Sunday , May 27 2018
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / আবারো অসাম্প্রদায়িকতার নামে দাড়ি-টুপির অবমাননা !

আবারো অসাম্প্রদায়িকতার নামে দাড়ি-টুপির অবমাননা !

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অসাম্প্রদায়িকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে যখন রাজাকার-আল বদর হিসেবে শুধু দাড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিদের উপস্থাপন করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত সমাবেশে দাহ করার জন্য রাজাকারের যেসব কুশপুত্তলিকা তৈরি করা হয় সেখানেও দেখা যায় বাস্তব জীবনে ওই ব্যক্তির সাথে দাড়ি-টুপির কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তার কুশপুত্তলিকায় টুপি পরানো হয়েছে। অথবা এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে ওই কুশপুত্তলিকা যে দাড়ি-টুপি পরা একজন ব্যক্তির তা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে কোনো ব্যঙ্গ চিত্র অথবা ছবি আঁকা হলে সেখানেও দেখা যায় ছবিতে দাড়ি-টুপি পরা ব্যক্তিদেরই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। ফলে সাধারণভাবে তরুণ প্রজন্মের কাছে এমন বার্তা যাচ্ছে যে, রাজাকার মানেই দাড়ি-টুপি আর পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তি।

কিন্তু বাস্তবে, দাড়ি-টুপি পরা ব্যক্তি মানেই কি রাজাকার? এ প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অনেকেই ছিলেন দাড়ি-টুপি আর পাঞ্জাবি পরা সাচ্ছা মুসলমান। বর্তমানে দাড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবি বয়সের ভারে নুব্জ্য অধিকাংশ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার জীবনের অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলে, একাত্তরে টুপি দাড়ি রাখা মাওলানারা যেমন রাজাকার হয়েছিলেন, তেমনি প্যান্ট, স্যুট টাই পরা সবুর খান, শাহ আজিজুর রহমান, খাজা খয়ের উদ্দিন, ফজলুল কাদের চৌধুরী প্রমুখ উচ্চ শিক্ষিত বাঙালিরাও ওই দলে যোগ দিয়েছিলেন। কম সংখ্যায় হলেও বহু হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোক শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। বামপন্থিদেরও অনেকেই ছিলেন পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগী।

অন্যদিকে বামপন্থি-ডানপন্থি প্যান্ট শার্ট আর গেঞ্জি পরা তরুণদের পাশাপাশি দাড়ি-টুপি ও পাঞ্জাবি পরা হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। পাকিস্তানি হানাদারদের মোকবেলায় বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে তারা একটু কুণ্ঠিত হননি। প্রকৃতপক্ষে, মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো এক শ্রেণির লড়াই ছিল না, তেমনি যারা পাকিস্তানিদের সহযোগী ছিলেন তারা কোনো এক বিশেষ পোশাক পরিধান করেছিলেন এমনটি সত্য নয়। তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে রাজাকারের কুশপুত্তলিকা তৈরি অথবা প্রতিচিত্র আঁকতে দাড়ি-টুপির ব্যবহার বন্ধ করা দরকার। রাজাকারের প্রতিচিত্র অথবা কুশপুত্তলিকায় দাড়ি-টুপির ব্যবহার করা হলে ওই একই পোশাক পরিধানকারী মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়। আর এতে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাও হয় প্রশ্নবিদ্ধ।

About banglamail

Check Also

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় করতে গেলেই,মিডিয়ায় রণি সন্ত্রাসী

বিশেষ প্রতিবেদক চট্টগ্রাম: কিছুদিন আগে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় …