Thursday , October 18 2018
Home / রাজনীতি / শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই – সাইফুর রহমান সোহাগ (ভিডিওসহ​)

শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই – সাইফুর রহমান সোহাগ (ভিডিওসহ​)

ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগের উত্তর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন নবনীতা চৌধুরী!! “বর্তমান সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার, যেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন সুযোগ নেই” -লীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ! উল্লেখ্য,খোদ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রশ্নফাঁস নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেছেন, কতিপয় শিক্ষকের কারণেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। তবে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কিছুই বলেননি তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে গতকাল সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুদক কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে পেশ করে এবং এ বিষয়ে মতবিনিময় করে। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর-সংস্থার প্রধান এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিম’ এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি গত ১৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীকে পাঠানো হয়। গতকালের মতবিনিময় সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আমাদের কাছে বহু পরামর্শ আসছে। এরমধ্যে পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করার পর প্রশ্নপত্র পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনা হচ্ছে। তবে শিক্ষকই যখন প্রশ্ন ফাঁসকারী, তখন আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্ন পাঠিয়ে কী লাভ?

তিনি বলেন, বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নফাঁস রোধের বিভিন্ন উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষকের হাতে প্রশ্ন তুলে দিয়ে রাতে ‘নিশ্চিন্তে ঘুমাতে যাওয়া উচিত’। কিন্তু সেটা হচ্ছে না, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁসের জন্য শিক্ষকদের দুষলেও দুদকের ‘শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক টিমের’ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ সরকারি প্রেস (বিজি প্রেস), ট্রেজারি ও পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোচিং সেন্টার, প্রতারক শিক্ষক ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রও যুক্ত থাকতে পারেন। মতবিনিময় সভায় দুদক কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ সাংবাদিকদের বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষকদের লোভ দেখায়, যে কোনোভাবে প্রশ্নফাঁস করে তাদের শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করাতে পাড়লে কোচিং ব্যবসা ভালো হবে। টাকা আয়ের পরিমাণটাও বাড়বে। এসব লোভের কারণে শিক্ষকরাই কোচিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। তিনি বলেন, কিছু শিক্ষক ক্লাসে না পড়িয়ে বাড়িতে বা কোচিংয়ে পড়ান। যত নামি শিক্ষক, ক্লাসে ‘তত কম’ পড়ান; কারণ ক্লাসে ভালো পড়ালে তার ‘ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে’। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আইন না থাকায় সরকার এখন কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুদকের সঙ্গে মিলে লড়াই করবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের এই প্রতিবেদন সময়োপযোগী, এর অধিকাংশ সুপারিশই আমাদের নজরে রয়েছে। দুদকের কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসসহ শিক্ষায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে জানতে চান, বছরের পর বছর যেসব শিক্ষক ঢাকায় আছেন, তাদের বদলি করা হয় না কেন? একই সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোয় দরপত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিভি) চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চান দুদক কমিশনার।

About banglamail

Check Also

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ নিতে পরিবারের অস্বীকৃতি, দাফনে বাধা

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কে এম মোশাররফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান …