গুম-খুনের মহানায়ক জিয়াউল আহসান পালিয়ে যাওয়ায় মানুষের ক্ষোভ সোশ্যাল মিডিয়াতে

অবশেষে পালানো শুরু করেছে। হাজারো খুন গুমের র‌্যাবের সাবেক কর্নেল জিয়াউল আহসান (পরে ব্রিগেডিয়ার) অবশেষে সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দিয়ে কানাডায় পালিয়েছে। দু’সপ্তাহ আগে নিরবে দেশ ছেড়েছে সে।বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলম, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুলকে গুম করার মূল কারিগর ছিল র‌্যাবের জিয়া। বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদকেও উঠিয়ে নিয়ে কয়েক মাস গুম করে রাখে এই জিয়াই। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হেফাজত গণহত্যার অপারেশন ইনচার্জ ছিল কর্নেল জিয়া, টেলিভিশন সাক্ষাতকারে সে তা স্বীকার করেছে। সৌদি কূটনীতিক খালাফ আলির খুন, সাংবাদিক জুটি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকান্ড এবং নারায়ণগঞ্জ ১১ গণহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে র‌্যাবের এডিজি কর্নেল জিয়াউল হাসান। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপির ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচি বানচাল এবং বিরোধী দল নিধনের মূল হাতিয়ার ছিল জিয়া।

১২ ডিসেম্বর ২০১৩ রাত ১২টায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদকে তুলে নিয়ে যায় র‌্যাবের কর্নেল জিয়া। হাজির করে ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল আকবরের কাছে। আকবর জেনালের এরশাদকে চাপ দেয় জাতীয় পার্টিকে নিয়ে ইলেকশনে থাকার জন্য। অন্যথায় তার অসুবিধা হবে। কিন্তু এরশাদ বেঁকে বসে। একতরফা নির্বাচনে পিঠ বাঁচবে না, এমন কথা বললে জেনারেল আকবর এরশাদের জামার কলার চেপে ধরে গালাগাল দেন। এতে কাজ না হলে কর্নেল জিয়া এরশাদকে কষে থাপ্পড় মারেন। তখন ভয়ে আতঙ্কে এরশাদ কাৎ হয়ে পড়ে যায় এবং মাইল্ড স্ট্রোক করে। পরে মাসাধিক সিএমএইচে আটকে রেখে নির্বাচক নাটক সম্পন্ন করে।

জিয়ার ৭ বছর র‌্যাবে অবস্খানকালে দেশজুড়ে বিরোধী দলের হাজারো নেতাকর্মী নিধন করে জিয়া। গুম ও খুনে সে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল, মাঠের কাজ তত্ত্বাবধান করতো। এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হলে জনদুর্নামের মুখে সেখান থেকে সরিয়ে তাকে প্রথমে ডিজিএফআইতে, পরে এনএসআইতে দেয়া হয়, এবং সর্বশেষে বসানো হয় টেলিফোন আড়ি পাতার সংস্খা এনটিএমসির প্রধান হিসাবে। গত মার্চে জিয়াকে এনটিএমসিতে দেয়ার পরে ব্রিগেডিয়ার জিয়া দেশের গুরুত্বপূর্ন সব টেলিফোন ও অনলাইন যোগাযোগে আড়ি পেতে থাকে, এবং সরকারকে সরবরাহ করে থাকত।

জেনারেল আকবর এবং কর্নেল জিয়াউল অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার যতখানি না অনুগত, তার চেয়েও বেশী ভারতের ‘র’ এর বিশ্বস্ত। এরা প্রয়োজনে ‘র’ এর নির্দেশ পেলে শেখ পরিবারের উপর এমন ঘটনা ঘটাতেও একটুও পিছপা হবে না। র‌্যাবের কর্নেল জিয়া নিজেই শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সকল গোয়েন্দা প্রধান ও সেনাপ্রধানের কথাবার্তা রেকর্ড করে জিম্মায় রাখে, যা বিপদের সময় লাগানো যায়। এসব খবর প্রকাশ হওয়ার পড়লে জিয়াকে নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যায় সরকারের। ফলে ক্রস ফায়ারের ঝুকিতে পড়ে যায় জিয়া।

বিএ-৪০৬০ কর্নেল জিয়াউল আহসান সেনাবাহিনীর পদাতিক অফিসার হিসাবে যোগ দেয়। জন্ম তারিখ ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি। ২০০৯ সাল থেকে ৬ বছর সে র‌্যাবে এ চাকুরী করছে। অতিঃ মহাপরিচালক সর্বশেষ পদ। সে সরাসরি মেজর জেনারেল (অব) তারেক আহমেদ সিদ্দিকির নির্দেশনায় দেশ জুড়ে গুম খুন করেছে। মাঠ পর্যায়ে জিয়া হল আসল সিরিয়াল কিলার। কমান্ডো হলেও চাকুরিতে তার ক্যারিয়ার খুবই নিম্নমানের। নিরস্ত্র নাগরিক হত্যা করায় পারদর্শী জিয়া এই গণহত্যার সফলতায় সে তার ক্যারিয়ারের পদোন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়।

Iqbal Chowdhury

Comments Us On Facebook: