Thursday , April 26 2018
Home / স্লাইডার / মুর্তি একটি শিল্প । হেফাজতের দাবি মেনে মুর্তি সরানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি

মুর্তি একটি শিল্প । হেফাজতের দাবি মেনে মুর্তি সরানোর প্রতিবাদ জানাচ্ছি

গত সপ্তাহে আমি কয়েক দিন কোনো পত্রিকা পড়িনি। বাসায় পত্রিকা এসেছে কিন্তু আমি ভাঁজ না খুলে পত্রিকাটি রেখে দিয়েছি; এটি আগে কখনো ঘটেনি। গত শুক্র-শনিবার আমার জীবনে এটা ঘটেছে। আমার পত্রিকা খুলতে ইচ্ছা করেনি। কারণ আমি জানতাম, পত্রিকাটি খুললেই আমি দেখতে পাব, সেখানে লেখা থাকবে হেফাজতে ইসলামের ইচ্ছা পূরণ করার জন্য হাইকোর্টের সামনে বসানো একটা ভাস্কর্যকে রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এটাও জানতাম, সেখানে সরকারের বড় বড় মন্ত্রীর আরো বড় বড় বক্তব্য থাকবে, যেখানে এই কাজটিকে সমর্থন করে অনেক কিছু বলা হবে, শুধু মুখ ফুটে কেউ সত্যি কথাটি বলবে না, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে এখন ভাস্কর্য বসানো যায় না। শুধু তা-ই না, বসানো হলেও হেফাজতে ইসলামকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য সেটাকে রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নিতে হয়।

আমার অবস্থা উটপাখির মতো, উটপাখি বালুর ভেতর মাথা ঢুকিয়ে রেখে যখন চারপাশের কিছু দেখে না, তখন নাকি তার ধারণা হয় তাকেও কেউ দেখছে না। আমিও পত্রিকা পড়া বন্ধ করে দিয়ে যখন কোনো খবরই রাখছি না, তখন মনে মনে ভাবছি দেশেও বুঝি কিছু ঘটছে না কিন্তু আসলে যা ঘটার সেটি ঘটে গেছে। জানতে পেরেছি, আমাদের কিছু তরুণ ঘটনাটি ঘটতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছিল, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা এ দেশের ৩০ লাখ শহীদের পক্ষ থেকে এই ঘটনাটির প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছে।

আজকাল আমার মাঝেমধ্যেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসটির কথা মনে পড়ে। ১৬ তারিখ ঠিক বিকেলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে, আমি পরদিন ভোরে যাত্রাবাড়ী থেকে হেঁটে হেঁটে ঢাকা শহরে আসছি। চারপাশে নানা কিছু ঘটছে। তার মধ্যে আমি একবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছি, একবার ডানে ও বামে তাকাচ্ছি এবং মনে মনে ভাবছি, এই যে আমার স্বাধীন বাংলাদেশ, এটি আমার দেশ। আমাদের আর কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, কোনো কিছু নিয়ে দুর্ভাবনা করতে হবে না। আমরা যা যা স্বপ্ন দেখেছি, তার সব কিছু এখন সত্যি হয়ে যাবে। আর কিছু নিয়ে কোনো দিন আন্দোলন বা সংগ্রাম করতে হবে না।

এখন আমি ভাবি ও মনে হয়, আমি কতই না ছেলেমানুষ ছিলাম! কখনো কী ভেবেছিলাম, মাত্র চার বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এভাবে হত্যা করা হবে? চার জাতীয় নেতাকে জেলখানায় হত্যা করা হবে? একযুগ থেকে বেশি সময় দেশকে মিলিটারিরা শাসন করবে, দেশকে পুরো উল্টোপথে ঠেলে দেবে? সব যুদ্ধাপরাধী ছাড়া পেয়ে যাবে, শুধু তাই নয়, তারা একদিন মন্ত্রী হয়ে সরকারের অংশ হয়ে যাবে? শুধু এখানেই শেষ হয়ে গেলে ইতিহাসটি হতো দীর্ঘশ্বাসের, কিন্তু আমাদের খুব সৌভাগ্য, এখানেই শেষ হয়নি। আবার মুক্তিযুদ্ধের সরকার এসে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছে, যুদ্ধাপরাধের বিচার করে দেশকে গ্লানিমুক্ত করেছে।

কিন্তু তারপর যখন দেখি সেই একই সরকার হেফাজতে ইসলামের সামনে প্রায় নতজানু হয়ে তাদের সব দাবি মেনে নিচ্ছে, পাঠ্য বই পরিবর্তন করেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, এই দেশ থেকে ভাস্কর্য সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে যাচ্ছে, তখন আমি হিসাব মেলাতে পারি না।

About banglamail

Check Also

যেভাবে ধরা খেলো তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জনের বানোয়াট তথ্য ..

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী বলেছেন, তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবেই ব্রিটেনে বসবাস করছেন। …

One comment

  1. নাস্তিক সুলতানা কামাল এর নাগরিকত্ব বাতিল চাই।
    নাগরিকত্ব বাতিল করে তসলিমা নাসরিন এর মত দেশ থেকে বাহির করে দেয়া হউক।

Leave a Reply