Thursday , October 18 2018
Home / আলোচিত সংবাদ / প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, পুলিশ ধরে নিরীহদের

প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি, পুলিশ ধরে নিরীহদের

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় প্রকাশ্য মাদক বিক্রি করা হয়। কিন্তু পুলিশ এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। মাঝেমধ্যে তাঁদের আটক করলেও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। অথচ নিরীহ লোকজনদের ধরে থানায় আটক রেখে মাদকের মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে।গতকাল সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব অভিযোগ করা হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা পারভীন।সভায় শালনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খান তসরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ইউপির মণ্ডলবাগ বাজার, মাকড়াইল, আপিলগেট ও রামকান্তপুর গ্রামে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। সেখানে পুলিশ যায়, তাঁদের (মাদক বিক্রেতা) সঙ্গে কথা বলে চলে আসে। এ ইউনিয়নে ছয়জন বড় মাদক ব্যবসায়ী আছেন। তাঁরা পাইকারি বিক্রেতা। তাঁদের নাম-ঠিকানা বহুবার পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।’
ইতনা ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান বলেন, ‘মাদক বিক্রির স্থান ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম অনেকবার পুলিশকে দিয়েছি। কিন্তু লাভ নেই। আতশপাড়া গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী শোয়াইবকে ইতনা থেকে ধরে এনে পুলিশ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিলে মাদক নির্মূল কীভাবে হবে?’
মল্লিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, করফা, আতশপাড়া ও দোয়ামল্লিকপুর মাদকের বড় স্পট। আতশপাড়ার মহাসীন মীরের দোকানের পাশে মেহগনি বাগানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। পুলিশ সেখানে যায়। কিন্তু ব্যবস্থা নেয় না। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দোয়ামল্লিকপুর গ্রামের অশোক বিশ্বাস একজন নিরীহ মানুষ। আমার জানামতে তিনি মাদকের সঙ্গে জড়িত নন। অথচ গত শনিবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান তাঁকে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ধরে থানায় নেন। আমি তাঁকে ছাড়ানোর জন্য থানায় গেলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন, না দিলে ২০টি ইয়াবা দিয়ে অশোকের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। পরে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে ছাড়িয়ে আনা হয়।’
এই অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে এএসআই লুৎফর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘তাঁকে (অশোক) ধরা হয়েছিল, পরে চেয়ারম্যানের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে টাকা আদায়ের মতো কিছু ঘটেনি।’সভায় জয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, ‘তাঁর ইউপিতে মাদকের পরিবেশক (ডিলার) ওসহপরিবেশক (সাব-ডিলার) আছেন। তাঁদের ধরা হয় না। ধরা হয়, যাঁরা এক পুরিয়া গাঁজা সেবন করেন, তাঁদের। জানি না, পুলিশ মাসোহারা পায় কি না।’নলদী ইউপি চেয়ারম্যান

আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত তিন-চার মাস মাদকের ব্যাপারে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল শকদার বলেন, ‘পুলিশের কাছে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা আছে। সেই তালিকার লোকদের ধরতে দেখি না।’
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফকির মফিজুল হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা সভায় সবাই আজ মুখ খুলেছেন, ঝড় তুলেছেন। তাতেই বোঝা যায় কী ভয়াবহ অবস্থা! এরপরে যেন এ রকম আর না শুনতে হয়।’এসব বক্তব্যের জবাবে লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম জাফর আলী বলেন, ‘ঢালাওভাবে অভিযোগ করা হলো। এতে কষ্ট পেলাম। এ উপজেলায় বড় ডিলার নেই। ছোট ছোট ডিলার আছেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদক নির্মূলে আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু কাছে মাদক না পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’ইউএনও মনিরা পারভীন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

About editor

Check Also

দুর্ঘটনার ওপর কারও হাত নেই – জাফর ইকবাল

আমি দুর্বল প্রকৃতির মানুষ। মাঝে মাঝেই আমি খবরের কাগজের কোনো কোনো খবর পড়ার সাহস পাই …