Saturday , October 20 2018
Home / পাঠক কলাম / ভুলে ভরা ফাজায়েলে আমাল সংস্কারের পক্ষে কথা বলাতে তাবলীগের ক্ষোভের মুখে মাওলানা সা’দ !

ভুলে ভরা ফাজায়েলে আমাল সংস্কারের পক্ষে কথা বলাতে তাবলীগের ক্ষোভের মুখে মাওলানা সা’দ !

প্রথমত বলে নেই…!!! আমি মাওলানা সা’দ সাহেবের পরিবর্তিত চিন্তা ধারার সাথে ১০০% একমত নই,আর এই লেখাতে মাওলানা সা’দ বা ওলামায়ে দেওবন্দ(একাংশ)কারোরই পক্ষে বা বিপক্ষে বলা হয় নি। এখানে কেবল মূল গভীরতায় যাওয়া চেষ্টায় কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে।

মাওলানা সা’দ কান্ধলবীর বিষয়ে ওলামায়ে #দেওবন্দ কেন সোচ্চার হলেন এই বিষয় নিয়ে যথেষ্ট গবেষনার দাবি রাখে। মাওলানা সা’দ তাবলীগি নেজামে, উসুলে কি পরিবর্তন আনলেন যে দেওবন্দকে সংকিত হয়ে ফতোয়া প্রদানের মতো কাজে নামতে হলো ?

মওলানা সা’দ কান্ধলবীর বিষয়ে ওলামায়ে দেওবন্দ যে সব কারনে সোচ্চার হয়েছেন মর্মে অন লাইনে ভাইরাল হওয়া কিছু বক্তৃতা বিবৃতি কাটপিচ দেখছি, সেগুলো আদতে কোন বিষয়ই নয়। ব্যাপারটির গভিরে অনেক বড় বড় তাবলীগ প্রেমীও যেতে পারেননি। এটা আমার ধারণা নয়, পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া স্বিদ্ধান্ত। .

দেওবন্দের সাথে হু হা করার রেওয়াজ সেই পুরনো। বলতে পারেন এটা কওমী ঘরনার এক প্রকার বিধানের মতোই। দেওবন্দের ভাবনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ কওমী হযরতগনের নেই বা থাকলেও খুবই সিমীত। ‍যে বা যারাই এই দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাদেরকেই ফতোয়ার বানে জর্জরিত হতে হয়েছে। তাদের কথা ও কাজকে চালুনী দিয়ে ছেকে নিত্য নতুন গোমরাহী বের করা হয়েছে। দির্ঘদিন যার বিষয়ে ইতিবাচক ছিলো, হটাৎ দেওবন্দের সীমার বাইরে যাওয়ার সাথে সাথেই তার বিষয়ে নেতিবাচক হয়ে যাওয়ার বহু ঘটনা রয়েছে।

দেওবন্দের সংকিত হওয়ার পেছনে গুরুত্ব্যপুর্ণ যে কারণটি রয়েছে সেটা নিয়ে আমরা একটু আলোচনা করতে চাই। প্রথমত দেওবন্দের ফতোয়ার গুরুত্ব্যপুর্ণ একটি প্যারা নিয়ে আলোচনা হোক। দেওবন্দ দাবি করছে, মাওলানা সা’দ তাবলীগের দির্ঘদিনের রেওয়াজ, তরিকায় ভিন্নতা আনার চেষ্টা করছেন।

প্রশ্ন হলো, কি সেই ভিন্নতা যা দেওবন্দ কে এই মর্মে সংকিত করে তুললো যে, তাবলীগ দেওবন্দের কন্ট্রোল থেকে সরে যাচ্ছে ? মুলত এটা বুঝতে হলে আপনাকে তাবলীগের পেছনের দিকের কিছু ইতিহাস জানতে হবে। প্রথম দিকে তাবলীগের কার্যক্রম যখন চালু হয়, ঠিক তখনি দেওবন্দের অন্যতম শায়েখ হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ সরাসরি প্রতিবাদ শুরু করেন।

তিনি তার লিখনি, বক্তৃতা বিবৃতিতে তাবলীগের উসুলকে নতুন পন্থা হিসেবে বিশ্বাস প্রচার করতে শুরু করেন। থানবী হযরতের দ্বিমতের কারণে দেওবন্দের অন্যান্য ওলামারাও কিছু বেকে বসেন। অতঃপর ইলিয়াস রহ নিজের থানবী ভবনের খানকায় গিয়ে থানবী রহ এর সাথে দির্ঘক্ষন ধরে সারাসরি আলাপ করে ব্যাপারটি ক্বিয়ার করে দেন। তিনি তাকে আশ্বস্ত করেন, তাবলীগ দেওবন্দী তরিকার বিরুদ্ধে কোন কথা বলবে না। বরং দেওবন্দী সুলুকি পন্থাকে আরো নিপুণ ভাবে প্রচার করবে, সুফীবাদের বিরুদ্ধে যাবে না, বরং সূফীদের গনিষ্ট হতে ‍উৎসাহিত করবে।

বিষয়টি নিয়ে মাওলানা ইলিয়াস রহ লিখেন, থানবী হযরত আশংকা করেছিলেন যে, এর দ্বারা দির্ঘদিনের ইসলাসি পদ্ধতিতে পবিরর্তন আসতে পারে বা মানুষ তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে পারে। তিনি অবশেষে এই শর্তে তাবলীগের কার্যক্রমের বৈধতা দেন যেন, তাবলীগের সাথে সময় দেওয়া লোকেরা অন্তত দশ দিনের জন্য হলেও যেন থানবী রহ এর খানকায় সময় লাগিয়ে যায়।

এরি ধারাবহিকতায় দির্ঘ দিন ধরে তাবলীগ জামায়াতের কেন্দ্রিয় পর্যায়ের মুরব্বিরা দেওবন্দের যে কোন মাশায়েখের খানকার সদস্য হয়ে আসছেন এবং তাবলীগের বহুল পঠিত ফাজায়েলে আমলের ভিতরে মাশায়েখদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের জোড় দিয়ে আলাদা একটি প্যারা যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বলা হতো. তাবলীগের দাওয়াত সুফীবাদের দিকে মানুষকে ঠেলে দেয়। পুরাপুরি মিথ্যা ছিলোন, আংশিক সত্য তাবলীগের দাওয়াতী মেজাজকে বিতর্কিত করে দিতো।

মাওলানা সা’দ সাহেব সেই ব্যক্তি যিনি দেওবন্দের এই উসুলে বাধার সৃষ্টি করেছেন। সা’দ সাহেব তাবলীগের বের হওয়ার চাইতে জরুরী আর কোন আমলে বিশ্বাস করেন না। পীরের খানকায় ইসলাম খোজার মতো কাজকে তিনি জাহালাত মনে করেন। তার সাথে দির্ঘক্ষন সময় দেওয়া একজন বলেন, তিনি তাবলীগে বের হওয়াকে ফরজ হিসেবে বিশ্বাস করেন। বরং যেসব পীরেরা দরবারী খানকা বানিয়ে মানুষদের নিজের দরবারের দিকে আকৃষ্ট করছে, তিনি তাদের ওলামায়ে ছু হিসেবে বিশ্বাস করেন।

তাবলীগের সাথীদের সামনে বয়ানে বার বার স্পষ্ট করে বলেছেন, মাদ্রাসায় শিক্ষিত হয়েও যদি কেউই দ্বীনের পথে (তাবলীগের পথে) না বের হয়, তাহলে সে আলেম নয়। এর দ্বারা প্রকারন্তরে দেওবন্দী সিলসিলায় পরিচালিত বহু খানকা, দরবারকে প্রশ্নের মুখোমুখি করে দেওয়া হয়েছে। যে বা যারা তাবলীগে সময় না দিয়ে খানকার দ্বারা মানুষের হেদায়েত প্রত্যাশা করেন, তাদের কাজের বিষয়ে নতুন করে ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

দ্বিতীয় কাজ যেটি তিনি করেছেন সেটা হলো, ফাজায়েলে আমলের ওপরে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগগুলো তিনি নিজের পর্যালোচনা করেছেন। আরব অঞ্চলে ফাজায়েলে আমল কিতাবের বিষয়ে সেবব নেতিবাচক তথ্য রয়েছে তিনি সেগুলো গভির ভাবে অধ্যায়ন করেছেন।

অধ্যায়নের এ পর্যায়ে তিনি উপলদ্ধি করলেন যে, সত্যিই ফাজায়েলে আমল কিতাবে এমন সব বর্ণনা রয়েছে, হাদিসের নামে এমন সব জাল তথ্য পরিবেশিত হয়েছে যা এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। ফলে আরব বিশ্ব সহ অন্যান্য অভিযোগকারীদের কাছে তাবলীগ জামায়াতের অবস্থান সহজ করার নিমিত্তে তিনি দৈনিক অধ্যায়নের অংশ থেকে ফাজায়েলে আমল কিতাবটি আপাতত বাতিল করে দিয়েছেন।

নিজের সংকলিত মুন্তখাবে হাদিস এবং ইউসুফ রহ এর ফাজায়েলে সাদাক্বাত তালিমের রেওয়াজ চালূ করেছেন। এটা দেওবন্দের ওলামাদের কাছে আশ্চার্য্যজনক মনে হয়েছে। তারা বুঝতেই পারছেন না কার সাথে আলাপ করে এত বড় স্বিদ্ধান্ত সা’দ সাহেব নিলেন। তাছাড়া এই ফাজায়েলে আমল কিতাব নিয়ে নেতিবাচক স্বিদ্ধান্ত নিয়ে সা’দ সাহেরব ওলামায়ে দেওবন্দের বিশাল এক অংশের ইলমী যোগ্যতার ওপরও প্রশ্নবোধক চিহ্ন একে দিয়েছেন।

কারণ ইতিপুর্বে ওলামায়ে দেওবন্দের বিশাল এক অংশ ফাজায়েলে আমল কিতাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আপত্তিগুলোকে খন্ডন করে নিজেরা কিতাব রচনা করেছেন। তারা বার বার দাবি করেছেন,ফাজায়েলে আমল কিতাবে এমন কিছু নেই যা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে।

মাওলানা সা’দ কান্ধলবীর এই স্বিদ্ধান্ত ঐ সমস্ত ওলামাদের চিন্তাধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিয়েছিলো। ওলামায়ে দেওবন্দ ফাজায়েলে আমলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যেখানে পাত্তাই দিচ্ছেন না, সেখানে আলেম না হয়েও তিনি এমন একটি কিতাবকে অধ্যায়নের তালিকা থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছেন যেটা দেওবন্দের কোন এক শায়েখ কর্তৃত লিখিতই নই, বরং এর পক্ষে দেওবন্দের অসংখ্য ওলামাদের ইজাজত রয়েছে।

ফলশ্রুতিতে দেওবন্দের মনে আশংকা জাগলো যে, সা’দ সাহেবের চিন্তাধারার প্রচলন যদি তাবলীগের ওপর থেকে নিচে প্রবাহিত হতে থাকে, তাহলে দেওবন্দী সিলসিলার ওপরে মানুষের আস্থা উঠে যেতে থাকবে। ফলে সা’দ সাহেবের বিরদ্ধে ফতোয়া দেওয়ার মনস্থিরে পুর্বেকার বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতি, আলোচনা, আ’ম বয়ান থেকে সংকলিত উদ্ধৃতিকে পুজি করা হলো।

আপনি যদি মনে করে থাকেন যে, সা’দ কান্দলবীর মুখের কিছু কথার কারণেই তাকে হেনস্তা করা হচ্ছে তাহলে ভুল করবেন। কারণ মুখের কথায় ভুল হয় না, ভুলকরতে পারেন না, এমন কজন পাবেন। কারো দু একটি কথাকে ভিন্ন অর্থ. করে, ফিকহী বিষয়ের ইখতেলাফকে পুজি করে এত হাঙ্গামা হতে পারে ? মোটেও না, এর পেছনে রয়েছে গভির ভাবনা! এদেশের পীরালী ব্যবসার সাথে জড়িত একটি গ্রুপ যখন বলেই দেয়, আসল তাবলীগ চলবে, সা’দ সাবের তাবলীগ নয়। তখন তো বুঝতেই পারেন, সা’দ সাহেবের চিন্তাধারার সাথে ওলামায়ে দেওবন্দের সাথে সা’দ সাহেবের বিরোধ কোত্থেকে শুরু হয়েছে !!

সব শেষে আবারো বলছি…!!! এই লেখাটাই চুড়ান্ত নয়,বিষয়টা আরো ব্যাপক গবেষণার দাবী রাখে,কেবল অন্ধ ফতুয়া নয়,বা একক মহলের স্বার্থেও নয়,বরং এসবের বাইরে ইসলামকেই প্রায়রোটি দিতে হবে সর্বাগ্রে। আমরা গোটা তাবলীগী নেসাবটাই সহী সুন্নানাহকে প্রায়রোটি দিয়ে(স্থান,কাল,পাত্রভেদে)ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনায়(আলাদা আলাদা কর্মপন্থায়)আমুল পরিবর্তন হোক এটাই চাই

Apu Ahmed

About banglamail

Check Also

অর্থের অভাবে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ দেয়া সম্ভব ন​য় !

সরকারের মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু চালুর দিন থেকে সেতুর ওপর দিয়ে রেল যোগাযোগ চালুর …