একটি কুকুর ও পরশ্রীকাতর!

বোরহান উদ্দিন রাব্বানী

এক লোকের একটি কুকুর ছিলো। যে পানির উপর দিয়ে অনায়াসে হাটতে পারতো। কিন্তু ডুবত না।
একদিন লোকটি কথাচ্ছলে তার বন্ধুকে বলল, “জানিস বন্ধু! আমার একটা পোষা কুকুর আছে, যে পানির উপর দিয়ে নির্বিঘ্নে হাটতে পারে।”

লোকটির বন্ধু বলল, “তাহলে তো একটু দেখা দরকার।”
যথারীতি একদিন লোকটি তার বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত করলো। খাওয়া পর্ব শেষে লোকটি গুলি করে পুকুরের মধ্যখানে কয়েকটি হাঁস মারল। তারপর পোষা কুকুরটিকে হাত দ্বারা ইশারা করতেই কুকুরটি পানির উপর দিয়ে দৌড়ে গিয়ে হাসগুলো এনে তার সামনে রাখলো।

এমন একটা মিরাকল কাজ দেখে ঐ লোকটির বন্ধুর মধ্যে কোন ভাবান্তর না দেখে লোকটি স্বপ্রণোদিত হয়ে জিজ্ঞাস করলো, ” কি ব্যাপার বন্ধু! তুমি কি আমার কুকুরটার মধ্যে ব্যতিক্রম কোন কিছু লক্ষ্য করোনি?”
বন্ধুটি বললো, ” হুম। সেটাই ভাবছি। তোমার কুকুর তো সাঁতার জানেনা। কোন সময় পানিতে ডুবে মারা যায়, এটাই আশঙ্কার বিষয়!!!”

প্রিয় পাঠক!
আমাদের চারপাশে ঠিক এমন কিছু মানুষ আছে, যারা মানুষের ব্যতিক্রম কোন গুণের মাঝেও দোষ আর খুত খুঁজে বেড়ায়। এরা সাধারণত পরশ্রীকাতর আর হিংসুটে হয়। যার কারণে অন্যের কোন অর্জন কিংবা সফলতা বা কাজের মাঝে এরা ভালো কিছু তো দেখেই না, বরং উৎসাহ প্রদান করার পরিবর্তে নিরুৎসাহিত করে মানুষের ভালো কর্মের স্বীকৃতিও দিতে চায়না। এ শ্রেণির লোকরা আবার খুব নিচু মানসিকতাও পোষণ করে।

যেমন ধরুন, আপনি একটা জামা কিনেছেন কিংবা ভালো কোন কাপড়ের একটা প্যান্ট সেলাই করেছেন। এখন সে লোকটা হয়তো এটা করার সক্ষমতা রাখেনা, কিংবা নিচু মানসিকতার দরুন নিজে এমন দামী একটা জামা বা প্যান্ট সেলাইও করবেন না। কিন্তু, যেই আপনি কিনেছেন কিংবা এনেছেন। তাৎক্ষণিক এরা আপনাকে এমনভাবে হেয় করবে কিংবা ঐ জিনিসটার খারাপ দিকগুলো তুলে ধরবে যে, আপনার মনে হবে যেন এটা করে করে আপনি চরম ভুল করেছেন। অথচ, এরচেয়ে খারাপ দামী জিনিসগুলো কিনে কিংবা করে এরা নিজেদের আত্মতুষ্টির জন্য এমনভাবে প্রচার করা শুরু করবে যে, আপনার মনে হবে ওরাই ঠিক। অর্থ্যাৎ, এরা নিজেদের মতকে আপনার উপর চাপানোর চেষ্টা করবে এবং আপনাকে নিজেদের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে চাইবে।

আমার ছোট্ট অভিজ্ঞতা বলছে, এ পরশ্রীকাতর মানুষগুলো আবার বদমেজাজি আর আক্রমণাত্মকও হয়ে থাকে। কারণ,যুক্তি আর কৌশলে হেরে এরা অস্র হিসেবে বদমেজাজ প্রয়োগ করে অন্যকে ঘায়েল করার হীন চেষ্টা করে। তাদের লক্ষ্য অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করা। তাই সর্বশেষ আক্রমণাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে হলেও নিজেদের কূপমণ্ডূকতা প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালায়।

ধরুণ, আপনারা কয়েকজন মিলে একটা বিষয়ে মজা করছেন। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে একজন অন্যজনকে মজা করে হেয় করছেন। এ শ্রেণির লোকরা আপনাকে হেয় করে হিমালয় জেতার হিংস্র উল্লাস করলেও, যেই আপনি তাকে নিয়ে কোন কথা বলবেন, অমনি তার আসল হিংস্র আর পরশ্রীকাতর বদমেজাজের ভারসাম্যের ছন্দপতন ঘটবে। সবশেষে আপনাকে আক্রমণ করতেও এরা পিছপা হবে না। কারণ, উদ্দেশ্য আপনাকে ছোট করা আর হীনমণ্যতায় ভোগানো।

আবার এ শ্রেণির লোকগুলো যে মুখোশধারী আর ভদ্র চেহারার আড়ালে লম্পট হয়, তাতো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই, এ সব নিচু, হীন আর কুশিক্ষিত চতুষ্পদ জন্তু থেকে সাবধান।

Comments Us On Facebook: