ইন্দুরকানীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা

স্টার রিপোর্টার: ইন্দুরকানীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে উপজেলার দু’গ্রুপের মধ্যে বাগ্‌-বিতণ্ডা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমপি আউয়ালের অনুসারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উপেক্ষা করে পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ উপজেলা কার্যালয়ের সামনে আগামী ২৮ ডিসেম্বর এক বর্ধিত সভার আয়োজন করতে চায়। বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল।

সোমবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালের ভাতিজা ডালিম খলিফার নেতৃত্বে এমপি অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আ. লতিফ হাওলাদার, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সিকদার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন গাজী, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ রানাসহ কিছু নেতাকর্মী উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে হঠাৎ ঢুকে বর্ধিত সভার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।

তখন অফিস দখলের খবর পেয়ে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌর মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেকের অনুসারী সাইদুর রহমান, মাহাবুব আলম ফকিরসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ছুটে এলে উভয় গ্রুপের মধ্যে বাগ্‌-বিতণ্ডা হয়। পরে এমপি আউয়াল গ্রুপের সমর্থকরা অফিস ছেড়ে উপজেলার সামনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

তখন মেয়রের অনুসারী নেতাকর্মীরা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. নাসির উদ্দিন একদল পুলিশ নিয়ে অবস্থান করেন। তিনি উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের শান্ত করেন।

পত্তাশী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান সিকদার জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর সংসদ সদস্য একেএমএ আউয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন। তাই বর্ধিত সভার স্থান দেখতে উপজেলা কার্যালয়ে এলে পৌর মেয়র গ্রুপের নেতাকর্মীরা বাগ্‌-বিতণ্ডা করেন। পরে কার্যালয় থেকে চলে আসেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃধা মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা আ’লীগের সহসভাপতি আ. লতিফ হাওলাদারের নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দখল করতে আসে। তাদের আমরা অফিসে অবস্থান করতে দেইনি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কোনো বর্ধিত সভা করতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানাবেন।

এ বিষয়ে তাদের কোনো কিছু জানানো হয়নি। এমপি একেএমএ আউয়ালের অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ৮ মাস ধরে উপজেলা কার্যালয়ে আসেন না। অন্যদিকে পৌর মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেকের অনুসারী উপজেলা আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দখলে রয়েছে উপজেলা কার্যালয়।

Comments Us On Facebook: