১৪ বছরেও বিচার হয়নি মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম সুরুজ হত্যার

মো:হযরত আলী (লালমনিরহাট প্রতিনিধি: জেলার আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি
ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়ি ফেরার পথে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম সুরুজ হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শুরু হয়নি।

এ ঘটনার পর তার ছোট ভাই আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম সুরুজ লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া, কমলাবাড়ি ইউনিয়নের
টানা ছয়বারের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। শুধু তাই নয়, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মামলা সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কমলাবাড়ি
ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ি এলাকার মৃত কিসমত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ও আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে আব্দুল মান্নান পূর্ব শত্রুতার জেরে দলবল নিয়ে সুযোগ বুঝে মুক্তিযোদ্ধা সামসুল ইসলাম সুরুজের বাড়ি ফেরার পথে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

এই হত্যা মামলার তদন্তের দ্বায়িত্ব পায় সিআইডি।তারা তদন্ত করে আরও চারজনকে আসামী করে মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন। এ মামলার বিচারকাজ শুরু না হলেও এরই মধ্যে মামলার ২নং।আসামী আব্দুল মান্নান ও ১৭নং আসামী তোতা মিয়ার মৃত্যু হয়। বাকি আসামীরা রয়েছে জামিনে।

দলের এ ত্যাগী নেতার মৃত্যুর কয়েকদিনের মধ্যে
আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
ছুটে আসেন। পরিবারকে শান্তনা-সমবেদনার
পাশাপাশি খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়
করিয়ে উপযুক্ত শাস্তির আশ্বাস দেন। এমনকি
সুরুজের বড় ছেলে ইমরুল কায়েস ফারুকের লেখাপড়া থেকে সবকিছুর দায়িত্বও তিনি নেন। নিজ বাসায় রেখে লেখাপড়া শিখিয়ে তাকে বড় করেন শেখ হাসিনা।

বড় ছেলে ইমরুল কায়েস ফারুক জানান, বিচারকাজ শুরু না হওয়ায় অনেক আলামত নষ্ট হতে বসেছে। কেউ আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছে, যা মামলার বিচারকাজে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি এজাহারভুক্ত
দুইজন আসামী মারাও গেছেন। তবে আগামী দিনে বিচারকাজ শুরু হতে পারে বলে আমি আশাবাদী।

লালমনিরহাট আদালতের সরকারি কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট আকমল হোসেন জানান, বিচারকের বদলি জনিত কারণে কয়েক দফায় দিনক্ষণ পেছালেও আগামী ৫ মার্চ বিচার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিন বাদীর জবানবন্দীর মধ্যদিয়ে বিচারকাজ শুরু হবে।

Comments Us On Facebook: