আর কয়েন না, বাপ-ব্যাটা দুটাই জামায়াত করে !

গতকালকে একটি বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে মেয়ের ভাইর সাথে নামাজ আদায় করতে গিয়ে বুঝলাম তিনি সম্ভবত আহলে হাদিস। কৌতুহলী হয়েই তার বিষয়ে খোজ নেওয়া শুরু করলাম। বাড়ির সামনের দোকানদার আহলে সিন্নীর কাদরী গ্রুপের লোক ছিলেন। ভাবলাম এর থেকে সঠিক খবর আর কেউ দিতে পারবে না। জিঞ্জেস করলাম, ভাই লোকটি কি রকম ?

বললো, আর কয়েন না, বাপ ব্যাটা দুটাই জামায়াত করে। মসজিদে তাদের যন্ত্রনায় ঠিক মতো মিলাদ ক্বিয়াম করা দুস্কর। মাঝে মাঝে পীর সাহেবরা আইসা বয়ান করতে চান, কিন্তু ঐসব বেয়াদবরা যখন বাড়িতে থাকে, তখন হুজুর মসজিদে আসতে চান না। বলেন, ঐ ওহাবী যতক্ষন বাড়িতে থাকে, আমাকে মসজিদে ডাকবা না !!

বললাম, ছেলেটি করে কি ? বললো, ……..র বিশাল বড় অফিসার। হায় হায় বলে কি ! জামায়াত করে, অথচ সে সরকারী চাকুরীতে আছে, তাও এত গুরুত্ব্যপুণ সিকিউর পদে! তাহলে তো জামায়াত মনে হয় ছেড়েই দিয়েছে। বললাম, তারা বাড়িতে থাকলে মসজিদে পীর সাহেব আসেন না কেন ? বললো, আরে ভাই কোন ওয়াজ করলে, কোন ঘটনা বললেই মাঝ পথে থামিয়ে দিয়ে প্রশ্ন করে, হুজুর এই ঘটনা কোন কিতাব থেকে নিলেন। মানুষরে বুঝায় হুজুরে নাকি জাল হাদিস কয়। কনছেন, এত বড় বুজুর্গ মানুষ কি জাল হাদিস চিনে না ?

আমি কথা বাড়ালাম না। বাড়িতে গিয়ে তাকে নিজের পরিচয় দিয়ে বললাম, এখন কি অবস্থায় আছেন ? সাংগঠনকে ভুলে গেছেন ? তিনি বললেন, ভাই সংগঠনের কাছে আমি এতটা ঋৃনী যে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। ক্যারিয়ান গঠনের প্রাক্কালে সংগঠনের উপদেশ আজকে কাজে দিয়েছে। আজকে এত ‍গুরুত্ব্যপুর্ণ স্থানে চাকুরী করি, সেই জায়গায় পৌছার যোগ্য সংগঠন করেছে। আল্লাহ পাক সংগঠনের উসিলায় আমার মতো হাজারো যুবককে বাচিঁয়ে দিয়েছে, নইলে স্রোতের গড্ডালিকায় হারিয়ে যেতাম।

বললাম, সেটা কিভাবে ? তিনি বললেন, আমি যখন চাকুরীতে জযেন্ট করি তার আট মাস পড়ে আমার সিনিয়র বস তার চেম্বারে আমাকে ডেকে নিয়ে বললেন, কি অবস্থা, কাজ কর্ম কেমন চলছে। আমি স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললাম, মোটামোটি চলছে স্যার। তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, সাংগঠিক কাজ কর্ম কেমন চলছে ? আমি তো হতভম্ব হয়ে গেলাম। বলে কি ! আমার বস জামায়াত ইসলামী করে, সেটা আমি তে দেরিতে জানলাম। আট মাস পরে !!

তিনি আমাকে কাছে টেনে নিয়ে গিয়ে বললেন, সংগঠণ তোমাকে এখানে আসার জন্য যোগ্য করে গড়ে তুলেছে, তুমি বাইতুল মালে এয়ানত দেবে, তার জন্য নয়। সংগঠণকে, সংগঠনের চাওয়া পাওয়াকে ভুলে যেও না ! সংগঠন তোমার কাছে কি চায় সেটা জানো তো ? আমি বললাম, জ্বী জানি ! তিনি বললেন, বলো কি চায় ? আমি নিজের মতো কিছু কথা বললাম। যেমন আন্দোলন সংগ্রাম ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়ে। তিনি বললেন, তোমার ভাবনাটা আরো প্রশস্ত করতে হবে !

সংগঠণ চায় তুমি যেখানেই থাকো, নিজের মানউন্নয়ন নিয়ে ভাবো। সংগঠন চায় তুমি সব জায়গায় নিজের আমল, আখলাক দিয়ে নিজেকের জান্নাতের অধিকারী করো। পৃথিবীতে একটি মানুষও যদি জান্নাতের জন্য হকদ্বার হয়, সেটি যেন তুমিই হও, এটাই সংগঠনের তোমার কাছে একমাত্র চাওয়া। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের লক্ষ বানাও।

আমি মন্ত্রমুদ্ধের মতো কথাগুলো শুনছিলাম। যখন কেবিন থেকে বের হলাম, তখন একজন ভাইকে ফোন করে একটি রিপোর্ট বইর অর্ডার করলাম। গোপনে হলেও আমাকে মানউন্নয় করতে হবে। স্বিদ্ধান্ত নিলাম, সংগঠনের চাওয়া পুরনে আমি আমার সবটুকো দিয়ে দেবো ইনশায়াল্লাহ !!

আল্লাহর কসম করে বলি, ভাইটির মুখ থেকে বের হওয়া কথাগুলো এতটা দরদমাখা ছিলো, তার চেহারায় আন্তরিকতার এতটা ছাপ ছিলো যে, আমি নিজের মানের দিকে তাকিয়ে জাহান্নাম ছাড়া কিছুই দেখিনি। দোয়া করুন, আমি যেন নিজের মানউন্নয়ন ঘটাতে পারি। আল্লাহ পাক তৌফিক দান করুন।

Comments Us On Facebook: