কেমন নেতা জামায়াত প্রার্থী সেলিম উদ্দিন ?

কাশিমপুর কারাগারে থাকা অবস্থায় সারাদেশ ব্যাপী গ্রেফতার ধর পাকড়ের মাঝে বাদ যান নি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রার্থী সাবেক শিবির সভাপতি ও জামায়াত নেতা এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সেলিম উদ্দিন, আদালদ অবমাননার দায়ে র্যা্ব কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে তিনি ও কাশিমপুর কারাগারের চিত্রাতে আসেন, সেখানে অবস্থিত আরো তিনটি কয়েদীও হাজতীদের জন্য বরাদ্ধ ভবনের নাম পদ্মা,মেঘনাও কিশোর ওয়ার্ড।আমিও থাকতাম তখন মেঘনা ভবনে।চিত্রাতে তখন আরো উল্লেখযোগ্য বন্দীদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতের সাবেক আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীও।

গ্রেফতারকৃত সকল জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীদের নামে একাধিক মামলা থাকায় প্রায় প্রতি দিনই হাজার হাজার জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীদের প্রিজন ভ্যানে করে সেই বাদ ফজর উঠে ফাইলে বসে ঢাকায় কোর্টে হাজিরা দিতে আসতে হতো, আর ফিরতে ফিরতে সময় লাগতো জ্যামের পথ পাড়ি দিয়ে রাত কখনো ১২টা কখনো ২টাও বাজতো, এই দুর্ভোগ সহ্য করে গেছেন ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত সকল জামায়াতের শহীদ নেতৃবৃন্দকেও।

একদিন ভোরে সেলিম ভাইয়েরও মামলার হাজিরা থাকায় তিনি ফাইলে এসে দাঁড়ালেন, সেখানে যে সকল হাজতীদের তিনটির উপরে মামলা থাকে, তাদের পাঁয়ে দান্ডা ভেড়ি পরানো হয়, আর এই দান্ডাভেডি পরে হাঁটা চলা কত কষ্ট, দুই পাঁ দুই দিক মেলে অনেক কষ্টে হাঁটতে হয়, পাঁয়ে এংলেট লাগিয়ে পরলেও লোহার ঘর্ষনে পাঁয়ের চামড়া ছিঁড়ে দাগ বসে যায়,তার উপরে প্রায় ১৬ থেকে প্রায় ২০ ঘন্টার জার্নি, এমন দান্ডাভেড়ি পরে শুয়ে থাকা কত কষ্ট, আর সেখানে এতো বিশাল জার্নি কতটা পৌচাশিক আচরনের, যে পরে কেবল সেই বুঝতে পারে।

আর অধিক মামলার আসামী প্রায়ই হাজতীরা শিবির করা মাত্র ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী ছাত্র। এমন দুঃসহ অবস্থা দেখে সেলিম উদ্দিন ভাই খুব কষ্ট পেয়ে ছিলেন, এবং উপস্থিত কারারক্ষীদের উদ্দেশ্যে প্রতিবাদ জানালেন, এ অন্যায়, আপনারা কিসের ভিত্তিতে ওদের সাথে এমন আচরণ করছেন?

কারারক্ষীরা জবাব দিতে না পারায় জেল সুপারকে তারা খবর দিলেন, এবং তিনি আসলে কিছুক্ষন তারা একে অপরকে বুঝিয়ে নিতে চাইলেন, আর সেলিম ভাই কেবল সেটার জন্য আইন প্রয়োগের বিষয়টি কেবল তুলে ধরলেন, আর সেখানে সেলিম ভাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি ছিলো যা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তিনি বলে ছিলেন, ”জামায়াত শিবিরের সকল নেতা কর্মীদের যদি হাজিরা দেয়ার জন্য সকাল বেলায় ছেড়ে দেয়া হয়, এবং নির্দেশ দেয়া হয়, হাজিরা শেষে তারা সবাই যেন যথাস্থনে চলে আসে, একটি ছেলেও কারাগার ছেড়ে পালাবে না,বরং যথা সময়ে যথাস্থানে চলে আসবে, আমরা এমন জনশক্তি নিয়ে রাজনীতি করি”। সেই দিনের পর থেকে দান্ডাভেড়ি পরানোটা কিছুটা শিথিল হলে সাধারন হাজতীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমে গিয়েছিলো।

নিজের কথা না ভেবে যারা মানবতার পাশে দাঁড়ায়, মানবতার জন্য কাজ করে, সেলিম উদ্দিন তেমনি একজন মানবিক ব্যক্তিত্ব, তাই বলবো, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলও মানবতার কান্ডারী সেলিম ভাইকে ঢাকা বাসীর অভিভাবক হিসেবে খুবই প্রয়োজন, আল্লাহ যেন সবাইকে সঠিক বুঝ দান করেন এবং সেলিম ভাইকে বিজয় দান করে মানবতার সেবা করার তাওফীক দান করেন, আমীন।

Abu Bayan Helali

Comments Us On Facebook: