলাদেশ লিমিটেড, মাল্টিমোড ট্রান্সপোর্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড, মাল্টিমোড লিমিটেড, লাল তীর লাইভ স্টক লিমিটেড প্রভৃতি।ব্যবসা থেকে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ কেন— জানতে চাইলে তাবিথ আউয়াল বলেন, রাজনীতির প্রতি আগ্রহের বিষয়ে আমি এখনো নিশ্চিত নই। তবে মেয়র হওয়ার আগ্রহ আমার আছে। মেয়র হলে আমি করপোরেশন ব্যবস্থাপনায় সুযোগ পাব। আমি মনে করি, যারা এক বা একাধিক ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করেছেন, তাদের সেই অভিজ্ঞতা মেয়র হিসেবে আরো ব্যাপক পরিসরে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আর সফল ব্যবসায়ীমাত্রই এ কাজটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী জোনায়েদ সাকি ডিএনসিসির গত নির্বাচনেও একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। মূলত বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তারও রয়েছে ব্যবসায়িক পরিচয়। সাংগঠনিক কাজের অংশ হিসেবে প্রকাশনা ও পোশাক তৈরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি।যোগাযোগ করা হলে জোনায়েদ সাকি বলেন, শাসকগোষ্ঠীর বড় দুই দলের তত্পরতায় ঢাকা আজ অচল। এটি এখন সমস্যাবহুল নগরী। ঢাকাকে বাঁচানো দরকার। এ লক্ষ্যেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মেয়র হিসেবে নাগরিক সেবায় ভূমিকা পালন করতেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আর জনগণের সেবার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক স্বার্থে ঢাকার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করতে চাই আমি। আমি মানুষের মধ্যে সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে আরো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।নিজের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যবসার সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততার বিষয়টি হলো সাংগঠনিক কাজে আমি প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আর এছাড়া টি-শার্টের একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ ছিল, যেটি এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেগুলো পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত নই।ডিএনসিসি মেয়র পদে লড়তে নির্বাচনে আগ্রহী হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ. কে. আজাদও আছেন। কলেজে ভর্তির পর বামধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এ. কে. আজাদ ১৯৮৪ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে জেলেও যান। ছাড়া পেলে ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন জেলে বসেই। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্ পোশাক শিল্পের মালিক তিনি, যার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন।
মেয়র পদে নিজের আগ্রহের বিষয়ে এ. কে. আজাদ বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে নগরীর মৌলিক কিছু সমস্যা নিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে চাই। এর একটি হলো আবর্জনা ব্যবস্থাপনা। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো কয়েকটি জায়গায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এক ধরনের নিয়মের মধ্যে এসেছে। তবে এখনো রাজধানীর বড় অংশেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।আনিসুল হক মেয়রের দায়িত্বটাকে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে কাজগুলো সিটি করপোরেশনের করার কথা, সেগুলোয় তিনি হাত দেন। এর বাইরেও বেশকিছু উদ্যোগ নেন। তবে আমি মনে করি ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে যিনিই আসুন, এটা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে।সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী হিসেবে আগ্রহী বেসরকারি দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. এইচবিএম ইকবালও। ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত তিনি। ছিলেন সংসদ সদস্যও।মেয়র হিসেবে আলোচনায় নাম উঠে আসার প্রসঙ্গে ডা. ইকবাল বলেন, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ তেজগাঁও-রমনা আসনে আমি সংসদ সদস্য ছিলাম। এ নির্বাচনী এলাকাটিকে আমি বলি ‘মিনি বাংলাদেশ’। এখানে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে, তা অনন্য। মেয়র হয়ে এটি কাজে লাগাতে চাই।উল্লেখ্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯ জন। এদের মধ্যে নয়জনই ছিলেন ব্যবসায়ী।নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে রাজনীতি ব্যবসায় আর ব্যবসা রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। ফলে কোনোটিই ভালোমতো চলছে না। ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করে বিশেষ সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছেন। জাতীয় বা স্থানীয় সরকারসহ কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হতে পারছে না। ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত পৌরসভা নির্বাচনে ৮০ শতাংশ প্রার্থীই ব্যবসায়ী ছিলেন। আর এবার কাউন্সিলর পদে ৮০-৯০ শতাংশ ব্যবসায়ী।

About editor

Check Also

মহিলা ক্রিকেট দলের শিরোপা জয় উদযাপন করলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।।(ভিডিও সহ)

মহিলা ক্রিকেট দলের শিরোপা জয় উদযাপন করলো জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা।।(ভিডিও সহ) Related